শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. কে নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচারের জন্য ক্ষমা চাইলেন যমুনা টিভি


যমুনা টিভির পক্ষে সিইও ফাহিম আহমাদ,বিশেষ প্রতিনিধি মুহসিনুল হাকিম শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. কে নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচারের জন্য ক্ষমা চাইলেন। তিনি শাইখুল হাদীস রহ. পরিবার, ছাত্র, ভক্তবৃন্দের প্রতি তাদের এ ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এধরনের ভুল করবেন না বলে আশ্বাস্থ করেন। যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ দেশের সকল উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মানুষের নিটও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আজ যমুনা টিভির প্রতিনিধি দলটি শায়খুল হাদীস রহ. পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়সাল, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হাফেজ মাওলানা মোস্তাফিজ রাহমানী,সাংবাদিক মুফতি এনায়েতুল্লাহ প্রমুখ।

মাওলানা মাহফুজুল হক দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন- যেহেতু যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ তাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছেন, দু:খ প্রকাশ করেছেন তাই ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি এবং দেশবাসী, হযরতের ছাত্র ও বক্তদের ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
কপি আল আমিন সংস্থা হাটহাজারী চট্টগ্রাম
Share:

মিজানুর রহমান আজহারী কথন


আজকের বিষয়ঃ  ____<<মাজার পুজারীরা কি আজহারীর বিরুদ্ধে নাকি আহলে হক ওলামায়েকেরামও।
.
আজহারী হুজুরকে নিয়ে আবার লিখতে হবে এটা ভাবিনি।  ফেসবুকটাই আর ভালো লাগেনা। কি হাসির পোস্ট কি ইসলামিক পোস্ট।  😥
.
যায় হোক স্রোতের তালে চললেতো আর হবে না।  আল্লাহ যাকে যে বুঝ দিছেন, সে সেভাবেই চলবে---
.
🌶 ১) সিক্সপ্যাকঃ- নাউজুবিল্লাহ -- আধুনিক বাংলা ইংলিশ শব্দ আমরা  বুঝি ও জানি। রাসুলুল্লাহ সঃ এর দেহ সিক্স প্যাক ছিলো এমন কোন হাদীস নয়।  সিক্স প্যাক তাকে বলে,  পেটে ৪ ভাজ ও বুকে ২ ভাজ বা ভাগ -- এই হলো সিক্স প্যাক -- এটা সাধারনত ব্যায়াম করে বানানো হয়।  
.
উনি যেটাই বুঝাতে চান রাসুলুল্লাহ সঃ এর শানে কথা বলতে হিসেবটা একটু বেশিই করতে হবে।  
সব মানহাজের ওলামা বিষয়টা ভালোভাবে নেন নাই।  আর নবীজির পেটও এমন ছিলো না, যেমনভাবে আজহারি বলেছে। 
.
🌶 ২) খাদিজা রাঃ এর বিষয় ঃ যেটা উনি শব্দচয়ন করেছেন -- তালাক খাইছে, উইডো, ইনটেক্ট শব্দ -- নাউজুবিল্লাহ।  
.
কোন কিছু বোঝানোর ক্ষেত্রে হলেও ভালো নিয়তে হলেও --- উম্মুল মুমিনীন,  রাসুলুল্লাহ সঃ এর প্রথম স্ত্রী,  ফাতিমা রাঃ এর আম্মা --- সম্পর্কে এমন বাচন -- নাজায়েজ। 
এটা ওনার ভুল। আহলে হক সকল মানহাজের ওলামা এটাকে ভালোভাবে নেন নাই।  
.
যদিও আজহারী হুজুর এই বিষয়টি থেকে রুজু করেছেন,  ক্ষমা চেয়েছেন।  
.
🌶৩) তারাবীহঃ-  ২ রাকাতে সারারাত পার করার নতুন থিওরী দিয়ে উম্মাহকে আরো স্বাধীনতা দেওয়া।  এটা ওলামায়েকেরাম ভালোভাবে নেন নাই।  
.
১ম জামানা থেকে আজ পর্যন্ত ২০ রাকাত তারাবীহ।  এরপর আপনি সারারাত পার করেন।  যদিও আহলে হাদীস ৮ রাকাতের কথা বলে।
.
🌶 ৪) মদ খাওয়াঃ-  আলী রাঃ মদ খাওয়া নিয়ে কথাটা সঠিক নয়।  এটা আলী রাঃ এর ব্যাপারে অপবাদ।  আশাকরি এটা থেকেও উনি খুব তাড়াতাড়ি রুজু করবেন।  
.
আলী রাঃ ও উমর রাঃ এর মদ খাওয়ার বিষয় নামাজের আগে এটার কোন সহীহ প্রমান নেই।  আলী রাঃ এর জীবন শুরু থেকেই উত্তম।  উনি খুব অল্প বয়সেই ইসলাম গ্রহন করেন নামাজ ফরজ হওয়ার অনেক আগে।  আর তিনি মদ পান করতেন না।  
.
এটা আজহারীর অন্যায় হয়েছে।  এটা নাজায়েজ।  
সকল মানহাজের ওলামায়েকেরাম ওনার একথা ভালোভাবে নেন নাই।
.
🌶 ৫) আব্বা হালাঃ- উমর রাঃ এর ছেলের ঘটনা --- আব্বা হালা আমি মদ খায় নাই।  এই যে আজহারীর উক্তি।  হালা শব্দটাকি পুরান ঢাকা থেকে মদীনায় ট্রান্সফার হয়েছিলো তখন????? । 
.
এটা ওনার বলা জায়েজ হয় নাই।  অতিরঞ্জিত।  মানুষকে হাসানোর জন্য জায়েজ নাই।  
সকল মানহাজের ওলামায়েকেরাম এটা ভালো ভাবে নেয় নাই।
.
🌶৬) হালা বা সালাঃ-   নাউজুবিল্লাহ।  আল্লাহ হেফাজত করেন।  আল্লাহ,ও  আল্লাহর রাসুলের শানে --- এই শব্দ --- পুরান ঢাকার লোক বলেনাই,  বলেনা,  বলবেওনা --- আমি চ্যালেন্জ করলাম।  আছে কেউ চ্যালেন্জ গ্রহন করার???????¿???
এটা মারাত্বক অন্যায় --- কুফুরি কথা।  
.
আহলে হক সকল মানহাজের বা মাজহাবের ওলামায়েকেরাম এই বুলিকে ভালোভাবে নেন নাই।
.
🌶 ৭) টেস্ট ও টি২০ ইনিংস ক্রিকেটঃ- 
রাসুলুল্লাহ সঃ ও সাহাবা আজমাইনদের প্রথম ১৫ বছর প্রায় কষ্ট আর মেহনতকে, জীবন দেওয়াকে,  মার খাওয়াকে --- নাজায়েজ খেলা ক্রিকেটের টেস্ট খেলার সাথে তুলনা,  ঠ্যাক দেয়া। 
এবং মাদানী কষ্ট আর সাহাবাদের কুরবানী,  হাজার হাজার লক্ষ সাহাবীর জীনব দেওয়ার সময় ও ইসলামের প্রসারের সময়টাকে টি২০ ইনিংস বলা ----
.
আজহারী সাহেব যাই বুঝানোর জন্য বলুন না কেন????  
এটা নাজায়েজ।  আহলে হক সকল মাজহাবের আলেম শায়েখ কেউ এই বক্তব্যের তুলনাকে ভালোভাবে গ্রহন করেন নাই।  
.
যায় হোক লিখলে আরো বড় হবে তাই আর বাড়াবোনা।  
.
🌶🌶 জেনারেলদের বলবো,  আপনি হয়তো জামাত ইসলাম বা মওদুদবাদে বিশ্বাসী হওয়ার কারনে এগুলো সাপোর্ট করছেন।  
আপনি নন মাহরাম হওয়ার পরও আজহারীর চেহারা খুব ভালোলাগে,  হতে পারে তার ইংরেজী বলা ও কথা বলা,  মডার্ন ও মডারেট ইসলাম ভালো লাগে।  
.
কিন্তু এত কিছুর পরও আজহারীর এই ভুলগুলো সাপোর্ট করার সুজোগ নাই।  ইসলাম ব্যক্তিপুজা সাপোর্ট করেনা।  আপনার পীর, আপনার শায়েখ, আপনার হুজুরের কথা যদি আপনার ভালো লাগে,  উপকারী মনে হয় -- তাকে ভালোবাসবেন তার জন্য দোয়া করবেন -- এটাই স্বাভাবিক।  কিন্তু অন্ধের মতো না।  
.
আজহারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু মাজারপুজারী বা বিদাতিদের নয় -- আলেমদেরও।  শুধু মাজার পুজারী নয় আলেমদেরও।  তাই ওনার উচিত আরো সতর্ক হয়ে ওয়াজ করা। 
.
মাজার পুজারীর কেউ যদি নামাজ পড়া, রোজা রাখা এগুলো ফরজ মনে করে -- তাহলে আপনি কি নামাজ রোজা ছেড়ে দিবেন??????
 
অনেক মাজার বিদাতি ইহুদি খ্রিষ্টান্দের চক্রান্তের বিরুদ্ধে কথা বলে,  তাবলীগ দেখতে পারেনা,  সব শায়েখদের বিরোধিতা করে --- তো কি করবেন ---???  মাজার পুজারির সাথে মিললেই সেটা কথা মানা যাবেনা +-- কুরআন হাদীসে কোথাও এমন হুকুম আছে নাকি????? 
.
🍕🍕 বার বার সবাইকে মাজার পুজারী বলছেন কেন? 
বারবার সবাইকে মাজার পুজারী বলছেন কেন???  
.
এত সাহস কোথায় পান,  চোরের মায়ের বড় গলার মতো।  
.
একজন লিখলো,  আপনি কপি করছেন ,  কারনটা কি ¿?? কাদেরকে মাজারপুজারী বলছেন??????  why?? 
.
#শেষ কথা,  
.
আমরা কি চাই,  যে আজহারী সাহেব ওয়াজ না করুক।  নাহ কখনো না --- এটা আমরা চাইনা,  আমরা চাই উনি ওনার ভুলগুলো সংশোধন করে ভবিষ্যতে আরো সতর্কতার সাথে ওয়াজ করবেন।  উনি এদেশের জনপ্রিয় বক্তা। ওনার ওয়াজ ভালো লাগে। ওনাকে কোনো ইফতা বোর্ড বা গ্রহমযোগ্য মুফতী কাফের বলছে বা ফাতওয়া দিছে -- এমন শুনি নাই।  
.
যারা ওনার ভুলের পক্ষে সাফাইগেয়ে,  ভুলকে স্বীকার না করে, অতিভক্ত সেজে,  উনি যা বলেছে তাঠিক এমন পোস্ট করে, , ওনার কথা বুঝতে হলে উচ্চ শিক্ষিত হতে হবে,  হ্যানত্যান বলছেন-- সমস্ত মুসলিম ও আলেমকে মাজারপুজারী ট্যাগ দিচ্ছেন তারা তাওবা করুন।  এগুলো বাদ দিন।  আবার ভাবুন।  
আমরা কারো বিপক্ষে না। 
.
আমাদেরকে গালি দিয়ে কোন লাভ হবে না।  
আর যারা আজহারীর সাথে ব্যক্তিগত কোন কারনে শত্রুতা বা বিরোধিতা রাখে তাদের সাথে আমাদের সখ্যতা নাই।  
.
আল্লাহ আমাদের কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী আলেমদের নির্দেশনা মত সব মুসলিমকে এক হয়ে চলার তৌফিক দান করেন।  
.
আমীন
Share:

ভন্ড পীরদের কবলে পড়ে ঈমান হারাচ্ছে বহু মুসলিম নারী পুরুষ!


আমাদের সমাজ আজ বিদায়াতে ভরপুর । সঠিক ইসলাম জানার মাধ্যমে আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হবে , যা এখন বাংলাদেশের মুসলিমদের জন্য অতীব প্রয়োজন । বাংলাদেশে এখন অনেক ভণ্ড এবং বিদা’তি পীর রয়েছে যারা আমাদের সঠিক ইসলাম থেকে শধুমাত্র দুরে সরিয়ে রাখছে না বরং আমাদের দেশের সহজ-সরল মানুসগুলোকে মাজারে-পীরের আসরে অনৈতিক কাজে প্রলুব্ধ করে বিদা’তি কর্মে লিপ্ত করছে।এখন তা সমাজে ভাইরাস আকার ধারন করেছে। কুরআন হাদিসের কোথাও রাসুল (সাঃ)ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির নির্দেশ সর্বাবস্থায় বিনাপ্রশ্নে মেনে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি ।

আলেমগন-মুহাদ্দিস-ইমামগনকে মূল্যায়ন করতে হবে শুধুমাত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে । নিজের মন, আবেগ বা অন্য কারো মতামত দিয়ে নয়। আল্লাহ কুরআনে বলেন : “ না, তোমার মালিকের শপথ, এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের যাবতীয় মতবিরোধের ফয়সালায় তোমাকে (শর্তহীনভাবে) বিচারক মেনে নেবে, অতপর তুমি যা ফয়সালা করবে সে ব্যাপারে তাদের মনে আর কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবে না, বরং তোমার সিদ্ধান্ত তারা সর্বান্তকরণে মেনে নেবে।( সূরা নিসা:৬৫)

আল্লাহ পাক আরেক জায়গাতে বলেন,
”যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে,আল্লাহ তায়ালা তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন,যার নিম্নদেশে ঝর্ণা ধারাসমূহ প্রবাহমান থাকবে। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেবে আল্লাহ তাকে মর্মান্তিক আযাব দেবেন। (সুরা ফাতহ:১৭)

এমন যদি হয় কেউ দীনের একটা মাসাআলা বুঝছে না তখন কোন আলেম থেকে তা জেনে নেওয়ার পর কুরান এবং হাদীস থেকে তার রেফেরেন্স মিলিয়ে নিতে হবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ”তোমরা যদি না জেনে থাক তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর।”(সুরা নাহল:৪৩)

আলেমদের কাছ থেকে জানার পর রেফেরেন্স মিলিয়ে যখন দেখা যাবে তা সহীহ তখন তা আমল করবেন । আর যখন দেখা যাবে তা সহীহ নয় তখন তা আমল করা যাবে না। এভাবেই একজন ব্যক্তি বুঝতে পারবে কে সত্তিকার অর্থে “আলেম” এবং কে “ভণ্ড” ।অথচ আমরা তা না করে ভণ্ড পীর-মাজার পুজারীদের কথা শুনে নিজেকে বিদা’তি কর্মে লিপ্ত করি।

আমরা আমাদের বিবেগকে একটু খাটিয়ে ভাবলেই দেখি যে, রাসুল(সঃ) কে আল্লাহ দুনিয়ায় সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়েছিলেন । অথচ সেই রাসুল(সঃ) এর জীবন ও কর্ম এর সাথে এই সমস্ত ভণ্ড পীরগুলোর চরিত্রের কোন মিল নেই। কখনও ভেবে দেখেছেন কি রাসুল(সঃ) পরিচালিত জীবন এবং এই সকল ভণ্ডপীরদের পরিচালিত জীবনের মধ্যে এত তফাৎ কেন?এদের বিলাসিতা জীবন পরিচালন কি আপানার মনে কোন প্রশ্নের জন্ম দেয় না ?

এরা কতোটুকু সহিহভাবে কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণ করছে ? আপনি কখনও কুরআন-হাদীস দিয়ে তা মিলিয়ে দেখেছেন কি ? এইসকল পীর কি আপনাকে জান্নাত দিতে পারে,নাকি আল্লাহর দয়া ও রাসুল(সঃ)এর সহিহ সুন্নাত এবং পরিপূর্ণ জীবন বিধান ‘আল-কুরাআন” আপনাকে জান্নাত দিবে ? অবশ্যই পরিপূর্ণ জীবন বিধান ‘আল-কুরাআন” ই আপনাকে জান্নাত দিবে।

মাজারে সিজদা দেওয়া , গানের আসর জমিয়ে গাঁজাখানার আড্ডা এগুলো রাসুল(সঃ) এর সুন্নাহ’র মধ্যে পড়ে না।এগুলো করা শিরিক গুনাহ। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,”সাবধান ! তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের কবর সমূহ মসজিদ (সিজদার স্থান) হিসেবে গন্য করতো। তবে তোমরা কিন্তু কবর সমূহকে সিজদার স্থান বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদের নিষেধ করে যাচ্ছি” । [মুসলিম, ১০৭৭]

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন,”তোমরা স্বীয় ঘরকে কবর বানিয়োনা। (অর্থাৎ কবরের ন্যায় ইবাদত-নামায, তেলাওয়াত ও যিকির ইত্যাদি বিহীন করনা।) এবং আমার কবরে উৎসব করোনা।(অর্থাৎ বার্ষিক, মাসিক বা সাপ্তাহিক কোন আসরের আয়োজন করনা। তবে হ্যাঁ আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। নিশ্চয় তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দুরূদ আমার নিকট পৌঁছে থাকে।(আল্লাহ তায়ালার ফেরেশতারা পৌঁছিয়ে দেন।)”
(সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং-২০৪৪/৪০)

কবরের সামনে বাতি প্রজ্জ্বলন করাকে হারাম সাব্যস্ত করে রাসূলে কারীম সাঃ ইরশাদ করেন-“হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী সাঃ অভিশপ্ত করেছেন (বেপর্দা) কবর যিয়ারতকারীনী মহিলাদের উপর, এবং সেসব লোকদের উপর যারা কবরকে মসজিদ বানায় (কবরকে সেজদা করে) এবং সেখানে বাতি প্রজ্জ্বলিত করে।(জামি তিরমীযী-২/১৩৬)

আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মান্নত বা কুরবানী করা যায়না। কারণ মান্নত ও কুরবানী হচ্ছে এক মাত্র অাল্লাহর জন্য ৷
Share:

ঈদে মিলাদুন্নবী শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম বিদআত


এ কথা সর্বজন বিদিত যে, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ স. এর প্রতি গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ ও কর্মকান্ডের আলোচনার সাথে সাথে অনুসরনীয় বিষয়ে তাঁর অনুসরণ আল্লাহ তায়ালার রহমত প্রাপ্তির অন্যতম উপায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। তবে তা আমাদেরকে অবশ্যই সেই পদ্ধতিতে করতে হবে, যে পদ্ধতি স্বয়ং নবী করীম সাঃ তার সাহাবাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। যা বিভিন্ন হাদিস ও সীরাতের কিতাব সমূহে বর্ণিত রয়েছে।

 হাদিস শাস্ত্র এমন একটি প্রমাণ সম্ভার যাতে ধর্মীয় সকল বিষয় সহ মানব জীবনের ছোট বড় সকল কাজ করার শিক্ষা রয়েছে। এমনকি পেশাব, পায়খানা করার পদ্ধতি ও দিক নির্দেশনাও রয়েছে।

 রাসূল স. এর জীবন চরিত নিয়ে আলোচনা করা এবং তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের পদ্ধতিও হাদিস, আসার তথা সাহাবাগণের উক্তি ও কর্ম পদ্ধতি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আর হাদিস শরিফে এর প্রমাণ এভাবে পাওয়া যায় যে, দিন তারিখ ও সময় নির্ধারণ না করে এবং আনুষ্ঠিকতার বাধ্যবাধকতা ব্যতিরেকে কখনো কখনো রাসূল স. এর জীবনী আলোচনা করা এবং সর্বদা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা। সুতরাং এ সম্পর্কে মনগড়া ভিত্তিহীন কোনো পদ্ধতি আবিস্কার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অবশ্য বর্জনীয় বিষয়। 

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,আমাদের দ্বীনের মাঝে যে ব্যক্তি নতুন বিষয় আবিস্কার করে যা তাতে নেই তাহলে তা পরিত্যাজ্য। 

সহীহ বুখারী, হাদিস নং-২৫৫০,
 সহীহ মুসলিম-৪৫৮৯৷

এই হাদিসে কয়েকটি শর্তে বিদআত ও নব আবিস্কৃত বস্তুকে নবীজি সাঃ পরিত্যাজ্য বলেছেন। যেমন, 

▶১৷ সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। যার কোন প্রমাণ নবীযুগে বা সাহাবা যুগে নেই, এমন বিষয় হওয়া।

▶২৷ দ্বীনী বিষয় হওয়া। সুতরাং দ্বীনী বিষয় ছাড়া যত নতুন বিষয়ই আবিস্কারই হোকনা কেন তা বিদআত নয়৷ যেমন মোবাইল, প্লেইন, নতুন নতুন আসবাব ইত্যাদি। এসব বিদআত নয়। কারণ এসব দ্বীনী বিষয় নয়। 

▶৩৷ দ্বীনের 'মাঝে' নতুন আবিস্কার হওয়া । দ্বীনের 'জন্য' হলে সমস্যা নেই। কারণ দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার মানে হল ইহা সওয়াবের কাজ, যেমন সুন্নাত, ওয়াজিব ইত্যাদী। আর দ্বীনের জন্য হলে সেটা মূলত সওয়াবের কাজ নয়, বরং সওয়াবের কাজের সহায়ক। যেমন মাদরাসা শিক্ষার একাডেমিক পদ্ধতি নববী যুগে ছিলনা। পরবর্তীতে আবিস্কার করা হয়েছে। এই একাডেমিক পদ্ধতিটি দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার নয়, বরং দ্বীনী কাজের জন্য সহায়ক হিসেবে আবিস্কার করা  হয়েছে। অর্থাৎ দ্বীন শিখার সহায়ক। আর দ্বীন শিখাটা সওয়াবের কাজ। কিন্তু সিষ্টেমটা মূলত সওয়াবের কাজ নয় বরং সহায়ক। মিলাদ কিয়াম বিদআত। কারণ এটি নতুন আবিস্কৃত। নববী যুগ বা সাহাবা যুগে ছিল না। সেই সাথে এটিকে দ্বীন মনে করা হয়, সওয়াবের কাজ মনে করা হয় তাই এটি বিদআত।

তাই রাসূল স. এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করা সাওয়াব ও বরকতের কাজ হলেও শরিয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ লোকেরা ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ নামে ‍নির্দিষ্ট দিনে, বিশেষ পদ্ধতিতে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, তা কোরআন-হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণ থেকে প্রমাণিত না হওয়ায় তা অবশ্য পরিত্যাজ্য এবং জঘন্য বিদয়াত। কেননা, সাহাবা, তাবেঈনগণই ছিলেন প্রকৃত নবী প্রেমীক ও তাঁর আদর্শের যথাযথ অনুসারী৷ 

ইসলামে বাৎসরিক দুই ঈদ বহু হাদীস দ্বারা প্রমানি৷ যা সাহাবাদের যুগ থেকে পালিত হয়ে আসছে৷ এছাড়া তৃতীয় কোন ঈদ ইসলামে প্রমানিত নয়৷ 

রবিউল আউয়াল মাসে পালিত প্রচলিত ঈদে মীলাদুন্নবী স. ৬০৪ হিজরীতে ইরাকের মুসিল শহরের বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফার উদ্দীন কুকুরী ও তার এক দরবারী আলেম আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া এ দুজন মিলে আবিস্কার করে। এরা উভয়ে দ্বীনের ব্যাপারে খুবই উদাসীন এবং ফাসিক ছিলো। পরবর্তীতে অজ্ঞ ও মূর্খ লোকদের দ্বারা আরো অনেক শরিয়ত বিরোধী কর্মকান্ড এতে অনুপ্রবেশ করে। যার সব কিছুই কোরআন- হাদিস, ইজমা-কিয়াস তথা শরিয়তের মৌলিক সকল দলীলেরই পরিপন্থী। এসকল কারণেই সব যুগের হক্কানী আলেমগণ এক বাক্যে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী, মিসিল জোশনে জুলুস ও মিলাদ মাহফিলকে নাজায়েয হারাম ও বিদআত বলেই ফত্ওয়া দিয়ে থাকেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী দাবীধারগন তার স্বপক্ষে নিম্নেবর্নিত আয়াত ও হাদীসকে দলিল হিসেবে  উল্যেখ করে থাকে৷ 

⚫১৷ সুরা আলে ইমরানের ১০৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,

  ”اذكروا ﻧﻌﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻜﻢ“ 

" অর্থাৎ তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর;

⚫২৷ আল্লাহ পাক সুরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতে এরশাদ করেন,
”ﻗﻝ ﺑﻔﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺑﺮﺣﻤﺘﻪ ﻓﺒﺬﺍﻟﻚ
ﻓﻠﻴﻔﺮﺣﻮﺍ ﻫﻮ ﺧﻴﺮﻣﻤﺎ ﻳﺠﻤﻌﻮﻥ“

অর্থাৎ(হে নবী)  আপনি বলে দিন‘এ হল তাঁরই অনুগ্রহ ও করুণায়; সুতরাং এ নিয়েই তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত এটা তারা যা (পার্থিব সম্পদ) সঞ্চয় করছে তা হতে অধিক উত্তম।

”ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰ ﻗَﺘَﺪَﺓَ ﺍﻻَﻧْﺼﺎَﺭِﻯ ﺭَﺿِﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨﻪُ ﺍَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ سئل ﻋَﻦْ ﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡ ﺍﻻِﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻗَاﻞَ
ﺫَﺍﻙَ ﻳَﻮْﻡٌ ﻭُﻟِﺪْﺕُ ﻓِﻴْﻪِ ﺑُﻌِﺜْﺖُ ﺍَﻭْﺍُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻓِﻴْﻪ“ِ -

অর্থাৎ হজরত আবু কাতাদা ( রা ) থেকে বর্নিত, নবীজি সাঃ কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন , এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে , এই দিনে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এই দিনেই আমার উপর নাজিল হয়েছে ৷ 
হাদিস শরীফে আরো এরশাদ
হয়েছে "

”ﻋَﻦْ ﺍِﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﺍَﻧَّﻪٗﻛَﺎﻥَ ﻳُﺤَﺪِّﺙُ ﺫَﺍﺕَ
ﻳَﻮْﻡٍ ﻓِﻰْ ﺑَﻴْﺘِﻪٖ ﻭَﻗَﺎﺋِﻊَﻭِﻻﺩَﺗٖﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻟِﻘَﻮْﻡٍ ،
ﻓَﻴَﺴْﺘَﺒْﺸِﺮُﻭْﻥَ ﻭَﻳُﺤَﻤِّﺪُﻭْﻥَ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﻳُﺼَﻠُّﻮْﻥَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﺎِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀَﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺣَﻠَّﺖْﻟَﻜُﻢْ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻰْ“

অর্থাৎ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( রা ) নিজেই বর্ণনা করেন , একদা তিনি উনার গৃহে সাহাবাদের নিয়ে  হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের ইতিহাস আলোচনা করতেছিলেন৷ সাহাবাগন শুনে আনন্দিত হয়ে আল্লাহর প্রশংসা করছেন, নবীজির উপর দরুদ পাঠ করছেন৷ অতপর যখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন,  বললেন , তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত হালাল হয়ে গেছে ৷ 

এধরনের আয়াত ও হাদীস থেকে তারা ঈদে মিলাদুন্নবী প্রমান করতে চায়৷ অথচ ইহা স্পষ্ট ভ্রষ্টতা বৈকিছু নয়৷ কারন সাহাবা তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী থেকে নিয় প্রায় সাত শত বৎসর পর্যন্ত এসব আয়াত, হাদীস থেকে কেউ মিলাদুন্নবী বুঝেন নি৷ আজকাল তথাকথি নামধারী সুন্নিরা মিলাদুন্নবী প্রমান করতে চায়৷ ইহা কত বড় মুর্খতা হতে পারে আন্দাজ করুন৷ 

ছয়শতকের পুর্বের কোন মুফাচ্ছীর, পরে কোন হক্কানী মুফাচ্ছীর এসব আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কিতাবে  ঈদে মিলাদুন্নবীর কথা বলেছেন,  এমন প্রমান সারা জীবন চেষ্টা করলেও কোন ব্যক্তি দেখাতে পারবে না৷ 

এক নং আয়াতে মানব জাতির প্রতি আল্লাহ প্রদত্ব সার্বিক নিয়ামতকে স্বরন করার কথা বলা হয়েছে৷ এখানে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা, মিসিল করা  কিভাবে প্রমান হয়! 

দ্বিতীয় আয়াতে সকল মুফচ্ছীরগন ফযল ও নিয়ামতের ব্যাখ্যা করেছেন কোরআন দিয়ে, কেউ কেউ নবীজির কথাও উল্যেখ করেছেন৷ নবীজি সাঃ এর আগমন এবং স্বয়ং নবীজি সাঃ উম্মতের জন্য নিয়ামত ৷ তাই তার শুকরিয়া ও তার জীবন চরিত আলোচনা করে অনুসর করা জরুরী৷ এবং তা অবশ্যই নবীজি যেভাবে বলেছেন সাহাবাগন যেভাবে করেছেন সেভাবে হতে হবে৷ মনগড়া বানানো পদ্ধতি অবলম্ভন করলে নবীজির ভালবাসা তো দূরের কথা নবীজির চরম শত্রুতে পরিনত হবে৷ 

প্রথম হাদীসে সোমবারে রোজা পালনের কথা উল্যেখ আছে, কারন নবীজি সাঃ সোমবারে জন্মগ্রহন করেছেন৷ এতে ঈদ উজ্জাপন করার কথা কোথায় রয়েছে? বরং রোজা তো সরাসরি ঈদের বিপরিত৷ তাই দুই ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ৷ তোমরা কেমন নবীর আশেক হলে নবীজি যেদিন রোজা রেখেছে সেদিন তোমরা ঈদ উজ্জাপন করো! যা সম্পুর্ন রোজার বিপরিত৷ 

দ্বিতীয় হাদীসে নবীজির জন্মের ঘটনাবলি আলেচনার কথা উল্যেখ করা হয়েছে৷ আমরা তো এ আলেচনা করা অত্যান্ত ফযিলতের বিষয় মনে করি৷ এবং আলোচনা করি৷ কিন্তু এ হীদীস থেকে তো ঈদ প্রমানিত হয় না৷ মিসিল, জোশনে জুলিস প্রমানিত হয় না৷ সাহাবা তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীগন যেভাবে নবীজি সাঃ এর জন্ম বিত্যান্ত আলোচনা করেছেন, যেভাবে আমল করেছেন, তা করা অত্যান্ত ফযীলতপুর্ন ৷ তা বাদ দিয়ে মনগড়া পদ্ধতি অবলম্বন করা সরাসরি ইসলামে বর্ধিত করা৷ যা বিদআত,  নাজায়েয ও হারাম৷ 

অতএব বর্তমান দেশজোরে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী যা সম্পুর্ন শরীয়ত পরিপন্থী, ইসলামে নতুন আবিস্কৃত আমল৷ যা সম্পুর্ন হারাম৷ প্রত্যেকের জন্য পরিহার করা অপরিহার্য৷ 

তাই প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে উক্ত ইমাম সাহেবের বক্তব্য ভ্রান্তিপূর্ণ। বিশেষ করে ঈদে মীলাদুন্নবীর অস্বীকারকারীদের কাফের বলা চরম ধৃষ্টতা ও কুরুচিপূর্ণ। এজন্য তার তাওবা করা আবশ্যক।

 রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি কাউকে কাফের বললে দুইজনের একজন কাফের হবে। হয়তো যাকে কাফের বলেছে সে প্রকৃতপক্ষ্যে কাফের হবে। নতুবা কাফের সম্বোধনকারিই কাফের হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম) 

আরো দলিলঃ 

ﻛﻤﺎ ﺃﺧﺮﺝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻰ ﺻﺤﻴﺤﻪ : ‏( 2/ 959 ‏)
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ‏( ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﻓﻲ ﺃﻣﺮﻧﺎ ﻫﺬﺍ ﻣﺎ ﻟﻴﺲ ﻓﻴﻪ ﻓﻬﻮ
ﺭﺩ ‏) .
ﻭﻓﻰ ﻋﻤﺪﺓ ﺍﻟﻘﺎﺭﻱ ﺷﺮﺡ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ : ‏( 8/ 396 ‏)
ﻭﺍﻟﺒﺪﻋﺔ ﻟﻐﺔ ﻛﻞ ﺷﻲﺀ ﻋﻤﻞ ﻋﻠﻲ ﻏﻴﺮ ﻣﺜﺎﻝ ﺳﺎﺑﻖ ﻭﺷﺮﻋﺎ
ﺇﺣﺪﺍﺙ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺃﺻﻞ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ .
ﻭﻓﻰ ﻣﺮﻋﺎﺓ ﺍﻟﻤﻔﺎﺗﻴﺢ ﺷﺮﺡ ﻣﺸﻜﺎﺓ ﺍﻟﻤﺼﺎﺑﻴﺢ : ‏( 1/ 395 ‏)
ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ، ﻭﻫﻲ ﻟﻐﺔ : ﻣﺄﺧﻮﺫﺓ ﻣﻦ ﺍﻻﺑﺘﺪﺍﻉ، ﻭﻫﻮ ﺍﻻﺧﺘﺮﺍﻉ ﻋﻠﻰ
ﻏﻴﺮ ﻣﺜﺎﻝ ﺳﺎﺑﻖ، ﻭﺷﺮﻋﺎً : ﺍﻟﻤﺤﺪﺙ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻳﻦ، ﺃﻱ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ
ﻋﻠﻴﻪ ﺃﻣﺮﻩ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻭﻻ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ، ﺃﻱ ﻟﻴﺲ
ﻋﻠﻴﻪ ﺃﺛﺎﺭﺓ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻻ ﻣﻦ ﺳﻨﺔ ﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﻻ ﻓﻌﻠﻪ ﺃﻭ
ﺃﻣﺮ ﺑﻪ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﻳﻌﺘﻘﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻳﻦ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻌﺮﻑ ﺍﻟﺸﺬﻱ ﻟﻠﻜﺸﻤﻴﺮﻱ : ‏( 2/ 82 ‏)
ﺍﻟﻤﻮﻟﻮﺩ ﺍﻟﺬﻱ ﺷﺎﻉ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﻭﺃﺣﺪﺛﻪ ﺻﻮﻓﻲ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ
ﺳﻠﻄﺎﻥ ﺇﺭﺑﻞ ﺳﻨﺔ ‏( 600 ‏) ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺃﺻﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ
ﺍﻟﻐﺮﺍﺀ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ : ‏( ﺹ : 21 ‏)
ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻋﻠﻲ ﻣﺤﻔﻮﻅ : ” ﻭﺃﻭﻝ ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻮﻱ
ﺑﻤﺪﻳﻨﺔ ﺇﺭﺑﻞ ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺍﻟﻤﻈﻔﺮ ﺃﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﻓﻲ ﺍﻟﻘﺮﻥ ﺍﻟﺴﺎﺑﻊ ، ﻭﻗﺪ
ﺍﺳﺘﻤﺮ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺑﺎﻟﻤﻮﺍﻟﺪ ﺇﻟﻰ ﻳﻮﻣﻨﺎ ﻫﺬﺍ ، ﻭﺗﻮﺳﻊ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻓﻴﻬﺎ
ﻭﺍﺑﺘﺪﻋﻮﺍ ﺑﻜﻞ ﻣﺎ ﺗﻬﻮﺍﻩ ﺃﻧﻔﺴﻬﻢ ﻭﺗﻮﺣﻴﻪ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﺷﻴﺎﻃﻴﻦ
ﺍﻹﻧﺲ ﻭﺍﻟﺠﻦ ، ﻭﻻ ﻧﺰﺍﻉ ﻓﻲ ﺃﻧﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ .
ﻭﻓﻰ ﺷﺬﺭﺍﺕ ﺍﻟﺬﻫﺐ – ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻌﻤﺎﺩ : ‏( 5/ 138 ‏)
ﻭﺃﻣﺎ ﺍﺣﺘﻔﺎﻟﻪ ﺑﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻮﺻﻒ ﻳﻘﺼﺮ ﻋﻦ ﺍﻹﺣﺎﻃﺔ ﻛﺎﻥ
ﻳﻌﻤﻠﻪ ﺳﻨﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻣﻦ ﻣﻦ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ ﻭﺳﻨﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ
ﻋﺸﺮ ﻷﺟﻞ ﺍﻻﺧﺘﻼﻑ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻴﻪ ﻓﺈﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺑﻴﻮﻣﻴﻦ
ﺃﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﺍﻹﺑﻞ ﻭﺍﻟﺒﻘﺮ ﻭﺍﻟﻐﻨﻢ ﺷﻴﺌﺎ ﻛﺜﻴﺮﺍ ﻳﺰﻳﺪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻮﺻﻒ
ﻭﺯﻓﻬﺎ ﺑﺠﻤﻴﻊ ﻣﺎ ﻋﻨﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﺒﻮﻝ ﻭﺍﻟﻤﻐﺎﻧﻲ ﻭﺍﻟﻤﻼﻫﻲ ﺣﺘﻰ
ﻳﺄﺗﻲ ﺑﻬﺎ ﺍﻟﻤﻴﺪﺍﻥ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻤﺪﺧﻞ ﻹﺑﻦ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﺤﺎﺝ : ‏( 2/3 ‏)
ﻭﻣﻦ ﺟﻤﻠﺔ ﻣﺎ ﺍﺣﺪﺛﻮﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ ﻣﻊ ﺍﻋﺘﻘﺎﺩﻫﻢ ﺃﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ
ﺍﻛﺒﺮ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺍﺕ ﻭﺍﻇﻬﺎﺭ ﺍﻟﺸﻌﺎﺋﺮ ﻣﺎ ﻳﻔﻌﻠﻮﻧﻪ ﻓﻰ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ
ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻭﻗﺪ ﺍﺣﺘﻮﻯ ﻋﻠﻰ ﺑﺪﻉ ﻭﻣﺤﺮﻣﺎﺕ ﺟﻤﻠﺔ .
ﻭﻓﻰ ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﻷﺯﻫﺮ : ‏( 6/ 237 ‏)
ﻷﻥ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﻤﻮﺍﻟﺪ ﺑﺎﻟﺼﻔﺔ ﺍﻟﺘﻰ ﻳﻌﻤﻠﻬﺎ ﺍﻵﻥ ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻪ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ
ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻭﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺏ ﻟﻔﻌﻠﻮﻩ .
ﻭﻳﺮﺍﺟﻊ ﺃﻳﻀﺎ :
ﻓﺘﺎﻭﻯ ﻣﺤﻤﻮﺩﻳﻪ : 5/377 , ﺍﺷﺮﻑ ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ : 1/426

আল্লাহ'তাআলা আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন। #আমিন।
Share:

নবম রাত

 : সুহাইল কামরায় প্রবেশ করা মাত্রই প্রশ্ন! আজ কি হলো? এত দেরীতে বাসায় ফিরলেন যে! সুহাইল: বাস থাকুক ৷ দুনিয়াতে শুধু একা আপনিই পাগল নন, আরো পাগল আছে ৷ সুহাইল : ওই সেকান্দরের অবস্থা দেখেছেন কি? দুলহান : কোন সেকান্দর? সুহাইল : আরে আপনার ভাই আর কিং ঐ মূর্থত ইমামে আযম আবু হানীফা রহ, এর উপর অভিযোগ করে ৷ যদি আপনার সাথে সম্পর্ক না হতো তবে আজকে আমি তার দাত ভেঙ্গে দিতাম ৷ দুলহান : এত রাগ সুহাইল : রাগ তো আসারই কথা ৷ যখন সেই অভিযোগ এমন লোক হতে হয় যে আরবী ভাষার আলিফ, বাও জানে না৷ ইস্তিঞ্জা জানে না; আকৃতি ইয়াহুদীদের মত ৷ পোষাক খৃষ্টানদের মত ৷ মুসাফাহা করে এমনি, যেমনি আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পাকিস্তানের সদর রফীক তারাড় এর সাথে করেছিল ৷ নামও লিখতে জানে না! দুলহান : আশ্চর্য হয়ে---- আমার ভাই কি নামও লিখতে জানে না! সুহাইল : হা! আমি বলেছিলাম yee 6 pals লিখতে ৷ আপনার ভাই ye 6 ques লিখেছে ; মাহরাম ও মুহরিমের পার্থক্য জানে না সারা দিন নাপাক বাহিনীর লম্পট ছেলেদের সাথে ঘুরে বেড়ায় ৷ ফরহাত হাশেষীর প্রশংসা করে এমনি ভাবে মনে হয় যেন তার মা লাগে ৷ অথচ সেও আপনাদের ন্যায় মূর্থ বরং গণ্ড মূর্থ | কুরআন শরীফের আদব কি কি? তাও জানে না ৷ দুলহান : হয়েছে কি ৷ (এবং একটু আদর করে তার হাত ধরল |) সুহাইল : ছাড়ুন আমাকে ৷ আমার মেহনতের বদৌলতে আপনার হেদায়াত মিলেছে এটাই যথেষ্ট | আপনার পুরো গোষ্ঠী জাহান্নামে যাক তাদেরকে বলে দিবেন, আমার সাথে যেন বহছ না করে ৷ আর যদি বহছ করতেই হয় তবে যেন আগে ইলম শিখে নেয় ৷ দেড় হাজার কিতাবের মধ্যে হাদীসের ইলম ছড়ানো ছিটানো আছে ৷ আগে যেন এগুলো দেখে ৷ 
শুধু বুখারীর নাম নিলে কাম হবে না! কারণ বুখারী মোতাবেক আপনারা নিজেরাই আমল করেন না ! দুলহান : সেকান্দর কী বলেছে, আপনি যে একেবারে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে যাচ্ছেন! সুহাইল : শুনুন তার প্রলাপ! সে বলে ইমাম আব হানীফা রহ, নাকি আরবী জানতেন না৷ তার হাদীসের ইলম কম ছিল ৷ হালালকে হারাম আবার হারামকে হালাল সাব্যস্ত করতেন! তার ফিকহে নাপাক ও গান্দা মাসআলা লিখিত ৷: তার সাথে তো তার শাগরেদগণও মতবিরোধ করেছেন ৷ ফিকহের কিভাব হেদায়া ও কুদূরীর কোন সনদ নেই ৷ আবু হানীফা রহ, বিবির হক আদায় করেনি ৷ আবু হানীফা রহ, হীলা করত | শয়তান দ্বারাও এমন বাজে কথা ও প্রলাপ হয়নি | সুহাইল : রাগে, ডাকুন তাকে ! দুলহান: জ্রী, সারতাজ! ডাকছি ৷ এখনই এসে যাবে৷ এই তো এসে গেছে ৷ সুহাইল : আপনি কি কখনো নিজেদের ফিক্হ নিয়েও ভেবেছেন? চিন্তা করেছেন কি তার মাসআলাগুলো কেমন ও কোথেকে এসেছে? দুররে মুখতার এর মোকাবেলায় pen আবরার মিন ফিকহে নাবীইয়িল মুখতার" লেখা হয়েছে৷ উদ্দেশ্য লোকদেরকে ধোকা দেয়া যে ওটা হলো উন্মতীর ফিকহ আর এটা হলো নবীর ফিকহ ৷ উম্মতীর ফিকহে ভুলের সম্ভাবনা আছে আর নবীর ফিকহে কোন ভুল হতে পারে না ৷ বলুন তো! আল্পামা ওয়াহীদুধ্যামান কি নবী? (এই ধোকাবায! সুহাইল গোস্বায়---- !) সেকান্দর : না, জনাব! সুহাইল : তাহলে এটাকে নবীর ফিকহ বলার হেতু কি? সেকান্দর : আমি কি জানি? আমি তো তখন ছিলাম না ! সুহাইল : বাহ! তুমি তো তখনও ছিলে না যখন তোমার পিতা-মাতার জন্ম হয়; কিন্তু তুমি তারপরও তাদেরকে পিতা-মাতা বলে স্বীকার কর! সেকান্দর : লোকেরা বলে যে, এরা হল তোমাদের মা-বাপ! সুহাইল : লোকেরাই বলে যে, ওয়াহীদুষযামান এই কিতাব লিখে নৰীর দিকে সম্বন্ধ করে দিয়েছে ৷ 
সেকান্দর ; জনাব! এর মানে হলো, কিভাৰ জো y হীদুষযামান লিখেছেন: কিন্তু তার ভিতরের মাসআলাগুল হলো : টম সান্পয়াহ আলাইহি ওয়াসাল্সামের : সুহাইল : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন ইলাইহি রাজেউন খবর আছে হীদুষযামান কি লিখেছে? ১. শরাব (মদ) নাপাক নয় ; 
o. Frese an free sige প্রবেশ করালে উ ভেঙ্গে যায় ৪. সামনের রাস্তা দিয়ে কাঠের টুকরা থরবেশ করালে যদি শুকনাই বের হয়ে আসে তাহলে উষু ভাঙ্গবে না ৫. যদি লোহা বা কাঠের টুকরা ভিতরে চলে যায় তাহলে উষু ভেঙ্গে যাবে৷ ৬. মহিলাদের লজ্জাস্থানের বহিরাংশ (2 ৯৫. ১) মানুষের মুখের মত৷ ৭. গোসল ফরয | তবে পর্দার স্থান না থাকলে পুরুষরা পুরুষদের সামনে আর মেয়েরা মেয়েদের সামনে উলঙ্গ হয়েই গোসল করবে: ৮. গায়রে যুকাল্পাফ (নাবালেগ-পাগল) বালেগ বা আকেল এর সাথে সহবাস করলে বা করালে তার উপর গোসল ওয়াজিব নয় ৷ ৯. জানোয়ারের বজ্জাস্থানে সঙ্গম করলে গোসল করা ওয়াজিব নয় ৷ ১০, মানুষের পিছনের রাস্তার সঙ্গম করলে গোসল ফরয হয় না ! ১১. মৃত মহিলার সাথে সঙ্গম করলে কারো উপর গোসল ফর হয় না! ১২, কেউ তার লিঙ্গ নিজ পাছায় প্রবেশ করালো তো তার উপর গোসল ফরয হয় না৷ (কি করে সম্ভব! আপনার ভাই-ই বলতে পারেন! ) ১৩, জটিল হিজড়া কারো সাথে সহবাস করলে কারো উপর গোসল ফরয হয় না৷ so. কুরআন শরীফের গিলাফ মাথার নিচে বা পিঠের পেছনে রাখা মাকরুহ নয় ১৫, ফাল্সাফা, মান্তেক ও ইলমে কালামের কিতাব দ্বারা ইডি করা জায়েয ১৬, মানুষ, শূকরসহ প্রত্যেক ন্ভুর চামড়া রং করলে পাক-পবিত্র হয়ে যায় 
নোয়ান এবং শকবের পশম হাহ, বগ, ' 
১৮. কুকুর ও তার গাগা পাক sp. রুনা ও শুকরের উচ্ছিষ্ট পানি ও দুধ ইত্যাদি পাক ৷ ২০ কুকুরের পেশান পায়খানা পাক ৷ ২১, বীর্ষ পাক, শুকনা হোক কিংবা ভিজ৷ ৷ ao. Sloot wate oom কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ দেয়া মাকরুহ নয় ৷ ২৩, মহিলাদের লজ্জাস্থানের আদ্রতা পাক ৷ ২৪, ইমাম নামায পড়িয়ে বলল, আমি উযূহীন ছিলাম ৷ অথবা আমার ফরয গৌসল করা হয়নি | বা আমি কাফের ৷ এমতাবস্থায় মুসল্লীদের নামায হয়ে যাবে৷ ২৫, যদি এক সালামে এক হাজার রাকাআতও পড়ে তথাপি ইহা জায়েয ৷ ২৬, বিবাহর সময় বাজনা বাজানো ওয়াজিব ৷ সুহাইল এক শ্বাসে বলতে থাকে ৷ আর সেকান্দর ও তার বোন তার দিকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে থাকে ৷ এগুলো নবীর ফিক্হ ৷ বলুন! এগুলো কি নবীর ফিক্হ? প্রত্যেক মাসআলার উপর একটি একটি করে সহীহ হাদীস পেশ কর ৷ অন্যথায় মন হতে ফত্ওয়া নিয়ে সত্য সত্য বল, এটা কি মাযহাব না ও আবর্জনার স্তূপ! সেকান্দর : ভাইজান! আমি আগামীকাল এই সব মাসআলার হাদীস পেশ করব ৷ তখন মানবেন তো যে আহলে হাদীসদের মাসলাক হক ও সত্য? সুহাইল : মেনে নিব, মেনে নিব ৷ তবে আজ দলীল দিচ্ছ না কেনঃ নিজের আলেমদের কাছে জিজ্ঞেস করে তাদের অন্ধ তাকলীদ করবেঃ? এটাও তো তোমাদের কাছে শিরক ৷ আচ্ছা যাও তোমাকে একদিন নয়, এক কোটি দিন সময় দিলাম ৷ তুমি এই মাসআলাগুলোর স্পষ্ট ও সহীহ হাদীস পেশ কর ৷ আর না পারলে মৃত্যুর আগে আগে তওবা করে নিও ৷ বুযুর্গদের প্রতি অনাস্থা ও নন্দ বলার দ্বারা ঈমান বিনষ্ট হয়ে যায় ৷ (এটা বলতে বলতে সুহাইল উঠে নিজ কামরায় চলে যায় |) দুলহান ভাইকে : তুমি কি হাদীস নিয়ে আসবে? 


সেকান্দর : কেন আনব নাই ভাইকে : দেখ! বে-ইজ্জতী যেন না হতে দুলহান ভাইকে : ফে তে হয় ৷ কেননা ; ছে আমাদের সব প্রশ্নের উত্তর আছে ৷ আর আমাদের কাছে তাঁর হে র হ xa com Bua নেই ৷ 
দশম রাত ; সেকান্দর বেল বাজালে দুলহান খুলে দিল ৷ সেকান্দর : ভাই তাশরীফ এনেছেন কি? দুলহান ভাইকে : সুহাইল এখনো বাসায় ফিরেনি ৷ সেকান্দর : কেন? দুলহান ভাইকে : জানা নেই ৷ তবে তুমি বল! হাদীস এনেছ কি? Chom : আমাদের উলামারা বলে, এইসব মাসআলার হাদীস নেই৷ দুলহান ভাইকে: তারপর ৷ সেকান্দর : তারপর আর কি! Tih ভাইকে : এতটুকু তুমি জানতে পেরেছ যে, আমরা হলাম দলীলহীন ৷ আমাদের এই দাবী যে আমরা সব কাজ হাদীস মোতাবেক করি ৷ মিথ্যা প্রমাণিত হলো ৷ হক কথা মেনে নেয়া উচিত | এখন কি তুমি নিজ মাসলাক বর্জন করবে? সেকান্দর : (পূর্ণ আস্থার সাথে) কেন বর্জন করব না? তবে এর পূর্বে এমন এক আক্রমণ করে বসো যে পুরাতন সব কথা ভুলে যাবে৷ দুলহান ভাইকে : তবে তুমি যেমন আক্রমণই করােনা কেন, তার দাঁত জঙ্গা জবাব পেয়ে যাবে৷ ইত্যবসৰে গাড়ীর হর্ণ বেজে উঠে | সুহাইল এসে গেছে | এটা বলেই দুলহান গেট খুলতে চলে গেল৷ সুহাইল গাড়ী থেকে নেমেই জিজ্ঞেস করল, ওই Fr me gm এসেছে কি? সেকান্দর : কেন আনৰ না? দুলহান ভাইকে : দেখ! বে-ইজ্জতী যেন না হতে হয় ৷ কেননা d ছে আমাদের সব প্রশ্নের উত্তর আছে ৷ আর আমাদের কাছে তার বে শ্লের কোন উত্তর নেই ৷ 

Share:

অষ্টম রাত

: সুহাইল : আপনার আব্বু, ভাই সবাই গাড়ীতে করে যাচ্ছিল, আপনিও কি আজ তাদের সাথে ছিলেন? দুলহান : হা! একজন শহীদের গায়েবানা জানাযায় শরীক হওয়ার জন্য যাওয়া হয়েছিল ৷ সুহাইল : শহীদের মরদেহ কি ঈদগাহে ছিল? দুলহান : না ৷ সুহাইল : তাহলে এদিকে ঘরেই পড়ে নিতেন ৷ দুলহান : আপনাকে যে কি উত্তর দিব ৷ আপনি তো মিনিটেই নিরুত্তর করে দেন! সুহাইল : এখানে নিরুত্তর করার কোন বিষয় নেই ৷ যখন গায়েবানা-ই পড়তে হবে তাহলে সফর করার এমন কি প্রয়োজন দেখা দিল? বীরে মাউনা এর যুদ্ধে সত্তর জন সাহাবা রা. শহীদ হয়েছিলেন ৷ নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কারও গায়েবানা জানাযা পড়ে ছিলেনঃ দুলহান : না! 
বিয়ের প্রথম দশ রাত সুহাইল : হয়র সান্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় মক্তা, ইয়ামান, বাহরাইনসহ কত জায়গায় কত মুসলমান মৃত্যুবরণ করেন; তিনি কি কারও গায়েবানা জানায়া শড়েছেন? দুলহান : না ৷ সুহাইল : হযরত খুবাইব রা, হযরত যায়েদ ইবনে দাছিনা রা, এবং tom রা, ও তাঁদের অন্যান্য সাথীদেরকে মক্কা ও মক্কার রাস্তায় শহীদ করে দেয়া হয় : নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসান্লাম কি কারও গায়েবানা জানাযা পড়েছেন? দুলহান : না৷ সুহাইল : হুদাইবিয়ার সন্ধি চলাকালীন দুই সাহাবী আবু জান্দাল রা, ও আৰু বাসীর রা, কে ফেরত দেয়া হয়েছিল ৷ তন্মধ্য হতে হযরত আবু বাসীর রা. সমুদ্র উপকূলে ইস্তেকাল করেন ৷ হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তার গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন? দুলহান : না yon c gore যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর প্রথম সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেছা রা, শাহাদত বরণ করেন ৷ দ্বিতীয় সেনাপতি হযরত জা'ফর ইবনে আৰু তালেব রা. শাহাদত বরণ করেন ৷ অনেক মুসলমানও শহীদ হন ৷ হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাদের গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন? দুলহান : (লজ্জায় আন্তে আন্তে বলে) না, না ৷ সুহাইল : হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. এর যামানায় রাম সম্রাটের সাথে যুদ্ধ হয় ৷ তাতে হযরত ইকরামা রা, ও অন্যান্য সাহাৰীগণ শাহাদত বরণ করেন | তখন কি প্রথম খলীফা ও অন্যরা গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন? কি ব্যাপার বেগম, কথা বলছেন না কেন? হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা, এর খেলাফতের আমলে বিভিন্ন শহরে অনেক মুসলমান ইন্তেকাল করেন ৷ কোন কোন যুদ্ধে অনেক অনেক মুসলিম শহীদ হন ৷ বিশেষ করে "মুসায়লামা কায্যাব" এর যুদ্ধে অনেক বীর পুরুষ শাহাদতের শুরা পান করেন ৷ তখনকার খলীফা কি তাদের গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন?  খলীফা হযরত আবু বকর রা. স্বয়ং ইন্তেকাল করেন ৷ মন্কাবাসী, ইয়ামানবাসী, বাহরাইনবাসী বা কোন শহরের মুসলিম আধিবাসীরা কি খলীফার গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন? দুলহান : মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন, না৷ সুহাইল : হুযূর সাল্পাল্লাহ আলাইহি ওয়াসান্লাম জীবদ্দশায় মাত্র "fer থেকে সাতাশটি যুদ্ধে শরীক হন৷ যেগুলোতে তিনি শরীক হননি সেগুলোতে শরীক হওয়া শহীদদের কি তিনি গায়েবানা জানাযা পড়েছেন? দুলহান : নরম স্বরে বললেন, না জনাব না ৷ ক্ষান্ত করুন ৷ মাসআলা বুঝে এসে গেছে৷ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ সুহাইল : এখানেই শেষ নয়, দিতীয় খলীফা হযরত উমর রা.. তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান রা.. চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রা, এবং ওহী লিখক হযরত মুআবিয়া রা, এর খেলাফতকালে অনেক যুদ্ধ বিরহ হয়েছে ৷ এমন কি ইসলামী হকুমতের সীমান্ত স্থলভাগের এক কিনারা পর্যন্ত পৌছে গেছে৷ এই সব যুদ্ধে অগণিত মুসলমান শাহাদতের শূর পান করে ৷ তখনকার খলীফাগণ কি তাদের গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন? দুলহান : না৷ সুহাইল : তাহলে আপনার বাপ-ভাই কেন গেলেন? দুলহান : বাস সারতাজ! এটা তাদের মাসলাক ৷ তাদের কাজ তারাই জানে ৷ মাসলাকের তো কোন ভিত্তি থাকে ৷ এখানে তো কোন ভিত্তিই দেখছি না ৷ প্রত্যেক বিষয়ের ভিত্তি দেখছি মিথ্যার উপর ৷ (একটু চুপ থেকে বললেন,) সারতাজ! তারা বলে হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাৰ্শার বাদশাহ নাজ্জালী এবং 'মু'আবিয়া ইবনে মু'আবিয়া মুযানী এর গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন ৷ আর ইমাম শাফেয়ী রহ, ও গায়েবানা জানাযার পক্ষে ৷ সুহাইল : (রাগে) বদবখ্ত আর মুনাফেকরা সাহাবাগণের দূর্নাম করার চেষ্টা চালাচ্ছে | আরে 'আকল-বুদ্ধি থাকলে একটু চিন্তা কর ৷ যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসান্লাম গায়েবানা জানাযার নির্দেশ দিতেন বা তিনি নিজে তা পড়তেন তাহলে কি সাহাবায়ে কেরাম রা. তা ছাড়তেন? দুলহান: কক্ষনো না কক্ষনো না; 
বিয়ের প্রথম দশ রাত সুহাইল : এটা হল ওই সকল আহমকদের ফয়সালা যাদের 'আমল ভাল বলতে কিছু নেই ৷ দ্বীনী ইলম হতে তাদের হাত একেবারেই খালি; আপনি ফায়সালা করুন৷ এরা সত্যবাদী না সাহাবায়ে কেরাম রা? যদি তাদেরকে সভ্য মানি তাহলে সাহাবাগণের প্রতি অপবাদ চলে আসে ৷ যা কিছুতেই হতে পারে না ৷ কিছুতেই হতে পারে না৷ কোন মুসলমান সাহাবায়ে কেরামগণের প্রতি অপবাদ দিলে এটা তার আকল-বুদ্ধি নষ্ট হওয়ার পরিচায়ক ৷ তারা তো সুন্নাতের অর্থই বোঝে না ৷ সাহাবাগণ রা, তো মেস্ওয়াকের am mum uses প্রস্তুত ছিলেন না৷ এত বড় আমল ছেড়ে দেয়া তো দূরের কথা! আদেরকে পাগল খানায় ঢুকানো দরকার ৷ ঘোড়ার গোশত খেয়ে, উটের পেশাব পান করে আর যনির কুলফি আইসক্রিম চুষে চষে আজ তাদের যুখ হতে সাহাবায়ে কেরাম নিরাপদ নন | এরা তো রাফেযী ও শিয়াদের-ই অন্য প্রকার মনে হয় (সুহাইল রাগে গজরাতে থাকে !) দুলহান : সারতজ! রাগের কথা নয় ৷ দলীলের বিষয় ইতি পূর্বে তো আপনি এমনটি করেননি ৷ বরং তৎক্ষণাত দলীল দিয়ে আমাকে চুপ করিয়ে দিতেন ৷ এখন মনে হচ্ছে আপনার কাছে এর কোন জবাব নেই ! সুহাইল : মুহতারাম! তাদের কাছে কোন মাসআলার-ই দলীল নেই৷ এই মাসআলার আবার দলীল আসবে কোথেকে? এই কাজ তো সাহাবাগণ সারা জীবন করেননি ৷ আর হুযূর সানপাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো জীবনে না কারও গায়েবানা জানাযা পড়িয়েছেন আর না কাউকে তার নির্দেশ দিয়েছেন৷ নাজ্জাশীর রেওয়ায়াত নকলকারী সাহাৰী তিন জন: ১. হযরত আবু হুরায়রা রা. | তাঁর ইন্তেকাল ৫৯ হিজরীতে ৷ কেমন যেন তিনি এই ঘটনার পঞ্চাশ বছর পর পর্যন্ত জীবিত থাকেন ৷ ২, হযরত জাবের রা. | তাঁর ইন্তেকাল ৭৯ হিজরীতে ; কেমন যেন তিনি এই ঘটনার পর ৭০ বছর জীবিত থাকেন! ৩. হযরত ইমরান বিন হুছাইন রা. | তার ইন্তেকাল ৫২ হিজরীতে ৷ সুতরাং তিনি এই ঘটনার পর ৩৭ বছর হায়াত পান৷ এখন তারা কোন সহীহ সনদে প্রমাণ করুক যে এই সব হযরাত তাদের জীবনে একবার হলেও কারো গায়েবানা জানাযা পড়েছেন!! ৫২ 
 আর নাজ্জাশীর এই জানাযা এটা গায়েবাশা জানাযা ছিল না ; বরং এখানে তার এক বিশেষ বৈশিষ্ট প্রকাশ হয়েছে ৷ আক্লামা ওয়াহিদী রহ, "আসবাবুনদুযূল" এ লিখেন: F fsa} ~ ~ aie desis $5 133 ১0৩১ অর্থাৎ ছুযূর সান্পাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য যমীনের পর্দা সরিয়ে দেয়া হয় ৷ তিনি নাজ্জাশীর খাটিয়া দেখছিলেন তাই তিনি তার জানাযা পড়িয়েছেন ৷ সহীহ ইবনে হিব্বান এবং সহীহ আবু আওয়ানা-তে আছে সাহাৰাগণ রা, বলতেন : আমাদের সবাই এটাই বুঝে ছিল যে, জানাযা সামনে রাখা আছে ৷ এটা কি গায়েবানা ছিলঃ এটা কি গায়েবানা ছিলঃ (সুহাইল রাগে বার বার বলে যাচ্ছিল !) দুলহান : সারতাজ! তারা তো বলতো, আমাদের এই দলীল হিমালয়ের চেয়েও মজবুত ৷ পৃথিবীর কোন হানাফীর নিকট তার কোন জবাব নেই৷ কিন্তু আপনি তো একবারেই সুরমা বানিয়ে দিলেন কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো হযরত মুআবিয়া ইবনে মু'আবিয়া মুযানীর জানাযা পড়িয়েছিলেন ৷ তার ইন্তেকাল হয় মদীনাতে ৷ আর নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তবুক সফরে ছিলেন ৷ এটা কি স্পষ্ট দলীল নয়? সুহাইল : বেগম! আপনার 'আকল কাজ করছেনা কেনঃ যে সকল সাহাৰী রা, তবুকে নবী করীম সান্পাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই আমল দেখলেন তারা কি পরবর্তীতে এর উপর আমল করেছেন? দুলহান : না! সুহাইল : এটা কেন? এই ঘটনার রাবী হযরত আনাস রা, ৷ তার ইন্তে am so হিজরীতে ৷ আর এই ঘটনা হয় নবম হিজরীতে ৷ কেমন যেন তিনি এই ঘটনার পর ৮৪ বছর জীবিত থাকেন৷ তিনি এই ৮৪ বছরে কোন সাহাৰী বা গায়রে সাহাৰীর গায়েবানা জানাযা পড়াননি ৷ আর এটাও গায়েবানা ছিল না ৷ রেওয়ায়াতে স্পষ্ট আছে যে, হযরত জিব্রাইল আ, মাটির উপর স্বীয় ডানা মারলেন৷ তখন সমস্ত পাহাড়, পর্বত, টিলা ও গাছ-পালা মাটি বরাবর হয়ে যায় এবং মদীনা শরীফ দৃষ্টিগোচর 
হতে আরম্ভ করে ৷ ৯ - 3.৯ অর্থাৎ খাটিয়া সামনে দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল ৷ ওটা দেখেই জানাযা পড়ানো হয় ৷ এক বর্ণনায় আছে৷ যমীন ভাজ করে দেয়া হয় | এটাকে কি গায়েবানা বলে? এটাকে কি গায়েবানা বলে? ইহা কি গায়েবানা? এদিকে ইমাম শাফেয়ী রহ, শহীদের জানাযারই প্রবক্তা নন ৷ আনাযা সামনে থাকলেও পড়ার হকুম নেই৷ গায়ের হলে তো দূরের কথা৷ এটা তার উপর অপবাদ ৷ মিথ্যুকদের উপর আল্লাহর অভিশম্পাত ৷ দুলহান: বাসু জনাব! মাসআলার সমাধান হয়ে গিয়েছে ৷ সুহাইল : না৷ এটাও শোনে নিন, (অন্যথায় পরে আবার জিজ্ঞেস করবেন) তারা পড়ে কেনঃ তাদের কাজ হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত যা করে না তাদের তা করা চাই৷ উদাহরণ স্বরূপ: ১. আহলে সুন্নাহর নিকট মুরগীর কুরবানী জায়েয নেই ৷ গায়রে মুকাল্পিদদের নিকট জায়েয ৷ ২. আহলে সুর্লাহ্ ডিমের কুরবানী করে না, জায়েষও বলে না ৷ তারা বলে জায়েয ৷ ৩. আহলে সুন্নাহ ঘোড়ার গোশত খায় al, কুরবানীও করে না তারা করে৷ ৪. আহলে সুদনাহ মনিকে নাপাক ও হারাম বলে, তারা বলে পাক ও হালাল ৷ c. Sige উটের পেশাব পান করে না৷ তাদের নিকট জায়েয! কেননা বুখারী শরীফে আছে 1 ৬. আহলে সুন্নাহ নাভী থেকে নিয়ে ইঁটু পর্যন্ত সতর বলে ৷ তাদের নিকট শুধু ছিদ্র ঢাকলেই যথেষ্ট৷ ৭. আহলে সুন্নাহ এর নিকট পুরুষ ও মহিলার নামাযে পার্থক্য আছে৷ তাদের নিকট কোন পার্থক্য নেই ৷ (কাজেই পুরুষের ন্যায় মহিলারাও দাঁড়ানোর সময় দুই পা দুই দিকে ছড়িয়ে দাড়াবে |) ৮. আহলে সুন্নাহ তাকলীদকে জায়েয বলে৷ তারা বলে হারাম ৷ ৯. আহলে সুন্নাহ পিছনের রাস্তা দিয়ে সঙ্গমকে হারাম বলে ৷ তাদের নিকট এটা পসন্দীয় 'আমল ৷ কেননা বুখারী শরীফে আছে ৷ ১০. আহলে সুন্নাহ তিন তালাককে তিন তালাকই বলে ৷ তারা ইয়াহুদী ও শিয়াদের ন্যায় তিন তালাককে এক তালাক বলে ৷ এমনটি করে কেনঃ তার কোন জবাব নেই ৷ সামনে থেকে আম্যর ঘুম নষ্ট করবে না ৷ তারা হল মুর্ধ ; কুরআন তাদের জবাব দেয়ার নির্দেশ করে না৷ বরং কুরআনের প্রেসক্রিপশন {all Sel 16]; = অর্থাৎ মূর্থরা রাহমানের বান্দাদের সমােধন করলে তথা কটু কথা বললে তারা বলে "সালাম" তথা কোন উত্তর প্রদান করে না ৷ কোন জটিল বিষয়ের উত্তর তো আহলে ইলমদেরকে দেয়া যায় ৷ বিজ্ঞজন যদি অন্য বিজজনের সাথে বহছ ও পর্যালোচনা করে তাহলে তা ভাল লাগে ৷ কোন তেল বিক্রে wel, মুচি ও কর্মকার যদি এম. বি. বি. এস ডাক্তারের সাথে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে তর্ক করে তাকে লোকেরা আহমক বলে ৷ (এবং মনে করে যে তার মাথার তার ছিড়ে গিয়েছে |) তেমনিভাবে যদি মুজতাহিদের সাথে গায়রে cote বা মুকাল্পিদের সাথে গায়রে মুকাল্পিদ লড়াই ঝগড়া করে তো দুনিয়া তাকে 'আহমক' বলে ! দুলহান : আপনার ইলমের আর কি প্রশংসা করব! আপনার জ্ঞান- গরিমা আমাকে অভিভুত করেছে | আমি ভাবি আপনাদের হযরত উকাড়ভীর ইলম কি পরিমাণ হবে | যদি চৌদ্দশত শতাব্দীতে হযরত উকাড়ভীর ইলম এত মজবুত হয় তবে খাইরুল কুরূনে আমাদের ইমাম আবু হানীফা রহ, এর ইলমের কি কোন বর্ণনা দেয়া যেতে পারে? সুহাইল : আসলে তাদের তাকলীদ করাটা তাদের হক ও অধিকার ৷ তাছাড়া আমরা এমনিতেই হানাফী হইনি ৷ ইমাম সাহেব রহ, এর ইলম, দলীলের শক্তি, তাক্ওয়া-পরহেযগারী, বুঝ-বুদ্ধিতে পূর্ণতা, ইলমে কুরআন ও হাদীসের উপর দক্ষতা, নাসেখ-মানসূখের ইলম, সাহাবাদের রা. সাক্ষাত এবং তাদের কাছ থেকে রেওয়ায়াত এই সব দেখে আমরা হানাফী হয়েছি ৷ আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে কেউ ইনশাআল্লাহ কেয়ামত পর্যন্ত আমাদের দলীল খণ্ডন করতে পারবে না ! দুলহান : বাসূ! শেষ করুন ৷ অনেক হয়েছে ৷ আজ কোন পদ্ধতি পরীক্ষ করবেন, তার প্রস্তুতি নিন ৷ এই বলে আজকের মজলিস সমাপ্ত হল৷ 

Share:

সপ্তম রাত

 : সুহাইল কামরায় প্রবেশ করতে করতে বলল, বাহ! ইবনে কাইয়্যিম যদি আরও দু' চারটা তরীকা বলত তাহলে লোকেরা অনেক you দিত ৷ দুলহান : আচ্ছা! ওই দুআগুলোই এখন আপনার বন্ধু পাবেন৷ কেননা তিনিতো ষাট তরীকা বলেছেন৷ নামাযের আভিধানিক অর্থ তো বড় ভয়াবহ হল ৷ যাকাতের আভিধানিক অর্থও কি এমনিই? সুহাইল : ২, যাকাতের আভিধানিক অর্থ হল, পবিত্র করা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা৷ যাকাতকে মালের ময়লা বলা হয় ৷ তাইতো সাইয়্যেদদেরকে তা দেয়া যায় না৷ যাকাতের আঙিধানিক অর্থ নেয়া হলে কেউ ঘরে ঝাড়ু দিয়ে বলবে, আঁমি যাকাত দিয়ে দিয়েছি কেউ আবার দোকান বা ফ্যাক্টরী পরিস্কার করে বলবে আমি যাকাত দিয়ে দিয়েছি ৷ কোন কর গায়রে যুকাল্লিদ ধুয়ে বলবে 'আমি যাকাত দিয়ে দিয়েছি ' এতে ইসলামের সমস্ত নেযাম বাতিল হয়ে যাবে ৷ ৩. রোষা ৷ আরবীতে বলে সওম ৷ আভিধানিক অর্থে কিছু সময় (যথা ২০ মিনিট) পানাহার ও সহবাস হতে বিরত থাকা ৷ এ ভাবে প্রত্যেক ব্যক্তি রোযা না রেখেও নিজেকে রোযাদার প্রমাণিত করতে পারবে: ক্ষুধার্তও থাকতে হবে না ৷ ৪. হন্তু-এর আভিধানিক অর্থ 'ইচ্ছা করা' ৷ কোন গায়রে তার অফিসে যাওয়ার ইচ্ছা করে বলবে, "আমি হস্ত করে ফেলেছি ৷" কেউ রহীম ইয়ার খান থেকে খানপুর যাওয়ার ইচ্ছা করে বলবে আমি হজু করে নিয়েছি ৷ কোন মুহাম্মদ ন্যায় কণ্টর গায়রে মুকাল্লিদ মনী খাওয়ার ইচ্ছা করে বলবে আমি হজ করে নিয়েছি ৷ দুলহান : উচ্চ আল্লাহ ৷ আপনি মাসআলা বুঝিয়ে বলুন ৷ এরকম তিরস্কার ভৎসনা আমার কাছে ভালো লাগে না 
সুহাইল : আমি কোন খারাপ কথা বলিনি ৷ দুলহান : এক্ষণি আপনি মুহাম্মদ জোনাগটীর ব্যাপারে কি রকম এক নাপাক বাক্য উচ্চারণ করলেন ৷ যে জিনিসটিতে মানুষ হাত লাগাতে চায় না, দেখতে চায় না, সেটাকেই আবার খেতে বলা! ছি: ছি কি রকম ভুল কথা ৷ (দুলহান রাগে বলে যাচেছ |) সুহাইল : শোন বেগম! কারো মাসলাক বয়ান করা কি অন্যায়? আমরা কি বলি না ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা শূকর খায়? কোন কোন লোক অণুকোষ (ভেড়া, বকরির) খায় দুলহান : (শক্ত ভাষায়) এই সব ঠিক ৷ এতে হালাল ও হারামের বিষয়টি প্রত্যেকের স্ব স্ব মাযহাব ৷ কিন্তু এই জিনিসটি তো ইয়াহুদী খৃষ্টানদের নিকটও হালাল নয় ৷ তথাপি আপনি এমন কথা বললেন কেন? সুহাইল : আমি এটা বুঝাতে চাচ্ছি যে, গায়রে মুকাল্পিদদের ন্যায় নাপাক মাসলাক ইয়াহুদী-খৃষ্টানদেরও নেই ৷ মুহাম্মদ জোনাগটী লিখেন: "মনী পাক' ৷ তার এক বক্তব্য অনুযায়ী তা খাওয়াও জায়েয আছে৷ এরকম তিনি লিখেছেন ৷ এখন আমি তাকে পরামর্শ দিচ্ছি না যে তিনি তা কুলফি, আইসক্রিম, জেলি বা লবণ মরিচ মিশিয়ে খেয়ে নিক ৷ এই পরামর্শের অধিকার আমার নেই ৷ এটা হল তার মাসলাক ৷ তিনি তার মাসলাক অনুযায়ী যে ভাবে ইচ্ছা সে ভাবেই খেতে পারেন৷ দুলহান : আন্তাগফিরুল্লাহ! লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ৷ যদি তিনি এমনি পচা-গান্ধা কথা লিখে থাকেন তাহলে আমি তার কণ ' ও মাসলাকের উপর হাজার মর্তবা লা'নত করি ৷ এই লম্পটদেরে বাদ দিন ৷ এতটুকু বলুন যে, কুরআন-হাদীসের কোথাও কি তাকলীদ শব্দ এসেছে? সুহাইল : বাস বাসু বেগম! রাগের কথা নয় ৷ কুরং/ন-হাদীসের কোথাও যেমন তাওহীদের শব্দ আসেনি ৷ তারপরও আমরা তাওহীদ মানি দুলহান : লজ্জা পেয়ে বলল না, না৷ একেবারেই না ৷ তারপরও আমরা তাওহীদ কোথেকে প্রমাণ করি সুহাইল : শোন বেগম! কুরআনে ৬> ও শব্দ আছে৷ আর ye! ও ১০1, এর মূল ধাতু যা ১=>৮ এর মূল ধাতু তা-ই ৷ এতে বুঝা গেল ৪৬ 
 শব্দের মূল কুরআন দ্বারাই প্রমাণিত ৷ তেমনিভাবে কুরআনে ৬২১3 শব্দ এসেছে ৷ আর ২১ ব্দ হাদীসে কয়েক জায়গায় এসেছে৷ এর থেকেই ৬১৪ শব্দটি নির্গত হয়েছে! তাকলীদের দুই অর্থ: ১. পষ্টা যা কুকুর বা কোন জানােয়ারের গলায় পরানো হয় ৷ ২. হার যা মানুষের গলার সজ্জা হয়৷ প্রত্যেকে যেহেতু নিজ নিজ স্বভাব-তবীয়ত অনুযায়ীই অর্থ ও মতলব বুঝে থাকে ৷ তাই আমরা যেহেতু মানুষ সেহেতু মানুষের সাথে মিলে এমন অর্থই আমরা নিয়ে থাকি অপরদিকে তারা যেহেতু হাইওয়ান৷ এই জন্য তারা কুকুরের সাথে মিলে এমন অর্থ নেয় ৷ মেশকাত শরীফের হাদীস: অযোগ্য, বে-আমল ও আহমক লোকদেরকে ইলম ও জ্ঞানের কথা বলা এমনিই যেমন শূকরের গলায় স্বরণ. রূপা ও মণি-মুক্তার হার দেয়া ৷ এতে বুঝা গেল "তাকলীদ' কোন সাধারণ হার নয় ৷ বরং তা হলো স্বর্ণ, রূপা ও মণি-মুক্তার দাযী হার ৷ তাই এই দামী হার গায়রে মুকাল্লেদ অধমদের গলায় দেয়া যায় না ৷ হাদীসে হযরত আয়েশা রা.. আসমা রা, ও অন্যান্য সাহাৰীয়াদের হারকে ১১১৪ শব্দ দ্বরা উল্লেখ করা হয়েছে ৷ আপনি এগুলোর কি অর্থ করবেন? youn c কি সুন্দর কথা রে আপনার কথা তো সবর্ণাক্ষরে লেখার উপযুক্ত ! কথা ধতই জটিল হোক না কেন, আপনি তা একেবারেই সাধারণের বোধগম্য করে পরিষ্কার ভাবে বুঝিয়ে দেন৷ অন্যথায় আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে এই বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হয়নি ৷ sorts : বেগম! এতে আমার কোন কৃতিত্ব নেই ৷ এটা শুধুমাত্র মাও রহ ও তার শাগরেদের যুহাব্বতের ফল ৷ আপনি কেন, গায়রে মুকাল্পিদদের সকল উলামা মাশায়েথও এখানে নিরুত্তর হয়ে যায় ৷ ব্যসূ cont thl ain কোন নতুন মাসআলা আনবেন না ৷ রাত অনেক হয়ে গেছে ৷ ইবনে কাইয়্যিম রহ, এর চতুর্থ তরীকা আমার দেমাগে ঘুর-পাক খাচ্ছে ৷ ক্ষান্ত হোন পদ্ধতি পরীক্ষা করার দীর্ঘ সময় পড়ে আছে৷ আরও এক আধ মাস্আলার আলোচনা হয়ে যাক ৷ আরে ইয়ার! দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে আমার বন্ধুর ষাট তরীকাণড পড়ে আছে৷ 
দুলহান চোখ বড় বড় করে.... কি? এরকম কথা বলবেন না৷ আমি আগেও বলেছি৷ যদি কারও এমন ইচ্ছা থাকে তাহলে চার বিবাহ করে নিক ৷ দুলহান : বলুন তো! এ কথাটি কি সত্য যে, ইমাম আৰু হানীফা রহ, এর শুধু মাত্র সতেরটি হাদীস জানা ছিল? সুহাইল : বেগম! মুখ বন্ধ করুন | এটা এমন এক ডাহা মিথ্যা যে, যদি সমূদ্রের মধ্যেও নিক্ষেপ করা হয় তাহলে তার পানি তিক্ত হয়ে যাবে৷ মিথ্যা শোনলে রহমতের ফেরেশতাগণ চলে যান ৷ বেওকুফ! কখনো কি চিন্তা করেছ যে সারা দুনিয়ার ৫৫% লোক খাঁর তাকলীদ করে তিনি অল্প ইলমের অধিকারী বা সাধারণ আলেম হবেন? গায়রে মুকাল্লিদদের মাসলাকের ভিত্তি হলো মিথ্যার উপর৷ তারা মিথ্যা ছেড়ে দিলে তাদের মাসলাকের নাম নিশানাও থাকবে না৷ তাই তারা বাধ্য হয়েই মিথ্যার উপর মিথ্যা বলতে থাকে ৷ আপনার নিকট শুধুমাত্র একটি প্রশ্ন : রাষ্ট্রর চীফ জাষ্টিস কোন সাধারণ শিক্ষিতকে বানানো হয়, না অসাধারণ শিক্ষিত ও জ্ঞানী লোককে? দুলহান : যিনি সবচেয়ে বড় শিক্ষিত ও জ্ঞানী তাকে ৷ সুহাইল : হাইওয়ানে নাত্বেক এর মেয়ে শুনুন! সাহাবা যুগের পরে বনু উমাইয়ার সর্ব শেষ শাসক এবং খেলাফতে আব্বাসিয়ার সর্ব প্রথম শাসক তারা উভয়ে চেষ্টা করেছেন যেন ইমাম আবু হানীফা রহ, চীফ জাস্টিস এর পদ গ্রহণ করে নেন ৷ কিন্তু ইমাম সাহেব রহ, তা গ্রহণ করেন নি ৷ ফলে তিনি শান্তি বরদাশ্ত করেছেন৷ জেলে গিয়েছেন ৷ যদি ওই সময় অন্য কারও সতেরটি হাদীস মুখস্থ থাকত তাহলে তারা ইমাম সাহেবকে বাধ্য করত না ৷ দুলহান : আপনার কথা তো ঠিক ৷ তবে তারা এমন দাবী করে কেন? সুহাইল : দাবী নয় মিথ্যা বলে ৷ আসলে মুহাদ্দিসগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে যে, ইমাম হানীফা রহ, সাহাবায়ে কেরাম রা. থেকে সরাসরি কয়টি রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন ৷ এ ব্যাপারে তিন, পাঁচ, সাত ও বেশীর চেয়ে বেশী সতেরটির পর্যন্ত উক্তি রয়েছে ৷ তো মতবিরোধ হল সাহাবাগণ হতে কতটি রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন ৷ কিন্তু আপনার cert বংশধররা সব কথা  হজম করে মিথ্যা কথা ছড়িয়ে দিয়েছে যে, তাঁর শুধু মাত্র সতেরটি হার্দান ইয়াদ ছিল ৷ "আচ্ছা! কারও ব্যাপারে অন্য কারও ফয়সালা করার # অধিকার আছে! ইমাম আবু হানীফা রাহ, স্বীয় পুত্রকে পাঁচটি উপদেশ দান করেন ৷ অত:পর বলেন: "বেটা! আমার এই পাঁচটি কথা সর্বদা মনে রেখ ৷ কেননা তা হলো ওই পাচ,লক্ষ হাদীসের সারাংশ যা আমার ইয়াদ আছে ৷ দুলহান : বাহ, কি সুন্দর! আমি তো মনে করতাম এটা এমন একটা মাসআলা যা সমাধাযোগ্য নয় এবং কোন হানাফী তার জবাব দিতে পারবে না৷ কিন্তু আপনি তা এমন সহজ করে বুঝিয়ে দিলেন যেমন একে একে দুই 1 বা দুইয়ে দুইয়ে চার বুঝাটা সহজ ৷ সুতরাং সারতাজ! আপনার ইলমের কদর করছি ৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনি আমার সাথে যত তরীকা পরীক্ষা করবেন সব আমি সয়ে যাব ৷ 

Share:

৬ষ্ঠ রাত


সুহাইল : বিবাহের দিন তারিখ হওয়ার পর থেকে নিয়ে প্রথম বিবাহের পর যে খুশী মাটিতে মিশে যাচ্ছিল তা দ্বিতীয় বিবাহর পর আগের চেয়েও বেশী আনন্দ নিয়ে ফিরে এলো ৷ কেননা এখন দুই খুশী জমা হলো ! দুলহান : কথা আপনারটাই ঠিক ৷ তবে দুই খুশী দ্বারা কি উদ্দেশ্য? সুহাইল : এক হল, আপনার হেদায়াতের খুশী ৷ আরেকটা হল, বিবাহ দোহরানোর পর ইবনে কাইয়্যিম এর বর্ণিত তরীকার অভিজ্ঞতা | দুলহান : হককে মেনে নেয়া জান্নাতীদের আলামত ৷ আর হক জেনেও প্রশ্ন উত্থাপন করা জাহান্নামীদের চিহ্ন ৷ কিন্তু একটি বিষয় জানার ছিল ! সুহাইল : একটা নয়, হাজার কথা জিজ্ঞাসা করুন! 
দুলহান : আমার জানা আছে যাদের সাথে আপনার সম্পর্ক তারা একেক জন ইলমের পাহাড় ৷ তাদের কাছে যদি লাখো প্রশ্নও করা হয় তথাপি এক মজলিসেই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ! : কি বললেন! কি বললেন! youn : @. হা ৷ ঠিকই বলছি ৷ গায়রে মুকাল্সিদদের tam yoo মুহাদ্দিস মুফাস্গির ও মুনাযিররা যখন উকাড়বী এর নাম শোনেন তখন তাদের যুখ দিয়ে আর কথা বের হয় না! কলম দিয়ে আর লেখা বের হয় না৷ কিন্তু জনাব! বলুন তো আপনি তাদের এত বিরোধী কেন?
 সুহাইল : বেগম! আপনি ভুল বুঝেছেন! আমি শুধু আহলে হাদীসদের বিরোধী মই ; আমি তো আহলে কুরআমদেরও বিরোধী ৷ বরং লোকদের কথা অনুযায়ী শাইথুল কুরআনের দল ইশাআতুত্ তাওহীদ ওয়াস সুন্নাহ এরও বিরোধী৷ দুলহান : (চট করে বলে উঠল) আহলে হাদীসরাও তো আহলে কুরআন বিরোধী সুহাইল : কেন? কুরআন কি কোন খারাপ জিনিস? দুলহান : আসলে কুরআন তো কোন খারাপ জিনিস নয়, কিন্তু তারা কুরআনের নাম নিয়ে কুরআমের উপরই মিথ্যারোপ করে এবং তাকে আড় বানিয়ে হাদীস অস্বীকার করে ৷ সুহাইল : বাসূ, বাসং এই কারবারই করেছে আহলে হাদীসরা ৷ হাদীসের নাম নিয়ে হাদীসের উপর মিথ্যারোপ এবং হাদীসকে আড় বানিয়ে ফিকহ অস্বীকার করেছে ৷ দুলহান : বাস্তুবেই আপনার গোস্বা ঠিক আছে৷ তবে "ইশাজতুত্ তাওহীদ ওয়াসসুর্লাহ" আবার কোন বিপদ! seite : প্রাণ আমার! এটাও গায়রে যুকাল্পিদদেরই একটি শাখা ৷ তবে জন সাধারণকে ধোকা দেয়ার লক্যে নিজেদেরকে দেওবন্দী লেখে এবং নিজেদেরকে দেওবন্দী বলে পরিচয় দেয় ৷ দুলহান : (হতভদব হয়ে জিজ্ঞেস করল) কী! এরা দেওবন্দী নয়? সুহাইল : বিলকুল ন্য! দেওৰন্দী তো দূরের কথা এরা আহলে সুন্নাত ওয়াল থেকেও থারেজ ! দুলহান : তা আবার কেনঃ 
সুহাইল : এরা কুরআন হাদীসের নাম নিয়ে মিথ্যা বলে এবং আহলে সুব্লাহর ঐকামতের আকীদা সমুহকে অস্বীকার করে৷ বেগম! শুনুন ! আহলে সুন্নাহ এর আকীদা হল, নবীগণ স্বীয় কবরে স্বশরীরে রূহসহ হায়াতে রয়েছেন বিশেষ করে সাইয়্যেদুল আছিয়া সানপাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৷ যদি কোন মুসলমান রওখায়ে আকদাস হতে দূরে থেকে দরূদ ও সালাম পড়ে তাহলে ফেরেশতাগণ তাকে নৰী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পেশ করেন ৷ আর কেউ রওযার পাশে হাযির হয়ে দরদও সালাম পেশ করে তাহলে তিনি সরাসরি তা অবণ করেন৷ দুলহান : আহলে সুন্নাহ এর এই আকীদা কি কুরআন হাদীস দ্বারা প্রমাণিতঃ সুহাইল : জ্রী.হা আহলে সুন্নাহর চার মাযহাবের উলামায়ে কেরাম এই ব্যাপারে একমত ৷ যদি দিলের তাসাল্পী চান তাহলে আল্লামা খলীল আহমদ সাহারানপুরী এর "আল মুহায্লাদ আলাল মুফারীদ" অর্থাৎ আকায়েদে উলামায়ে দেওবন্দ এবং মুফতী আঃ শাকুর এর খোলাসায়ে আকায়েদে উলামায়ে দেওবন্দ অধ্যয়ন করুন; যদি বিস্তারিত জানতে চান তাহলে ইমামে আহলে সুব্লাহ হযরত মাও মুহাম্মদ সারফরায খান সফদার এর "তাসকীনুস সুদুর" অধ্যয়ন করুন৷ ইনশাআল্লাহ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট হয়ে যাবে ৷ আর মাও মুর মুহাম্মদ তিউনাসী এর কিতাব কবর কী যিন্দেশী এবং "আযাবে কবর কী সহীহ সুরত কে মুনকের কী শরয়ী হকুম"ও অধ্যয়নে রাখবেন৷ দুলহান : তারাতো বলে যে, আমাদের আকীদার স্বপক্ষে কুরআনে কারীমের সত্তরটি আয়াত এবং আঠারো শ হাদীস আছে ৷ সুহাইল : জ্রী, বেগম! গায়রে মুকাল্পিদদের মিথ্যুক হওয়াটা যেমনিভাবে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গেছে তাদের মিথ্যুক হওয়াটাও ইনশাআল্লাহ পূর্ণিমার টাদের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যাবে ৷ আমরা তাদের নিকট বহুবার চেয়েছি যে, শুধু মাত্র একটি আয়াত বা হাদীস পেশ করুন মুহান্কিক সুরী মুফাসসির ও মুহাদ্দিসের ব্যাখ্যাসহ ৷ যা দ্বারা আপনাদের আকীদা প্রমাণিত হবে৷ আজ বিশ বছর পরও তারা সক্ষম হয়নি৷ 
আমরা তাদের মুখপাত্র মাও, এনায়েতুল্লাহ গুজরাটী এবং আমীর মাও. পঞ্জপীরীকে মুনাযারার চ্যালেঞ্জ দিয়েছি ৷ কিন্তু কেউ তা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হয়নি ৷ একবার তাদের আল্লামা আহমদ সাঈদ grom মুনাযারা করেছিল ৷ একটি আয়াতও পেশ করতে পারেনি ৷ ফলে লোকদের খুব গালি ভাগে পেয়েছে ৷ আজকাল আবার তিনি এক কিতাব লিখেছেন ৷ নাম, "কিভাবে মুকাদ্দাস আওর মুহাঙ্দেসে বুখারী" ৷ সেখানে তিনি অত্যন্ত অল্নীল ভাষা ব্যবহার করেছেন ৷ ইমাম বুখারীর নাম উচ্চারণে বে-আদবী করেছেন ! জায়গায় জায়গায় এই বলে হাদীস অস্বীকার করেছেন যে, "এই মাসআলাটি কুরআন শরীফে এমন আছে ৷ আর বুখারী মুহাদ্দিস অভিশপ্ত রাবীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কুরআনের খেলাপ বর্ণনা করেছেন ৷ ইত্যাদি ইত্যাদি ৷ (সুহাইল বলতে থাকে !) দুলহান : আসলেই এরা gon পাত্র ৷ ইসলামী হুকুমত থাকলে, বে- আদৰী মূলক লেখনী ও বক্তব্যের কারণে কারও কারও শান্তি হত মৃত্যুদণ্ড ৷ আর কারও কারও শান্তি হত অন্য কিছু ৷ আচ্ছা সারতাজ! তাকলীদ কি জরুরী? আমি তো এখন আহলে হঝু ও আহলে সুন্নাহ এর মাসলাক গ্রহণ করে ফেলেছি ৷ তাই যদিও রাগ আসার মত প্রশ্ন তথাপি বুঝিয়ে বলুন ৷ সুহাইল : রাগ আসাটা স্বাভাবিক ৷ কেননা ইমাম শাফেরী রহ, বলেছেন: "রাগ আসার বিষয়ে যার রাগ আসে না সে গাধা ৷ আর উষর পেশ করলে যে ক্ষমা করে না সে শয়তান |" তবে আপনি যেহেতু হকৃ কথা মেনে নেন তাই আমি রাগ হজম করে ফেলেছি ৷ yore : আচ্ছা! প্রথমে আপনি বলুন তাকলীদ কাকে বলে? yon : তাকলীদ হল কুরআন-হাদীসের মোকাবেলায় অন্য কারা কথা মানা ৷ সুহাইল রাগে : 206 ঞ # হুহ্র যে আপনাকে এই সংজ্ঞা বলেছে তার উপর আল্লাহর লা'নত হোক | দুলহান : তাহলে তাকলীদের সংজ্ঞাটা আপনিই বলুন? সুহাইল : পাগল? শুনুন, কোন আলেমে বা-আমল ও মুস্তাকী- পরহেযগারের উপর আস্থা রেখে ভার কথাকে মেনে নেয়া এই বিশ্বাসে যে 
তিনি দলীল ভিত্তিক কথা বলছেন ৷ তবে তার নিকট দলীল চাইতে না যাওয়া ! সাহাৰা রা, ও তাবেযীদের রহ. যুগ হতেই এই ধারা চলে আসছে ৷ হাদীসের প্রসিদ্ধ কিতাব মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক এবং ইমাম আবু হানীফা রহ, এর কিতাবুল আছার' এ হাজারো নয় বরং লাখো এমন ফাত্ওয়া রয়েছে যেখানে প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেছে আর সাহাৰী উত্তর দিয়েছেন প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেছে আর তাবেরী উত্তর দিয়েছে ! সেখানে না প্রশ্নকারী দলীল চেয়েছে আর না মুফতী দলীল দিয়েছেন ৷ এই ধারায় উম্মত আজো আমল করে আসছে ৷ একেই বলে 'তাকলীদ' ! দুলহান : তাকলীদের অর্থ যদি এটাই হয়ে থাকে তাহলে জীবনের প্রথম আজ এই অর্থ শোনলাম ৷ তবে সারতাজ! তাকলীদের এই অর্থ তো অভিধানে পাওয়া যায় না৷ অভিধান অনুযায়ী তো তাকলীদের অর্থ গলায় হার পরানো এবং কুকুরের গলায় যে পাষ্টা বাঁধা হয় ! সুহাইল : আপনার অভিধান আপনার কাছেই থাকুক ৷ যদি নেক আমলের ব্যাখ্যা অভিধান দিয়ে করা হয় তাহলে সমস্ত আমল গোল্লায় যাবে৷ দুলহান : তা আবার কিভাবে? সুহাইল : শুনুন! মূর্থদের রুহানী সন্তান শুমুন ৷ ১. নামাযকে আরবীতে 'সালাত' বলে ৷ সালাতের আতিধানিক অর্থ হল, "নিতম্ব হেলানো | আভিধানিক এই অর্থে আজ omor নৃত্যকারীদের সবচেয়ে বড় নামাযী বলা যাবে ৷ যদি নার্গিস এই চ্যলেঞ্জ করে বসে যে, সবচেয়ে বেশী নামায পড়ি আমি ৷ তাহলে তা খণ্ডন করা আহলে হাদীসদের পক্ষে সম্ভব হবে না৷ তাইতো আপনাদের আলেম ইহসানে ইলাহী যহীর, আব্দুল্লাহ রুপড়ী, শামশাদ সালাফী, বদীউদ্দীন thats, nh হুসাইন দেহলভী, গজনভী প্রমূখ আলেমদের রমণীগণ হয়ত সারা জীবন কখনও নামায পড়েন নি৷ তারা যখন মসজিদ হতে এসে জিজ্ঞেস করত নামায? তাদের মহিলাগণ বসে বসেই নিতদ্ব/|]৮5 হেলিয়ে বলে দিত যে পড়ে নিয়েছি ৷ (সূহাইল রাগে বলতে থাকে |) দুলহান : রাত অনেক হয়েছে৷ ক্ষান্ত করুন৷ সামনের রাতে আলোচনা হবে৷ বিবাহর উদ্দেশ্যও তো পুরা করতে হবে! সুহাইল বলল, হলে আজ ইবনে কাইয়যেন এর বর্ণিত তৃতীয় তরীকার পরীক্ষা হয ত পারে বে-নযীর ভুট্টোর কোন বদল পৃথিবীর আলো দেখবে: (উত্ , এরই ছয় ঘন্টা পূর্বে বে-নীর ভুট্টো নিহত হয়েছিল 
Share:

৫ ম রাত


বাতের খাবার খেয়ে সুহাইল কামরায় প্রবেশ করল ! দুলহান তখন দাঁড়িয়ে ইস্তিকবাল করল ৷ তার চেহারা খুশীতে ঝলমল করছিল ৷ সুহাইল : খবর ভাল তো! দুলহান : সারতাজ! আপনার দলীলের দুর্বলতা শোনে মন বেজায় খুশি সারতাজ! যে কিতাব হতে আপনি দলীল পেশ করেছেন, সে কিতাবেই তা যরীফ হওয়ার কথাও লিখা আছে ৷ সুহাইল : আচ্ছা তিরমিযীতে কি লেখা আছেঃ? দুলহান : সারতাজ! ইমাম বুখারীর উস্তাদ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ, এই রেওয়ায়াতের ব্যাপারেই বলেছেন : " =. " অর্থীৎ এই হাদীসটি ছাবেত নয় | সুহাইল : জানেন কি ইবনে মুবারক কে? দুলহান : শ্ৰী না ৷ সুহাইল : মুহাদ্দিসগণের সারতাজ, Hog Foi ths tn আবু হানীফা রহ, এর শাগরেদ ও তাঁর মুকাল্পিদ ছিলেন ৷ কোন রেওয়ায়াত সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ভিত্তি হল তার সনদ ৷ এই হাদীসের সকল রাধী সহীহাইন তথা বুখারী ও মুসলিমের রাবী ৷ দুলহান : সমস্ত রাবী বুখারী ও মুসলিমের? সুহাইল: হা! দুলহান : তাহলে ইবনে মুবারক রহ, ৩০ ৬) কেন বললেন? সুহাইল : আপনি প্রথমে সনদের রাবীদের অবস্থা শোনে নিন ৷ তারপর ও সান্তনা না পেলে ৩২% ৬) এর উদ্দেশ্য বুঝিয়ে দেব! দুলহান : খুব ভাল! সুহাইল : বলুন তো তার প্রথম রাবী কে? দুলহান : আমি কি জানি! আমাদের তো দলীলের রাবী জানা থাকে না | তবে তোতা পাখীর ন্যায় গতানুগতিক কিছু কথা জানা থাকে ! সুহাইল : তবে শুনুন! এই হাদীসের প্রথম রাবী হলেন: ১. ইমাম তিরমিযী রহ, ! তিনি প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ইমাম বুখারী রহ, এর শাগরেদও আবার অন্য দিক থেকে উস্তাদও ৷ ২. দ্বিতীয় রাবী হলেন, " হান্নাদ রহ.' | তার সম্পর্কে 'তাকুরীব' 'তাহযীব' ও 'তাষকিরাহ' এর ভাষ্য হল, 'আল ইমাম' আল-হাকেম' "ছিকা' 'সাদুক" ৷ কুতাইবা বলেন, ইমাম ওয়াকী' রহ, তাকে সবচেয়ে বেশী সম্মান করতেন ৷ ইমাম আহমদ রহ. বলতেন, 'হান্নাদকে মজবুতভাবে ধর" ৷ ইমাম বুখারী ]| 9» 3 অধ্যায়ে এবং ইমাম মুসলিম পৃষ্ঠা নং ২১৭, ২৯১, ৩৮৫/১ তে তার থেকে রেওয়ায়াত নিয়েছেন ৷ ৩. তৃতীয় রাবী হলেন, ওয়াকী' ইবনুল জাররাহ" ৷ তাঁর ব্যাপারে বর্ণিত প্রশংসা বাণী হল : 'আল-হাকেম' Taq Tien 8৮৮ ১৪ | আর ইমাম আহমদ রহ, বলেন, ৭188] ^^] ৩৮৪ . slr 914 liked (§ Boo! s olite wal jle " 
all G eu আল্পামা ইবনে মাঈন বলেন, ১ ৬১১) ' এড ট্রি) ০0,০১9 ৩৮৪ এ ৯! ) > মুহাদ্দিসগণ এই সমস্ত উপাধী দিয়ে তার প্রশংসা করেছেন ৷ ইমাম আবু হানীফা রহ, এর শাগরেদ ৷ ইমাম বুখারী ও মুসলিম তার রেওয়ায়াত গ্রহণ করেছন ৷ ৪. চতুর্থ রাবী হলেন, হযরত সুফিয়ান-ছাউরী রহ, | তার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের উক্তি নিম্নরূপ : * আল-ইমাম, শাইখুল ইসলাম, সাইয়্যেদুল হফফায ! * হযরত ওয়াকী' রহ, বলেন, সুফিয়ান হলেন সমুদ্র | * আল্লামী কাত্বান বলেন, * ইবনে মুবারক রহ, বলেন, ৬১৯×৬-^.০|০%১| + @.) Peo * B01 SIB TEM qrietell mel Ace 4,45 lable (483 Cqvelld * বুখারী ও মুসলিম তার থেকে রেওয়ায়াত গ্রহণ করেছেন ৷ ৫. পঞ্চম রাবী হলেন, 'আসেম ইবনে কুলাইব' ৷ তার সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের উক্তি হল: (wa sls he)) 4501 et chet! 6 . TY 9০,৬৮০ এট ইমাম বুখারী ও মুসলিম তার থেকে রেওয়ায়াত গহণ করেছেন ৷ ৬. ষষ্ঠ রাবী হলেন : আব্দুর রহমান ইবনে আসওয়াদ ৷ তীর সম্পর্কে ইবনে হিব্বান, ইবনে শাহীন ও ইমাম 'ইজলী প্রমূখ মুহাদ্দিসগণের রায় হল ৬১১৩ ,)8১)৬দ্রা১:০১),)ত৯০ ^ .এডবরা ৭. সপ্তম রাবী 'আলকমা ইবনে কুয়স | নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়েই তার জন্ম ৷ মুহাদ্দিসগণ তাকে এ ৩০ ঞ লিখেছেন! তিনিও সহীহাইনের রাবী ৷ ৮. অষ্টম রাবী হলেন : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. | যিনি শুধু সাহাৰী এতটুকুই নয়; বরং তিনি সাহাৰীগণের মধ্যে বড় ফকীহ ছিলেন ! কি বেগম সাহেবা কেমন লাগল? কি রায়? সকল রাবী বুখারী ও মুসলিমের কি নাং ইবনে মুবারক রহ, এর প্রশ্নের কোন বাস্তবতা আছে কি? না খতম হয়ে গিয়েছে? দিল শান্ত হল কি? বহছ কোন ফলাফল পর্যন্ত পৌছেছে কি? এখন বাতেল মাসলাক ছাড়বেন কি না? বিবাহ দোহরানোর ইচ্ছা আছে কি? আমি কি অন্য বিবাহ করে নিব? দুলহান : (থাম মুছতে মুছতে) আল্লাহর কসম এখন তো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে ৷ হক ও বাতেল পরিস্কার হয়ে গিয়েছে ৷ গায়রে মুকাল্লিদদের মিথ্যার ঝুলি খুলে গেছে৷ সারতাজ আপনি খেয়াল করেছেন কি? আজ জীবনের প্রথম আমি আহলে হাদীসদেরকে গায়রে মুকাল্পিদ বললাম? সুহাইল-তার কথা কেটে বলল, এটা কোন নতুন কথা নয় | কেননা তারা তো গায়রে মুকান্পিদ-ই৷ তবে আপনার বলার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে আপনার হেদায়াতের সময় নিকটবর্তী | দুলহান : সারতাজ! অবশ্যই আমার হেদায়াতের সময় এসে গিয়েছে ৷ আমি সর্বপ্রথম আমার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা চাচ্ছি! তারপর আপনার নিকটও ৷ আমি ঘোষণা করছি যে, আমি বাতেল মাযহাব ছেড়ে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাসলাক গ্রহণ করলাম ! গায়রে মুকাল্পিদদের মিথ্যা মাযহাবের উপর হাজারো মর্তবা অভিশম্পাত | তো বিবাহ দোহরানোর জন্যে কাউকে ডাকার পূর্বে অধিক শান্তনার জন্য একটি বিষয় জানতে চাই তা হল, সনদ এত উত্তম হওয়া সত্বেও ইবনে মুবারকের ৬) ৩ বলার হেতু কি? সুহাইল মুচকি হেসে বলল, হযরত ইবনে মুবারকের এই জবাবটি মুবহাম (অস্পষ্ট) ৷ যা উসুলে হাদীসের আলোকে অগ্রহণযোগ্য ৷ ( আল-কেফায়া, যুকাদ্দামায়ে ইবনে সালাহ, শরহে নুখবা]* _ আপনি কি এ বিষয়টি লক্ষ করেন নি যে ইমাম তিরমিযী এই হাদদীসটিকে হাসান বলেছেন? এর দ্বারা কেন যেন তিনি ইবনে মুবারকের উক্তিকে প্রতিহত করে দিলেন ৷ বেগম! আপনি কি চিন্তা করেছেন যে, যদি কারো শুধু মাত্র = ) বলার দ্বারা হাদীস 'আমল করার অযোগ্য সাব্যপ্ত হত তাহলে এই তিরমিধীতেই >^. ^*)11 ০৮৮১ অধ্যায়ে হাদীসে আৰী সালেহ সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদীনীর উক্তি ৩০২ ০3 দলীল বিহীন হওয়ার কারণে অগ্রহণযোগ্য ৷ এমনিভাবে এই হাদীসেও ইবনে মুবারকের উক্তি দলীল বিহীন হওয়ার কারণে অগ্রহণযোগ্য | দুলহান বলে উঠল : বাহ ! কি সুন্দর কথা! একেই বলে ইলম ৷ সুহাইল : এখানেই শেষ নয় | এই হাদীসটি ইবনে মুবারকের নিকট সহীহ সনদে না পৌঁছায় তিনি ৬৯ ৬) বলেছেন! যেটা ইমাম তিরমিযী নকল করে রদ্দ করেছেন ৷ কিন্তু ইবনে মুবারক যখন কৃফায় তাশরীফ নিয়ে যান এবং হযরত সুফিয়ান ছাউরী এর হাদীসের মজলিসে এই হাদীসটিই সহীহ সনদে পেলেন তখন তিনি নিজ এলাকায় ফিরে যেয়ে নিজ সনদে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ দুলহান : ইবনে মুবারক কি এই হাদীসটি নিজ সনদে বর্ণনা করেছেনঃ Tt: g i an ami (s) am arie «% রেওয়ায়াতটি নকল করেছেন৷ দুলহান রাগে বলল, আল্লাহ তাআলা গায়রে মুকাল্পিদদেরকে ধ্বংস করুন ৷ যারা মিথ্যার উপর মিথ্যা বলে লোকদেরকে গোমরাহ করছে? সারতাজ! ক্ষান্ত হোন ৷ আপনি তো তাদের সমস্ত গোপন বিষয় ফাঁস করে দিলেন ! যদি আপনার ও আমার সব কথা-বার্তা লোকদের সামনে এসে যায় তাহলে হাজারো লোক হেদায়াত পেয়ে যাবে ৷ আয় আল্লাহ আমার পিতা-মাতা ও বংশের অন্যদেরকেও হেদায়াত দান করুন ৷ (দুলহানের চোখ থেকে ফোটা ফোটা অক্র ঝরছিল !) এখন, এখন ৷ (এটা বলে দুলহান চুপ হয়ে গেল |) সুহাইল : এখন আর কি থেকে গেল? দুলহান : কিছু না বিবাহ দোহরানোর জন্য কোন আলেমকে ডেকে আনুন ৷ সুহাইল : বাহ! আমার ভাগ্য! বেগম! কাকে ডাকব? দুলহান : সারতাজ! আপনার বন্ধুকে ৷ সুহাইল : ওই যে আমার লোহা বিক্রেতা বন্ধু? দুলহান: জী, হাঁ! তবে ভবিষ্যতে তাঁকে এমন বলবেন না ! আপনি কি জানেনঃ সুহাইল : মানে কি? দুলহান : আপনার বন্ধু তো অনেক বিজ্ঞ আলেম | আর তিনি যার শাগরেদ গায়রে মুকাল্পিদরাও ঘরের ভিতরে তার ইলমের কথা স্বীকার করে | তার মুকাবেলার কোন হিম্মত তাদের ছিলনা ৷ তাই সামনে থেকে আদবের সাথে তাঁর নাম নিবেন ৷ যদি আপনার ভাগ্যে তার সাহচর্য অর্জন না হত তাহলে আজ আমাদের পথ ভিন্ন ভিন্ন হতো ৷ সুহাইল : অত্যন্ত ঠিক বলেছেন ৷ সুহাইল : বেগম! মাওলানা তাশরীফ নিয়ে এসেছেন ৷ দুলহান : তাশরীফ আনুন | বিবাহ দোহরানোর পর মজলিস শেষ হয় ৷ তখন বাজে রাত দুটো ৷ দুলহানের চিন্তা ছিল আজ যেন অতীত রাত্রগুলোর কুযা হয়ে যায়৷ সুহাইলের ফিকির ছিল কিভাবে হুযুর সাল্পাল্লাহ্য আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত বাড়বে! প্রত্যেকেই নিজ চিন্তা ও বাসনার পূর্ণতায় লেগে গেল! এদিকে বিদ্যুৎ চলে গেল ৷ তাদের জন্য আরও সহজ হল | সুহাইল দ্বিতীয় বারে কণ্মে লূত এর পদ্ধতিও অবলম্বন করতে চাইল যা গায়রে মুকাল্লিদদের মাযহাব ! আওয়ায এলো, গৌনাহ হবে ৷ সূহাইল : বুখারী মোতাবেক 'আমল করলে গোনাহ হবে? দুলহান : এটা কি বুখারীতে আছেঃ সুহাইল: ড্বী, হাঁ! দুলহান : জনাব! বাদ দেন ৷ যখন আমি এই মাসলাকই ছেড়ে দিয়েছি তখন আর তাদের মাসআলা আমার উপর প্রয়োগ করবেন কেন? সুহাইল : তাহলে চলুল! রাফয়ে রিজলাইন এর পদ্ধতি পরীক্ষা করে নিন ৷ দুলহান : এর কি আবার অনেক পদ্ধতি আছে না কি? সুহাইল : আপনি কি ইবনে তাইমিয়া এর নাম শোনেন নিঃ দুলহান : অবশ্যই শোনেছি ৷ তিনি তো উচ্চ পর্যায়ের আলেম ৷ তাকেঁ শাইখুল ইসলাম বলা হয় ৷ গায়রে মুকাল্পিদগণ তাঁকে ইমাম ও অনুসরণীয় মানে ৷ (দুলহান বলতে থাকে |) সুহাইল : শুনুন! আপনাদের শাইখুল ইসলাম ভিন্ন পথ অবলম্বন করে ছিলেন ৷ তিনি আহলে সুন্নাহ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান ৷ লোকেরা তাঁকে আহলে সুন্নাহ হতে খারেজ মনে করে ৷ ওই দিকে গেলে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে ৷ শুধু মাত্র কয়েকটি বিষয় শোনাচিছি ৷ ১ সকল আহলে সুন্নাহ এ ব্যাপারে ঐক্যমত যে, তিন তালাক দিলে তিন তালাকই হয় ৷ কিন্তু ইবনে তাইমিয়া তা অস্বীকার করেছেন ৷ এই মাসআলাতে তিনি ইয়াহুদী ও শিয়াদের তাকলীদ করেছেন ৷ বর্তমানে গায়রে মুকাল্পিদরাও ইয়াহুদী ও শিয়াদের তাকলীদ করছে | ২ . সংখ্যাগরিষ্ট আহলে সুন্নাহ এর ঐক্যমত হল নবীগণ (আঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণের উসীলায় দু'আ করা জায়ে আছে ৷ কিন্তু ইবনে তাইমিয়া তা অস্বীকার করেন ৷ ৩ . নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওযা মুবারকের যিয়ারতের উদ্দেশ্য সফর করা জুমহুরে আহলে সুন্নাহর নিকট জায়েয বরং পসন্দীয় আমল কিন্তু ইবনে তাইমিয়া এটাকে না জায়েয বলেন | ৪. আল্লাহ আল্লাহ যিকির করা আহলে সুন্নাহর নিকট জায়েয ৷ অপর দিকে ইবনে তাইমিয়া তা অস্বীকার করে না জায়েয লিখেছেন ৷ এমনিভাবে সুহাইল বলতে থাকে ৷ দুলহান বিস্ময়ে : জনাব! এই সব বিষয় তো এই প্রথম আমার সামনে আসল নতুবা এমন ভুল আকীদা তো গাইরে মুকাল্পিদদের ছিল না৷ সুহাইল কথা কেটে বলল, তাদের এমন আকীদা নেই কে বলল, তবে তারা সবাইকে তাদের সব আকীদার কথা বলে না ৷ যেন লোকেরা তাদের দলকে না করে ৷ সুহাইল : আপনি কি তার বিশিষ্ট শিষ্য ইবনে কাইয়্যিম রহুকে চেনেন? Tak : t, হা! তিনি তো অনেক উঁচু দর্জার আলেম ছিলেন৷ তার অনেক পুস্তক আছে৷ তার সমকক্ষ ইবনে তাইমিয়ার কোন শাগরেদ নেই সুহাইল : এই ইবনে কাইয়্যিম রহ,ই ফ্রি ফ্রি শ্বীয় উস্তাদের ওকালতী করেন এবং তার সমস্ত ভুল আকীদাকে দলীল ভিত্তিক প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে অকৃতকার্য হন৷ Tem wrod হয়ে জিজ্ঞাসা করল ৷ আচ্ছা! এত বড় বড় ব্যক্তিত্ব এমন ভুল আকীদা পোষণ করতেন কেন? সুহাইল : আসল কথা এটাই যে, যখন মানুষ নিজেদের বড়দের উপর আস্থা হারিয়ে স্বীয় জ্ঞান বুদ্ধির পেছনে পড়ে তখন সে নিজেই সরল পথ হতে ছিটকে পড়ে৷ দুলহান : আয় আল্পাহ! আপনার শোকরিয়া ৷ আমার পিতা-মাতা তো দুনিয়ার লোভে পড়ে আপনার কাছে বিবাহ দিয়েছিলেন ৷ আর আল্পাহ তাআলা আমাকে হেদায়াত দান করলেন ৷ অন্যথায় না জানি কত আহলে ইলম ও বুযুর্গানে দ্বীনদের গাল-মন্দ করতাম ৷ আর নিজেদের ভুল দৃষ্টিভঙ্গিকে শুদ্ধ মনে করে তার উপর জমে থাকতাম ৷! সুহাইল : আপনি কি ইবনে কাইয়্যিম এর কোন কিতাব পড়েছেন? দুলহান : জী, হা! কিন্তু সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর তাঁর কিতাব অতুলনীয় ৷ সুহাইল বলল, সেটা কোনটা, 'যাদুল মা'আদ ফী সীরাতি খাইরিল ইবাদ"? দুলহান : জী, হা! সুহাইল : আল্পামা ইবনে কায়্যিম এই কিতাবেই দুলহানের সাথে মিলনের চার পদ্ধতি লিখেছেন | অন্যথায় আমার বন্ধু বলতেন ষাট তরীকা ৷ দ্বিতীয় তরীকা হল রাফয়ে রিজলাইনের৷ দুলহান : আপনার বন্ধুর তাকলীদ করলে আজই আপনাকে চার বিবাহর অনুমতি দিলাম ৷ সেখানে আপনি ষাট তরীকা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন ৷ আর শুধু আমাকে নিয়েই থাকতে চাইলে ইবনে কাইয়্যিমের চার তরীকায় ধারণ করুন ৷ 
Share:

বিয়ের প্রথম দশ রাত... চতুর্থ রাত

চতুর্থ রাত
সুহাইল কামরায় অপেক্ষায় ছিল ৷ এমন সময় দুলহান মুখ ভার কর্ থা ঝুঁকিয়ে কামরায় প্রবেশ করল এবং সোফার এক কোণে মাথা ঝুঁকিয়ে বসে পড়ল।সুহাইল : মনে হয় আপনার ডাল গলেনি ৷ আমার আজ পূর্ণ বিশ্বাস হল! দুলহান : (ক্ষীণ স্বরে) কোন বিষয়ের? সুহাইল : আমার লোহাবিক্রেতা বন্ধু বলতেন, আমাদের উস্তাদের ইলম লোহার চেয়েও বেশী মজবুত ছিল ৷ দুলহান : আচ্ছা, আপনার বন্ধুর উস্তাদ কে ছিলেন? সুহাইল : হযরত মাও, আমীন সফদর উকাড়ুভী রহ. | একথা শোনা মাত্রই দুলহান বেহশের মত হয়ে যাচ্ছিল ৷ মনের অজান্তেই তার মুখ হতে বের হয়ে গেল, "সত্যিই ম্যাডাম ঠিক বলছিলেন" সুহাইল' : জিজ্ঞেস করল, কী ঠিক বলছিল? দুলহান : না, বাদ দেন ৷ সুহাইল : না, বাদ দেয়া নয় ৷ বাস্তবতাকে স্বীকার করে নেয়া ঈমান ও সহনশীলতার পরিচায়ক ৷ দুলহান : ম্যাডাম বলছিলেন, মাও, আমীন আমাদের উলামাদেরকে বে-ইজ্জতী করে ছেড়েছেন ৷ প্রত্যেক ময়দানেই তাদের নাক কেটে দিয়েছেন ৷ এখন তার শাগরেদরা আমাদেরকে ও অপদস্থ করছে ৷ আমাদের শাগরেদ তো দূরের কথা আমরা নিজেরাও তাদের কাছে অপদস্থ ! দুলহান বলল, এখন আলোচ্য বিষয়ের দিকে আসুন ৷ বুখারীতে আছে হযরত ইবনে উমর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্পামকে দেখেছি তিনি যথন তাকবীরে তাহরীমা বলতেন, তখন রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন৷ এমনিভাবে রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু হতে উঠে রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন ৷ নিন আমি বুখারী হতে দলীল পেশ করলাম যা কিতাবুল্লাহর পর সব চেয়ে সহীহ কিতাব ৷ (এটা বলে দুলহান খুশীতে সুহাইলের দিকে বিজয়ীবেশে হাত বাড়াল এবং বলল,) আপনিও রাফয়ে ইয়াদাইন না করার এ রকম হাদীস দেখান ৷ এখন কোনটা দুধ আর কোনটা পানি তা দেখা যাবে ৷ সুহাইল : মনে হয় আপনি বংশীয়ভাবে গায়রে মুকাল্পিদ ৷ কারণ, মিথ্যার উপর মিথ্যা বলা তাদের কু-অভ্যাস ৷ দুলহান : আমি মিথ্যা বলেছি? সুহাইল : জ্বী হা! 'বুখারী কিতাবুল্লাহর পর সব চেয়ে সহীহ কিতাব এটা কুরআনে আছে না হাদীসে! নাকি শুধু ইবনে সালাহ্ এর তাকলীদ করে মুশরিক হচ্ছেন? অথচ ইবনে সালাহ এর উস্তাদ ইমাম শাফে'য়ী রহ 'মুয়ান্তায়ে ইমাম মালেক" রহ, কে সব চেয়ে সহীহ কিতাব বলেছেন! হানাফী আলেমগণের কোন উসূলে হাদীসের কিতাবে বুখারীকে "কিতাবুল্পাহর পর সব চেয়ে সহীহ কিতাব" বলা হয় নি ৷ যদি দেখাতে পারেন পুরস্কার দশ লাখ ৷ তারপর এর দ্বারা আপনার দলীলও প্রমাণিত হচ্ছে না৷ কারণ, এই হাদীসে রাফয়ে ইয়াদাইনকে না সুর্লাত বলা হয়েছে ৷ আর না এটা আছে যে, হুযূর সান্পাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রাফয়ে ইয়াদাইন করেছেন ৷ আর না এটা আছে যে, যে রাফয়ে ইয়াদাইন করবে না তার নামায হবে না! সুহাইল : মুসলিম শরীফের রেওয়ায়াত শুনুন! হযরত জাবের ইবনে সামুরা রা, বলেন, আমরা নামাঘরত অবস্থায় ছিলাম ৷ ইত্যবসরে হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরীফ আনেন এবং বলেন : " lt ys eliGe af high " 'তোমরা নামাযে ঘোড়ার লেজের ন্যায় হাত নাড়াইও না ৷ ধীরস্থির হয়ে প্রশান্তির সাথে নামায আদায় কর! আমি কুরআন হাদীস উভয়টা দ্বারা রাফয়ে ইয়াদাইন না করা প্রমাণিত করলাম | আপনি এখনও নিজ দাবীর পক্ষে কোন দলীল পেশ করতে পারেন নি৷ আপনাকে ৩১৯টি মাফ করে দিলাম ৷ শুধুমাত্র একটি হাদীস পেশ করুন যা দাবী অনুযায়ী সনদের দিক থেকেও সহীহ হবে! (সুহাইল বলতে থাকে |) এদিকে দুহলান চিন্তা ও পেরেশানীতে নিজের অজান্তেই আহল কামড়াতে থাকে | আর তা থেকে রক্ত বের হতে থাকে সুহাইলের এক শ্বাসে এত লম্বা তাকরীর শোনে কপাল থেকে ঘাম মুহতে মুছতে বলে : আমি বুখারী পেশ করব! আর আপনি বুখারী ছেড়ে অন্য কিতাব পেশ করবেন! আমরা আহলে হাদীস ব্রখারীকে অগ্রগণ্য মনে করি৷ যদি তাতেকোন বর্ণনা পেয়ে যাই তাহলে অন্য কিতাবের বর্ণনার মোকাবেলায় ৩০ একেবারে ছেড়ে দিই না ৷ (দুলহান এই সংক্ষিপ্ত তাকরীর পেশ করে চুপ হয়ে যায় !) সুহাইল : মনে হয় আপনি 'তাকলীদ' করে পূর্ণ মুশরিক হওয়ার ইচ্ছা করে নিয়েছেন ৷ "বুখারী অগ্রগণ্য" এই উসূল কুরআনে আছে না হাদীসে? যদি কোথাও না থাকে তাহলে এই উসূল আপনারা বানিয়েছেন ৷ নিজেরাও কি কখনও এর উপর আমল করেছেন? দুলহান : কেন আমল করি নিঃ সুহাইল : আচ্ছা, শুনুন! ১. বুখারীতে আছে, হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্পাম দাড়িয়ে পেশাব করেছেন ৷ আপনি বা আপনার আম্মা কখনও তা করেছেন? ২. বুখারীতে উটের পেশাব পান করার কথা এসেছে ৷ আপনি, আপনার পিতা-মাতা ভাই-বোন ও আপনার মাসলাকের লোকেরা প্রতিদিন নাস্তায় কত গ্লাস পান করেন? ৩. বুখারীতে আছে, রান সতর না! আপনি এবং আপনার সখীরা কতবার পরে বা সেক্লী আগ্ডরওয়্যার পরে বাজারে বা মসজিদে জুমা ও ঈদের নামায পড়তে যান? ৪. বুখারীতে আছে যে দু'হাতে মুসাফাহা করা চাই! এক হাতের বর্ণনা নেই ৷ আপনারা এর উপর আমল করেন না কেনঃ ৫. বুখারীতে আছে 'আমীন' দুআ ৷ দুআ আস্তে করার কথা কুরআনে আছে ৷ আপনারা এর ব্যতিক্রম করেন কেন? ৬. বুখারীতে আছে "ফিক্হ হল হাদীসের ফল" | আপনারা ফিকহ মানেন না কেন? ৭. বুখারীতে জুতা পরে নামায পড়ার বর্ণনা আছে৷ আপনারা আমল করেন না কেন? দুলহান উঠে সুহাইলের মুখে হাত চেপে ধরল ৷ বলল, বস্ কর ৷ উহ! আর আল্লাহ! এই সব কি বুখারীতে আছে? | সুহাইল : হা, হা এই সব বুখারীতে আছে৷ আরও শুনুন! ৮. বুখারীতে পিছনের রাস্তা দিয়ে সঙ্গমের কথা আছে ৷ আপনার কি এর অভ্যাস আছেঃ না কি গাইরে মুকাল্পিদরা এর উপর আমল করে? দুলহান : সারতাজ! ক্ষান্ত করুন ৷ বুঝে গেছি ৷ আমরা বুখারীকে প্রাধান্য দিয়ে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি ৷ এখন যার দুঃখ-কষ্ট আমাকে পোহাতে হচ্ছে ৷ ৯. বুখারীতে তিন তালাককে তিন তালাক বলা হয়েছে৷ অথচ আপনারা তা মানেন না ! দুলহান : আল্পাহ ম্যাডামকে ধ্বংস করুন | তিনি এই সব বিষয় সরলমনা মেয়েদের সামনে তুলে ধরেননা ! এই সব বিষয় এবং উদ্ধৃতি ম্যাডামের সামনে আসলে তার মাথাও চন্ধর দিবে এবং ইমাম বুখারীকে গালী দেবেন এবং খুবই সম্ভাবনা আছে যে, তিনি আহলে হাদীসের মাসলাকই ছেড়ে দেবেন! সুহাইল : কঠিন, খুবই কঠিন বিষয় | যদি ছেড়েও দেয় তাহলে কাদিয়ানী হয়ে যাবে ৷ ইতিপূর্বেও অনেক আহলে হাদীস কাদিয়ানী হয়ে গেছে ৷ বরং স্বয়ং মীর্জা কাদিয়ানী প্রথমে আহলে হাদীস ছিল ৷ নামাযের মধ্যে আপনার মত রাফয়ে ইয়াদাইনও করত ! দুলহান : এদিক সেদিকের কথা বাদ দেন৷ আমি যদি আপনার কথা মত হাদীস পেশ করি তাহলে? সুহাইল : আমি আমল করা শুরু করে দিব ! দুলহান : সুনানে বায়হাকীতে রেওয়ায়াত আছে : man HEL 6) g6 shes se a ' hid sis bi st gil c* Acts Sis; thas e; 
অর্থাৎ "নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় ববের সা ক্ষাত তথা মৃত্যু পর্যন্ত রাফয়ে ইয়াদাইন করতে থাকেন !" তো আপন সনা পুরা হল তো? এখন ঘোষণা করুন যে, আমি আজ হতে রাফ য়াদাইন করব ৷ সুহাইল : বাহ! আপনি খুব খুশী হয়ে গেলেন ৷ আপনার কি নি বীও স্বরণ নেই? এই হাদীসে কি আছে যে, রাফয়ে ইয়াদাইন সুন্নাত 11 এই হাদীসে কি আছে যে, যে রাফয়ে ইয়াদাইন করবে না তার নামা বাতেল? না! তাহলে আপনি কিভাবে আমার দাবী ও চাওয়া পূরণ করলেন? দুলহান : দেখুন সারতাজ! এই হাদীসে কি নেই যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু পর্যন্ত রাফয়ে ইয়াদাইন করেছেন? সুহাইল : আপনার জানা আছে কি, এই বর্ণনাটি মওযূ' বানানো ও মিথ্যা? দুলহান : না জনাব! ম্যাডাম বলতেন যে, আমাদের কাছে এমন বর্ণনা আছে যার কোন উত্তর নেই , সুহাইল : ১/ এই জি সনদে দুই জন রাবী (বর্ণনাকারী) যারা fla; c ৬} (যে হাদীস বানায় ও মিথ্যুক) (১) একজন হল আব্দুর রহমান ইবনে কুরাইশ ৷ আল্লামা যাহাৰী "মীযানে" এবং আল্পামা ইবনে হাজার রহ, "লিসানে" লিখেন : exnell ৮৯» অর্থাৎ মুহাদ্দিস সুলায়মানী এই বর্ণনাকারীকে হাদীস গড়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন৷ (২) দ্বিতীয় রাবী ইসমত ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারী" | এর ব্যাপারেও আল্লামা যাহাৰী ও ইবনে হাজার রহ, লিখেন : আবু হাতেম বলেন, ইনি শক্তিশালী রাবী নন ৷ ইয়াহইয়া বলেন, এ মিথ্যুক | উকাইলী বলেন, এ ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য) রাবীর দিকে বাতেল বর্ণনার সম্বন্ধ করে৷ আল্পামা দারাকুতনী বলেন, " এ হল মাতত্সক রাবী !" ইবনে 'আদী বলেন, তার সমস্ত রেওয়ায়াত অসংরক্ষিত | সুহাইল শ্লেষমিশ্রিত উক্তি করল, দেখলেন তো রেওয়ায়াত? দ্বিতীয় কথা হল, স্বয়ং ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু হতে উঠার সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না ৷ মুসনাদে হুমাইদী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭৭ ৷ আবু 'আওয়ানা : tp bo, nece (0) তৃতীয়ত : এই হাদীসের রাবী হলেন, ইবনে উমর রা. | তিনি নিজে এর উপর আমল করতেন না ৷ তার শাগরেদ হযরত মুজাহিদ ও আব্দুল আজীজ ইবনে হাকীম বলেন, ইবনে উমর রা, প্রথম তাকবীর ছাড়া রাফয়ে ইয়াদাইন করতে না৷ (কাহাবী১/১, ইবনে আৰী শাইবা ১২৩৭, মুযত্থায়ে মুহাম্মদ : ৯৭১ বুঝা গেল, এই বর্ণনাটি 'মনসূখ" (রহিত) ৷ অন্যথায় হযরত ইবনে উমর রা. কখনও তদুনুযায়ী আমল ছাড়তেন না ৷ দুলহান : আচ্ছা, আপনি দাবী পুরা করে দিন ! তাহলে আমি রাফয়ে ইয়াদাইন ছেড়ে দিব ৷ একটি মাত্র সহীহ হাদীস পেশ করুন ৷ যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাফয়ে ইয়াদাইন না করার বিষয়টি প্রমাণিত; সুহাইল : এখন-ই না বলেছেন কথার কথা ৷ নিন, শুনুন! ইমাম তিরমিযী রহ, তাঁর জামে' কিতাবে বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. স্বীয় শাগরেদগণকে বলেছেন, "আমি কি তোমাদেরকে নবী কারীম সান্পাল্পাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায পড়ে দেখাব? তারপর তিনি নামায আদায় করে দেখান ৷ তিনি শুধু মাত্র প্রথমবার (তাহরীমার সময়) রাফয়ে ইয়াদাইন করেন৷ (তারপর আর করেন নি |) সাহাৰাগণকে মন্দ বলনেওয়ালারা! মনোযোগ দিয়ে শুনুন! এই হাদীসটি ষাট সনদে বর্ণিত ৷ সুতরাং কেমন যেন আমি একসাথে ষাটটি হাদীস পেশ করে দিলাম ! আর আল্লামা আব্দুল গাফফার যাহাৰী এই শিরোনামে সাত শত রেওয়ায়াত একত্রিত করেছেন! যদি কারো ভাগ্যে হেদায়াত না থাকে তাহলে সাত হাজারও কোন কাজে আসবে না ! দুলহান : আল্লাহ আকবর' ৷ আপনার দলীল তো অত্যন্ত স্পষ্ট৷ তারপর আবার ষাট সনদে বর্ণিত হওয়া তো তার শক্তিশালী হওয়ার দলীল ! এখন তো হাদীস মেনে রাফয়ে ইয়াদাইন ছেড়ে দেয়া উচিত ৷ কিন্তু........... ! সুহাইল : কিন্তু কি.....? হাদীস দেখার পর তার কোন সুযোগও নেই ৷ দুলহান : আর আমার কাছে এর কোন উত্তরও নেই৷ তারপরও আজ আমার ম্যাডামের সঙ্গে যোগাযোগ করব ৷ তিনি এই হাদীসের ব্যাপারে কি বলেন, বাহ্যিকভাবে মনে হয় না যে তিনি কোন জবাব দিবেন ৷ (দুলহানের চোখ নিচে নেমে যায়) তারপরও আপনি তো সন্তষ্ট হয়ে যাবেন! সুহাইল : আমার পিতা-মাতা যে কি উদ্দেশ্যে আপনার সাথে আমাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে ছিলেন! আপনি তো লাগাতার আমার সাথে তর্ক বিতর্ক জুড়ে দিয়েছেন ৷ দুলহান : না, কখনও না ৷ আমাদের আলেমদের ফতওয়া মোতাবেক আপনার সাথে আমার বিবাহ বৈধ হয়নি ৷ এই বহছ কোন ফলাফলে পৌছলে আমি আমার মাসলাক ছেড়ে দিব ৷ তারপর...... ! সুহাইল : রাগান্বিত হয়ে বলল, তারপর কি? দুলহান বলল, তারপর বিবাহ দোহরিয়ে নিব ৷ (এটা বলেই সোফা থেকে উঠে যায় এবং বলে,) সারতাজ! আমি এক্ষুণি নাস্তা আনছি ৷ সুহাইল মনে মনে ভাবতে লাগল, খোদা না করুন যদি এই বহছ মাসব্যাপী হয় তাহলে আমার বিবাহের কি ফায়দা? তার চেয়ে ভাল এখনই অন্য বিবাহ করে নিই তাহলে চোখও অবনত হবে এবং লজ্জাস্থানের হেফাযতও হবে ৷ তারপর যদি তার ভাগ্যে হেদায়াত থাকে তাহলে দ্বিতীয় বিবাহ করে নিব | এতে কুরআনের পসন্দনীয় হুকুমের উপর আমল হয়ে যাবে ! " ১৮৩2}! 22 fis] cis " অন্যথায় এই নতুনটি নিয়েই থাকলে বাপ-দাদার সুন্নাত তো যিন্দা হয়ে যাবে! তাদেরও একটিই ছিল ! দুলহান : সারতাজ! নাস্তা প্রস্তুত ৷ সুহাইল : আচ্ছা! 
Share:

বিয়ের প্রথম দশ রাত... তৃতীয় রাত

তৃতীয় রাত: দুলহান : (সুহাইল রাতে দেরীতে বাসায় ফিরায় অভিযোগের সু ত দেরী কেনঃ সুহাইল : বস, আজকে....... (সুহাইল চুপ হয়ে যায় !) দুলহান চোখ মলতে মলতে জিজ্ঞাসা করল, "বস আজকে... এর মা: 
সুহাইল : কিছু 'আহলে হাদীস' বন্ধুদের কাছে দাওয়াত ছিল৷ দুলহান : বন্ধুদের কাছে দাওয়াত? yee: G $1 দুলহান : বহুত আচ্ছা! আপনার এবং আপনার বন্ধুর বিবাহর পর প্রথম দাওয়াত | তাও আবার বেগম ছাড়া ৷ সুহাইল : না, এমন নয় আপনারও দাওয়াত ছিল৷ কিন্তু..... দুলহান: কিন্তু, কি? সুহাইল : তাদের কড়া শর্ত আর আপনার মাযহাব আমার জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পাইয়ে দিয়েছে | দুলহান : তা আবার কেন? সুহাইল : তাদের কড়া নির্দেশ ছিল যে, প্রত্যেকে নিজ নিজ মাযহাবের পোষাকে আসতে হবে! দুলহান : এতে কি হল, এটা তো এমন কোন কড়া শর্ত ছিল না ৷ সুহাইল রাগে..... এমন কোন কড়া শর্ত ছিল না? (আপনাদের উলামারা লিখেছে: "রান ঢাকা জরুরী নয় !" এর পরিষ্কার অর্থ ছিল আমি আপনাকে পরে যেতে বলতাম ৷ তখন কি আপনি প্রস্তুত হয়ে যেতেন? দুলহান : জিবে কামড় দিয়ে, কক্ষনো না! (এবং মাথা ঝুঁকিয়ে নেয়) সুহাইল : এখন মাথা ঝুঁকালে কি হবেঃ আপনার মাসলাক-ই এমন যে, তদুনুযায়ী আমল করা যায় না ৷ দুলহান : আমি কান চোখ বন্ধ করে উলামাদের কথা মানি না যে, তারা যা বলবে তাই মেনে নিব ৷ আমরা তো কুরআন হাদীস মানি ৷ বিশেষ করে বুখারী শরীফের হাদীস ৷ রাফয়ে ইয়াদাইনের ব্যাপারে তো বুখারী শরীফের হাদীসের এক স্তূপ পেশ করতে পারব ৷ এই জন্যই তো আমরা কারো মুকাল্পিদ হই না ! তাকলীদের মধ্যে লজ্জিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই৷ সুহাইল : আপনার বুখারীতো আমাকে লজ্জিত করেছে | দুলহান হয়রান হয়ে জিজ্ঞেস করল, তা আবার কিভাবেঃ সুহাইল : আমি আপনার ওকালতী করে বলেছিলাম কুরআন হাদীসের কথা বলবেন! বিশেষ করে বুখারী শরীফের ৷ দুলহান : তারপর.....? সুহাইল : তারপর আর কি? তখন মাটিতেই দেবে যেতে মন চাচ্ছিল যখন তারা বুখারী শরীফ খুলে আমার সামনে রেখেছিল ৷ ইমাম বুখারী রহ, রান ঢাকা ও না ঢাকার উভয় রেওয়ায়েতই বর্ণনা করেন, তারপর লিখেন যে, রান না ঢাকার রেওয়ায়াত সনদের দিক থেকে অধিক শক্তিশালী ! দুলহান : উহু, আল্লাহ! (কপালে হাত মেরে আরেকবার মাথা ঝুঁকালেন, একটু পরে মাথা উঠিয়ে বললেন:) ইমাম বুখারী এটা কী লিখে ছিলেন ৷ সুহাইল : ইমাম বুখারী রহ, কে ভর্ধসনা করার পূর্বে নিজ মাসলাকের ব্যাপারে একটু ভাবুন ৷ যারা কথায় কথায় হাদীসের উপর আমল করার দাবীদার ৷ (সুহাইল বলতে থাকে) দুলহান : সারতাজ আমার! থামুন! থামুন! Tere : €, বেগম! দুলহান : মরুভূমিতে মাহবুবের উজাড় ঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখে যেমনি ভাবে মাহবুবের ঘর ও সেখানের বিভিন্ন বিষয় মনে পড়ে যায় আমারও তেমন মনে হচ্ছে | আপনার কি এমন মনে হয় না যে, মুজতাহিদীন ফুকাহায়ে কেরামদের অনুসরণের মাধ্যমেই কুরআন-হাদীসের উপর আমল করা উচিত | তারা তো বলতেন, সুন্নাহ আমল যোগ্য ৷ প্রত্যেক হাদীস আমল যোগ্য নয় ৷ এর পরিস্কার অর্থ কি এটা নয় যে, "আহলে সুন্নাহ" এর মাসলাক-ই সঠিক? সুহাইল : আমারও তাই মনে হয় | দুলহান : কিন্তু আমি কোনভাবেই বুখারী শরীফ ছাড়তে পারব না ৷ সুহাইল : ঠিক আছে! কিন্তু বুখারী অনুযায়ী আমলটা করবে কে? দুলহান : কেন, আমি আমল করব ৷ সুহাইল : ভেবে নিন ৷ পরে যেন এমন না হয় যে, স্বয়ং ইমাম বুখারী রহ, এর প্রতিই তিরস্কার আর ভর্ধসনা করতে লাগেন ৷ দুলহান : এমনটি হবে না ৷ ইমাম বুখারী আমীরুল মুহাদ্দিসীন, তার ছয় লক্ষ হাদীস মুখস্থ ছিল ৷ সুহাইল : এখন-ই দেখা যাবে যে, আপনি ইমাম বুখারী রহ, এর কয়টি কথার উপর আমল করতে পারেন৷ (এটা বলে সামনে একটা ক্ষুর রাখল) ' দুলহান : এটা আবার কি জন্য? সুহাইল : আপনার ইমাম বুখারী হাদীস নকল করেছেন ৷ (আপনি যার কথা মানার দাবী করেছেন |) ৬১৮1 }2!}| অর্থাৎ নারী-পুরুষ উভয়ের খৎনা হয় | বুখারীর উপর আমল করতে হলে এখন আপনাকে খৎনা করতে হবে, করাবেনঃ দুলহান রাগের মাথায় বললেন, কি বললেন? কি বললেন? নিজ চেহারা দেখতে পাচ্ছেন তো? আমার খৎনা করাতে চাচ্ছেন ৷ আপনারটা হয়েছে Col? সুহাইল : এখন রাগ রেখে দেন ৷ এটা কথা ৷ আমার খৎনা হয়েছিল ৷ কিন্তু চামড়া নিয়ে গিয়েছে জামাতে ইসলামী ওয়ালারা ৷ এখনও রসিদ সংরক্ষিত আছে ৷ এখন আপনার পালা ৷ চামড়া দিব আপনার সৈন্যদল "লশকরে তাইয়্যিবা" ওয়ালাদেরকে ৷ আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে ক্ষমা করবেন৷ সামনে কখনও বুখারীর নাম নিব না ৷ a সুহাইল : না, না! একটি gis oof fim mace দেবেন | যেন আরও একশ শহীদের সওয়াব হয় ৷ দুলহান : সারতাজ! মেহেরবানী করুন ৷ (কিছুক্ষণ চুপ থেকে) আপনি আলোচনার মােড় ফিরাচ্ছেন কেন? মনে হয় আপনার এখন নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করতে হবে৷ এ জন্য আলোচনার মাঝে নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আসছেন ! (দুলহান বলতে থাকে !) সুহাইল : মন দিয়ে শুনুন | ইজতিহাদের মূলনীতি হচ্ছে কিতাবুল্লায় কোন মাসআলা থাকলে অন্য কোন উৎসের দিকে যাওয়া যাবে না৷ কিন্তু আপনি স্বীয় পুরা করে নিন৷ স্বীয় মাসলাক প্রমাণিত করার জন্য হাদীস পেশ করুন৷ দুলহান : একটা কেন চারশত হাদীস পেশ করব ৷ আপনি হতভম্ব হয়ে যাবেন ৷ তবে আগে আপনার মাসলাক পরিস্কার করুন ৷ আপনার নিকট কি রাফয়ে ইয়াদাইন সুব্লাত? সুহাইল : ড্ৰী, হ্যা | (সুহাইল প্রশ্ন করল) হুযূর সাল্পাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সারা জীবন রাফয়ে ইয়াদাইন করেছেন? দুলহান: জী, হী! তিনি আজীবন তা করেছেন | সুহাইল : যে রাফয়ে ইয়াদাইন করবে না তার নামায কি বাতিল? year :@ gn সুহাইল : আমি আপনার নিকট দলীল চাওয়ার পূর্বে আগে আপনি বলুন সুন্নাত কাকে বলে? দুলহান : এটাও কি কোন প্রশ্ন হল ৷ প্রত্যেকেই জানে যে আল্লাহর রাসূল যে কাজ করেছেন তাই সুন্নাত ৷ সুহাইল : সুন্নাতের এই সংজ্ঞা কুরআনে আছে না হাদীসে? (সুহাইল মুচকি হেসে) এর মানে তো হল, 'আযান দেয়া সুন্নাত নয়' নামাযের ইকামাত দেয়াও সুন্নাত নয় ' কেননা হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামতো নিজে এগুলো করেন নি৷ তরে এগার বিবাহ সুন্নাত ৷ কেননা তিনি করেছেন ৷ অথচ আপনি 'আহলে হাদীস' হয়ে আমাকে দিতীয় বিবাহর অনুমতি দানে তৈরী নন ৷ (সুহাইল বলতে থাকে) দুলহান হতভম্ব হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে ৷ আর মনে মনে ভাবতে থাকে সেতো দাড়ি রাখেনা, তার পোষাকও সুন্নাতী নয় | কখনও কখনও ফরয নামাযেরও পরওয়া করে না৷ কিন্তু কথা থেকে কথা বের করে করে আমাকে নিরুত্তর করে যাচ্ছে! মাথা ঝুঁকিয়ে চিন্তা করছিল যে, এবার এমন হামলা করব যেন মুখ বন্ধ হয়ে যায় ৷ দুলহান : (মাথা উঠিয়ে রাগে) আমার সুন্নাতের সংজ্ঞা জানা নেই ৷ কিন্তু আমি এ কথা মানি যে, তার ছয় লক্ষ হাদীস মুখস্থ ছিল ৷ (এটা বলে তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল ৷ মনে হয় সে হামলা করে বিজয়ী হয়েছে !) সুহাইল : আপনিও কি নিজ উলামাদের ন্যায় মিথ্যার আশ্রয় নিলেন? এটার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই যে, কার ছয় লক্ষ হাদীস মুখস্থ ছিল ৷ আর কার সতেরটি! সতেরটি হাদীস ওয়ালা তো আমাদেরকে নামায, রোযা, হজ্তু, যাকাতসহ সব কিছুর সমস্ত মাসআলা বিস্তারিত ভাবে বুঝিয়ে দিলেন ৷ এ জন্য আমরা তার তাকলীদ করছি ৷ অপরদিকে ছয় লাখ ওয়ালা নামাযের এক রাকাতের মাসআলাও বলতে পারেন নি ৷ তাই আমরা তার তাকলীদ করিনি ৷ (সুহাইল বলতে থাকে) দুলহান : বুখারীতে কি নামাযের মাসায়েল নেই? সুহাইল : বিলকুল নেই ৷ যদি থাকে বলুন: ১. নামাযের নিয়ত কিভাবে করতে হবেঃ ২. তাকবীরে তাহরীমা ইমাম উচ্চস্বরে বলেন, আর যুক্তাদীগণ বলেন, 'আস্তে" ! সহীহ হাদীস পেশ করুন ৷ ৩. যদি মুক্তাদী ভুলে উচ্চস্বরে তাকবীর বলে ফেলে, তার নামায হবে কি at? ৪. তাকবীরের পর যদি কেউ মাথা কিংবা কোমরের পেছনে হাত বাধে নামায হবে কি? ৫. তাকবীরের পর উচ্চস্বরে ছানা পড়লে তার নামাযের কি হুকুম? ৬. যদি ইমাম ভুলে নিম্নস্বরে তাকবীরে yan tf m, তার নামায হবে কি? ৭. কেউ যদি ছানা পড়তে ভুলে যায় এবং তাকবীরের সাথে সাথে কিরাত আরম্ভ করে দেয় তার নামাযের কি হুকুম? v. কেউ যদি উচ্চস্বরে 'আউযুৰিল্পাহ বিসমিল্লাহ" পড়ে তার নামাযের কি হুকুমঃ s. কেট যদি উভয়টি ভুলে যায় বা ইচ্ছা করে ছেড়ে দেয় তার নামাযের কি হুকুম? ১০, রুকুর তাসবীহ উচ্চস্বরে পড়লে নামাযের কি হুকুম? ys. সিজদার তাসবীহ উচ্চস্বরে পড়লে নামাযের কি হুকুম? ১২, রুকু সিজদার তাসবীহ ভুলে গেলে বা ইচ্ছা করে ছেড়ে দিলে তার নামাযের কি হুকুম? স্পষ্ট, সহীহ ও বিরোধপূর্ণ নয় এমন হাদীস বুখারী থেকে পেশ করুন ৷ আমি এখনও এক রাকাতের সব মাসআলা জিজ্ঞাসা করিনি৷ বাকীগুলো পরে জিজ্ঞাসা করব ৷ ইমাম আবু হানীফা রহ, এর প্রতি অভিযোগ করেন৷ লজ্জা লাগে না? দুলহান : সারতাজ! ক্ষমা করবেন, আমার জানা ছিল না যে, আপনি ইলমে এত বড় মর্যাদার অধিকারী | আসলেই এই সকল মাসআলার ব্যাপারে বুখারী কোন হাদীস নকল করেননি ৷ Tela : তারপর.....? দুলহান : তারপর কি? আপনি আরাম করুন ৷ কাল আমি ম্যাডামের সাথে সাক্ষাত করে আপনার সমস্ত মাসআলার সমাধান নিয়ে আসব ৷ সুহাইল : খুব ভাল ৷ ম্যাডাম জবাব দিতে না পারলে তাকে নিয়ে আসবেন | তারও অপারেশন হয়ে যাক ৷ যেন তিনি আপনার মত সাদা মনের অধিকারী মেয়েদেরকে গোমরাহ্ করতে না পারেন ৷ সকালে নাস্তা শেষে সুহাইল অফিসে যাচ্ছিল ৷ দুলহান বলল, সময় হলে আমাকে "আল-হুদা ইন্টারন্যাশনাল কলেজে" নামিয়ে দিয়ে যাবেন কি? সুহাইল : ঠিক আছে ৷ কিন্তু সন্তোষজনক জবাব আনতে হবে ৷ দুলহান : আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন ৷ সুহাইল অফিসে যাওয়ার পথে তাকে কলেজ গেটে নামিয়ে দিয়ে গেল৷ দুলহান ম্যাডামের সাথে সাক্ষাত করে ৷ ম্যাডাম তাকে দেখা মাত্রই বলে ওঠে শোনাও তোমার সাহেবের কি অবস্থা? আমাদের ইলম কোন কাজ করেছে কি? তুমি কি তার সাথে 'আহলে হাদীস' হওয়ার কথা বলেছ? দুলহান : ম্যাডাম! বিবাহর তিন রাত্র অতিবাহিত হয়ে গেল, এই পর্যন্ত না নিজে ঘুমিয়েছে না আমাকে ঘুমাতে দিয়েছে৷ আমার প্রত্যেক কথা মিনিটের মধ্যেই কেটে দেয় ৷ গত রাতে করেছে এই প্রশ্ন! আমার দেমাগ ঘুরপাক খাচ্ছে ৷ (এর আগের দুই রাতের কাহিনী কাঁদতে কাঁদতে শোনাল ! ম্যাডাম : স্বামী শ্রী মূলক আচরণ? দুলহান : এই মাসআলাগুলোর জবাব দিলে হয়ত সেদিকে খেয়াল যাবে! ম্যাডাম : তোমার সাথে খুব খারাপ আচরণ হয়েছে ৷ দুলহান : এখন আপনি অনুগ্রহপূর্বক বুখারী শরীফ হতে তালাশ করে এই মাসআলাগুলোর জবাব দিন৷ যেন আজ রাতেও লজ্জিত না হতে হয় ৷ ম্যাডাম রেগে বলল, আমি এগুলোর জবাব কোথেকে আনৰ ৷ কিছুক্ষণ উভয়ে এমনি ভাবে চুপ করে থাকল যেন তাদের মুখে তালা লেগে গিয়েছে ৷ কিছুক্ষণ পর লজ্জার ভাব দূর করে ম্যাডাম বলল, মনে হয় মাষ্টার আমীনের কোন শাগরেদের সাথে তোমার সাহেবের বন্ধুত্ব রয়েছে ৷ দুলহান : হতে পারে | তবে এতে কি আসে যায় | ম্যাডাম? রাগে...... কি আসে যায় মানে? তুমি এখনও ছোট মানুষ! তুমি কি জান মাষ্টার আমীন কে ছিলেন এবং কী ছিলেনঃ খৃষ্টবাদ, কাদিয়ানীবাদ, বেরলভী বাদ, জামাতে ইসলামী ও বর্বরতাবাদকে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছিলেন ৷ তার সাথে কথা বলার কারও সাহস হত না! শুধু মাত্র আমাদের 'আহলে হাদীস' আলেমগণ তাঁর সাথে একশ মুনাযারা করেন৷ দুলহান : একশ মুনাযারা? ম্যাডাম : ডী হাঁ! কিন্তু প্রত্যেক মুনাযারাতেই তারা ব্যর্থ হন ৷ মাষ্টার আমীন সাহেবই বিজয়ী হন ৷ এখানেই শেষ নয় ৷ এমন এক সময় আসে যখন আমাদের কোন আলেম তার সাথে মুনাযারা করার জন্য প্রস্তুত হত না৷ আমাদের বড় বড় ও প্রসিদ্ধ আলেম যেমন, রূপড়ী, আছারী সাজেদমীর, হাফেজ সাউদ ও প্রফেসর আব্দুল্লাহ ভাওয়ালপুরীর মত লোক তার নাম শোনে শহর ছেড়ে চলে যেতেন ৷ (ম্যাডাম বলতে থাকেন) এদিকে দুলহান হয়রান হয়ে তার মুখ দেখতে থাকে !) আল্লাহর কাজ আল্লাহই করেন ৷ তার দিন শেষ হয়ে যায় ৷ তিনি চলে যান৷ ভেবে ছিলাম এখন শান্তির নিঃশ্বাস নেয়া যাবে৷ কিন্তু.............. দুলহান : কিন্তু কি.....? ম্যাডাম : তাঁর শাগরেদ মুফতী মুহাম্মদ আনওয়ার উকাড়ভী, মুনীর আহমদ মুনাওয়ার, মাহমুদ আলম সফদর উকাড়ভী, আব্দুল গণী, মাও মুহাম্মদ ইলিয়াস ঘুম্মন, আব্দুল্লাহ ভটাইচ ও আল্পামা আব্দুল গাফফার যেহেনী প্রমূখ আমাদের ঘুম হারাম করে দেন ৷ এখন আমাদের বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে ৷ আমরা আমাদের দাবীর স্বপক্ষে দলীল দিতে পারি না এবং তাদের কোন দলীলের জবাবও আমাদের কাছে নেই ৷ কিন্তু মনে রেখ! এই কথাগুলো কাউকে বলবে না ৷ আমি তোমাকে বলেছি, কেননা তুমি আমাদের লোক ৷ দুলহান : এমন কেন ম্যাডাম! ম্যাডাম : কেননা, এতে আমাদের বিরোধীরা আমাদের পেরেশান করতে পারে ৷ (পেরেশানীর জগতেই ম্যাডাম এই সব বলতে থাকে |) দুলহান : ম্যাডাম, ম্যাডাম, ম্যাডাম! ম্যাডাম বেশ কিছুক্ষণ পরা মাথা উঠিয়ে বলে ডী বেটা বল, কি বলতে চাড দুলহান : ম্যাডাম! এর চেয়ে কি এটা উত্তম নয় যে, আমরা আমাদের মাসলাক ছেড়ে দিয়ে 'আহলে সুম্নাত' এর মাসলাক গ্রহণ করে নিই ! না, বেটা না! এতে আমাদের বানানো শান শাওকত সব মাটিতে মিশে যাবে এবং সউদীয়া, কুয়েত ও আরব আমীরাত হতে আসা সমস্ত টাদা বন্ধ হয়ে যাবে ৷ নিজেদের ভুলের অনুভূতি আমাদের সকল আলেমদের রয়েছে বটে; কিন্তু স্বীয় মাসলাক ছাড়বে কি ভাবে? ফেরাউনেরও অনুভূতি ছিল যে, আমার "খোদায়ী" দাবী সঠিক নয় ৷ তার জানা ছিল যে, আমি যদি আমার খোদায়ী দাবী হতে ফিরে আসি তাহলে রাজত্ব থাকবে না ৷ এ জন্য আমরাও আহলে হাদীসের দল ছাড়তে পারব না ৷ তোমাকে একটি মৌলিক উসূল বলে দিচ্ছি ৷ সামনে কথার ফাকে সুযোগ পেলে তাদের ফিকহের কিতাবসমূহের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্নের তুফান চালিয়ে দিবে ৷ আশা করা যায় তারা এতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে নিরুত্তর হয়ে যাবে ৷ বসৃ, এটাই শেষ উপায় নিজ শত্রুর উপর বিজয়ী হওয়ার | যদি এই আক্রমণও কাজে না আসে, তাহলে বলে দিবে "আমাদের আহলে হাদীসের তোমাদের সাথে বিবাহও জায়েয নেই ৷ আমার পিতা- মাতা অনুসন্ধান না করে বিবাহ দিয়ে দিয়েছেন | আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের দাবী করে 'তালাক' নিয়ে নিবে ৷ তারপর যদি কোন গায়রে মুকাল্পেদ পাত্রও না পাওয়া যায় তাহলে কোন খৃষ্টান, ইয়াহুদী, শিখ বা হিন্দুকে বিবাহ করে নিবে ৷ কিন্তু কোন মুকাল্পেদকে বিবাহ করবে না! কেননা, 'তাকলীদ' হল শিরক ৷ আর মুকাল্পেদ হল "পথভ্রষ্ট ও মুশরিক" ! 
Share:

বিয়ের প্রথম দশ রাত....দ্বিতীয় রাত

আম্মাজান : (রাতের খাবারের সময়) বেটা! সকালে কোন কথা লেগে গিয়েছিলে? 
সুহাইল : আম্মা! বাদ দেন, আমি নিজেই বুঝিয়ে দিব | আর যদি না বোঝে তাহলে এরপর ......... ! (এতটুকু বলে সুহাইল চুপ হয়ে গেল) আম্মাজান : না, বেটা! এরপর আর কিছু না৷ এখনতো নতুন নতুন কিছুদিন গেলে পরস্পরে ভালবাসা বেড়ে যাবে৷ তখন একে অপরে মেযাজ বোঝে নিবে ৷ 
সুহাইল : কামরায় গিয়ে সুহাইল বালিশে হেলান দিতে দিতে বলদ আচ্ছা! আপনার নিকট তো "আকওয়ালে সাহাবা (সাহাৰীগণের বাণী) দলীল নয়, তাই না?
 দুলহানা : না, বিলকুল না৷ দেখুন আমাদের উলামায়ে কেরাম পরিস্কারভাবে লিখেছেন: ১. উরফুল জাদীতে আছে- সাহাবীর কওল হুজ্জাত (দলীল) নয় ৷ ২, নুযুলুল আবরারে আছে- সাহাবীর ইজতিহাদ্ হুজ্জাত নয় ৷ ৩. আত্তজুল মাকালে আছে- সাহাবীর ফেল (কর্মপদ্ধতি) হুজ্জাত নয় অন্যান্য কিতাবেও এমন ফাতওয়া আছে ৷ যেমন: বুদুরুল আহূলা ফাতাওয়ায়ে নযীরিয়া ইত্যাদি ৷ সুহাইল : কিন্তু নবীর কথা মানেন কি না? দুলহান : কেন মানব না ৷ নবীজী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার উপর জান দিতে প্রস্তুত আছি ৷ সুহাইল : বাহ! কি মজার কথা! আল্লাহ তাআলা আপনার ঈমানকে নিরাপদ রাখুন ৷ নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র বাণীসমূহ নিন : _ 5. (ia 5) cantly)! dus (Pst ale তোমরা আমার ও খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুম্নাহকে আঁকড়ে ধর ৷ (তিরমিযী শরীফ) 2. (led) al ১৪১ তোমরা আমার পরের দু'জন অর্থাৎ আবু বকর ও উমরের অনুসরণ করবে৷ ৩. লুর ৯৪ + 3৯০! অর্থাৎ আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা যারই অনুসরণ করবে হেদায়াত পেয়ে যাবে ৷ (মেশকাত শরীফ) ৪. মুক্তিপ্রাপ্ত ও সফলকাম হল এই জামাআত যারা এর অনুসরণ করবে৷ নৰী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই সকল বাণীর উপর মনে প্রাণে উৎসর্গিত হয়ে যান এবং হযরত ইবনে আব্বাস রা, এর তাফসীর গ্রহণ করে নিন ৷ আর 'আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের" বিরুদ্ধে দেয়া ফতওয়া উঠিয়ে নিয়ে নিজেও রাফয়ে ইয়াদাইন ছাড়া নামায পড়ুতে শুরু করুন এবং অন্যদেরকেও তার দাওয়াত দিন৷ দুলহান : আমাদের জ্ঞানের উড্ডয়ন ও বাহার অনেক উর্ধ্ব | (এত সহজে মানার লোক আমরা নই !) সুহাইল : মানে, হাদীসে রাসূল মানবেন না ৷ দুলহান : কেন মানব না? তবে আমরা 'আহলে হাদীস' রাসূলের যে কোন হাদীস মানি না ৷ সুহাইল : ইরা লিল্লাহি......... | রাসূলের যে কোন হাদীস মানেন না? আয় আল্লাহ! আমি আবার কোন ধরনের আহলে হাদীসের ফাঁদে পড়লাম৷ দুলহান : আমরা হলাম "আহলে হাদীস', "আহলে হাদীস' a সুহাইল : কিন্তু আমার তো মত হচ্ছে আপনি 'মুনকিরে হাদীস' | (হাদীস অস্বীকারকারী) ৷ আপনার মাযহাব হবহু শিয়াদের ন্যায় | এ ব্যাপারে পরে কথা হবে | এখন বলুন, আপনি কোন ধরনের হাদীস মানেন? দুলহান : আমাদের উলামাগণ লিখেছেন যে, আমরা হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুধুমাত্র ওই সকল হাদীস মানি যা তিনি ওহীর মাধ্যমে ইরশাদ করেছেন ৷ আর যা তিনি ওহী ব্যতীত নিজ থেকে বলেছেন, তা আষরা মানি না ৷ সুহাইল : tia স্বরণ শক্তির উপর একটু চাপ দিয়ে স্বরণ করুন, কাল রাতে আপনি কি বলেছিলেন? দুলহান : কী বলেছিলাম? সুহাইল : কী বলেছিলেন, মনে পড়ে না? আপনি বলেছিলেন "উলামাদেরকে বাদ দেন" এখন আবার কথায় কথায়, "আমাদের উলামাগণ এই বলেছেন"! এটা আবার কেমন অনর্থক কথা? দুলহান : অনর্থক কথা নয়; বরং বাস্তব হল, আমরা উলামায়ে কেরাম ব্যতীত এক কদমও চলতে পারব না৷ সুহাইল : মনে হয়, আপনার পূর্বের ভুলের অনুভূতি হয়েছে? দুলহান : হ্যা, ঠিক ৷ আমার পূর্বের কথার ভিত্তিই ছিল ভুল ৷ এই ভুলের উপর আমার লজ্জা হচ্ছে এবং আমার ভুলের জন্য আমি প্রথমে আল্লাহর নিকট তারপর আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ৷ সুহাইল : না, এটা কোন বিষয় নয় ! আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ ভুল প্রমাণিত হলে তা স্বীকার করে নিই তাহলে আমরা অতি দ্রুত এক সরল পথে গিয়ে পৌছব ৷ যা খুব দ্রুত আমাদেরকে গম্তব্যস্থলের নিকটবর্তী করে দিবে ৷ আমরা আমাদের আলোচ্য বিষয়ের দিকে ফিরার পূর্বে আপনি এই gabe Non করে নিন যে, আপনি এবং আপনার উলামারা রাসূল সাল্পাল্পাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে কোন হাদীসকে মানে না এটা ভুল হওয়ার কারণ হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা বলেন : blew 97 ৬৮9 guts yig মানে আমার হাৰীব ওহী ছাড়া কোন কিছু বলেন-ই না ৷ সুতরাং বোঝা গেল, নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেক ইরশাদই মানা চাই ৷ দুলহান : আপনার কথাগুলো অত্যন্ত ক্রিয়াশীল এবং দলীল ভিত্তিক ৷ বাহ্যিকভাবে মনে হয় আপনি দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করেন নি৷ কিন্তু আলোচনা তো আলেমদের চেয়েও বেশী ওজনী ৷ আমাদের সামনে তো কেউ এক মিনিটও কথা বলতে পারে না ৷ আপনিই মাত্র সেই ব্যক্তি যে কাল রাত হতে আমাকে নিরুত্তর করে যাচ্ছেন৷ সুহাইল : বেগম! আপনার কথা ঠিক a, আমি নিয়মতান্তিকভাবে কোন দারুল উলূমে লেখা পড়া করিনি, কিন্তু........ দুলহান : কিন্তু কি? সুহাইল : মানে, আমার এক বন্ধু লোহা ব্যবসায়ী ৷ তার সাথে আমার উঠা বসা হয় ৷ দুলহান : কিং সবর্ণাক্ষরে লেখার মত কথাগুলো আপনি একজন লোহা বিক্রেতার নিকট পেয়ে যানঃ yate : @ sin abr কোন আশ্চর্যের কথা নয় ৷ হযরত দাউদ আ. আল্লাহ তাআলার রাসূলও ছিলেন আবার লোহা দ্বারা বর্ম বানাতেন ৷ কুরআনে আছে : " 34] £ " তাছাড়া সাইয়েদুল আ. নবীও ছিলেন, ব্যবসায়ীও ছিলেন৷ দুলহান : মানে আপনার বন্ধু শুধু লোহা বিক্রেতা নন; বরং আলেমও ৷ সুহাইল : ভী হ্যা! বাস্তবেই যদি এরকম আলেমদের নিকট মানুষের আসা-যাওয়া থাকে, তাহলে সে গোমরাহ হবে না৷ আবার ইলম হাসেল করা ছাড়াই তার ইলম হাসেল হতে থাকবে৷ দুলহান : আমি কি ............... সুহাইল : চুপ হয়ে গেলেন কেনঃ কথা পুরা করেন! দুলহান : আমি কি তার সাথে সাক্ষাত করতে পারি? যেন অন্যান্য প্রশ্নাবলীরও সমাধান করতে পারি? সুহাইল : আপাতত: আপনার জন্য আমি ও আমার ইলম যথেষ্ট | প্রয়োজন হলে পরে দেখা যাবে ৷ দুলহান : এখন আমার দ্বিতীয় ভুলেরও অনুভূতি হচ্ছে ৷ কুরআনে কারীমের প্রকাশ্য আয়াতের মোকাবেলায় আমাদের 'আহলে হাদীস" উলামারা যা লিখেছে, ভুল লিখেছে ৷ আমি তাদের এই বদ আকীদা ও ভুল ফায়সালা মুক্ত ৷ সুহাইল : খুব ভাল, খুব ভাল ৷ এটা বলে সুহাইল স্রীর কাছে গিয়ে বসল ! ক্রী তার এই মুহাৰ্বত দেখে নিজ বাহু ছড়িয়ে দিল ৷ সুহাইলের মাথা স্রীর কোলে লাগা মাত্রই সে একেবারে উঠে বসে পড়ল ৷ দুলহান : কি হল, সারতাজ! - সুহাইল : হবে আর কিং একটি বিষয় রয়ে গেছে ৷ আর সত্যিকারার্থেই যদি আপনার এই ভুলের অনুভূতি হয়ে যায় তাহলে আপনার ঈমানের ব্যাপারে আমার যে সন্দেহ ছিল তা পরিবর্তন হয়ে যাবে ৷ আর আজকের রাত শান্তিতেই কাটবে ৷ দুলহান : সেটা কি বিষয়? আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন যে, ভুলের অনুভূতি হলে আমি তৎক্ষণাৎ স্বীয় ভুল স্বীকার করে নিই ৷ সুহাইল : দেখুন! সাহাবায়ে কেরাম রা, হলেন এই উম্মতের পবিত্র ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ৷ তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা এক জায়গায় বলেছেন ১$ 8191 | অন্যত্র ইরশাদ করেন : ye ৪৫] ৩46 ৫680] 2590)! আর তাঁদের সম্পর্কে নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের চার চারটি বাণীতো মাত্রই শুনতে পেলেন! তাছাড়াও হাদীসের কিতাবসমূহে তাঁদের ব্যাপারে অনেক প্রশংসা বাণী রয়েছে ৷ এতদসত্বেও আপনার উলামাদের তাদের কওল-ফেয়েল (কথা-কর্ম) কে দলীল না মানা শক্ত বে-আদৰী ৷ বরং অত্যন্ত খারাপ আকীদা ৷ অপরদিকে আপনার এক আলেম ওয়াহীদুযযামান (যে বুখারী ইত্যাদির তরজমাও করেছে) "নুযুলুল আবরার" এর টীকায় লেখেন, "এর দ্বারা বোঝা গেল সাহাবাদের মধ্যে যারা ফাসেক ছিল যেমন : ওয়ালীদ ইবনে উক্কৃবা, মুজাবিয়া, আমর ইবনে আস, মুগীরা ইবনে শো'বা, সামুরা ইবনে জুনদুব !" আপনার এই ওয়াহীদুজ্জামান ই "লুগাতুল হাদীসে" হযরত আমীরে মুজাবিয়া রা, সম্পর্কে লিখেন যে, "তাঁর সম্বন্ধে সম্মানসূচক শব্দ যেমন : হযরত] বা [রা. ইত্যাদি বলা অত্যন্ত দুঃসাহস ও নিরীকতা ৷" বুখারীর তরজমায় এক জায়গায় লিখেছেন, "আৰু সুফিয়ান আজীবন নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যুদ্ধরত থাকে ৷ তার ছেলে মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান সত্য খলীফা হযরত আলী রা, এর সাথে মোকাবেলা করে ৷ হাজারো মুসলমানের রক্ত ঝরিয়েছে ৷ কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামে যে দূর্বলতা এসে গেল তা এই মুআবিয়ার কারণেই হল৷" বিশ্ব সম্রাট-সাহাবাদের প্রতি সম্ভষ্টির ঘোষণা দিলেন ৷ দোজাহানের সরদার তাদের অনুকরণের নির্দেশ দিলেন ৷ তাদেরকে হিদায়াতের তারকা বললেন কিন্তু আপনার আলেমরা তাদেরকে ফাসেক বলেন | এই বে- আদবীর কি কোন সীমা আছে? এমন কি কেউ কেউ তো হযরত উমর রা. কে 'বেদআতী' পর্যন্ত বলেছে ৷ নাউযুবিল্লাহ! সাহাবীগণকে গালমন্দ করা এই কাজ হল শিয়াদের ৷ আর বর্তমানে করছেন আপনারা! আপনাদের বংশপরম্পরা শিয়াদের সাথে মিলে না তো? দুলহান : জ্বী না! এই বিষয়গুলো আমার জানা ছিল না ৷ তারা হাদীসের উপর আমল করে" এই দাবীর কারণে আমি তাদেরকে ভালবাসতাম ৷ আমার কি সাহস আছে যে, আমি সাহাবাদের রা. ব্যাপারে এমন ভুল আকীদা পোষণ করব? বরং যারা সাহাবীগণের ব্যাপারে এমন গর্হিত মন্তব্য করেছে আমি তাদেরকে মুসলমানই মনে করি না ৷ তারাই আমাদের দ্বীন ইসলামের সাক্ষী | কোন মামলার সাক্ষীরাই যদি নির্ভরযোগ্য না হয় তাহলে সে মামলাই খারেজ হয়ে যায় ৷ আল্লাহ তাআলা আমাকে সঠিক বুঝ দান করুন ৷ সুহাইল : এখন হবে মজা, আলোচনাও চলতে থাকবে ৷ আর মুহাব্বতও বৃদ্ধি পেতে থাকবে ! দুলহান : কিন্তু আপনি আমাকে সব বিষয়ে হারাতে পারবেন না ! সুহাইল : তা আবার কেমন? দুলহান : শুনুন! আমি হলাম "আল-হুদা ইন্টারন্যাশনাল" এর ম্যাডামের স্নেহাস্পদ ছাত্রী! সুহাইল: আচ্ছা! কোন অসুবিধা নেই ৷ প্রথমে আপনার আকাঙ্খা পুরা করে নিন ! পরে আপনার ম্যাডামের আশাও পূরা করব! ইনশাআল্লাহ! দুলহান : আপনি কি আমার ম্যাডামের চেয়ে বড় আলেম? সুহাইল : না বেগম! আমি তো একজন আনপড় ও মূর্থ ব্যক্তি৷ শুধুমাত্র আহলে ইলমদের ভালবাসার ফল যে, আপনার ম্যাডামের ন্যায় হাজারো ব্যক্তির বুলি বন্ধ করে দিই ৷ দুলহান : দুঃখিত! এখন একটু আরাম করে নিন ৷ গত রাতেও ঘুমাতে পারেননি ৷ আজ বিকালে অফিস হতে ফিরার পর রাফয়ে ইয়াদাইন এর উপর কথা হবে৷ 
Share:

এক রাকাত বিতর পড়া

ইমাম ইবনুছ ছালাহ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবলই এক রাকাত বিতর পড়েছেন এর কোন প্রমাণ নেই। [আততালখীছুল হাবীর ২/৩১ কাশফুস সিতর পৃ.৩৮] (টীকা-১) ইমাম তাহাবী রহ. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুধু এক রাকাত বিতর বিষয়ে কিছু বর্ণিত হয়নি। [শরহু মাআনিল আসার হা.১৬০৯] ইমাম মালেক ও ইমাম আহমদ রহ. শুধু এক রাকাত বিতর পড়াকে মাকরুহ বলেছেন। [আল-আউসাত:ইবনুল মুনযির ৫/১৮৪, মাসাইলে আহমদ: ইবনে হানী ১/৯৯]

কেবল হযরত আবু আইয়ুব আনছারী রা. এর একটি বর্ণনায় রয়েছে: “যে চায় এক রাকাতও বিতর পড়তে পারবে”। ইমাম নাসায়ী হাদীসটি বর্ণনা করেই বলেন: এ ক্ষেত্রে মওকুফ বর্ণনাটিই সঠিক হওয়ার অধিক উপযুক্ত। [সুনানুল কুবরা হা.১৪০৬] বরং অধিকাংশ ইমাম এটিকে মউকুফ্ তথা সাহাবীর কথা বলে আখ্যায়িত করেছেন। [আততালখীছুল হাবীর ২/৩৭] তাছাড়া এ হাদীসের একটি বর্ণনায় রয়েছে: ومن شاء أومأ إيماء ‘যার ইচ্ছা এক রাকাত পড়ে নেবে, আর যার ইচ্ছা ইশারা করে নেবে’। [সুনানে নাসায়ী হা. ১৭১৩ এর সনদ সহীহ, সুনানে নাসায়ী কুবরা হা. ১৪০৬, সহীহ ইবনে হিব্বান হা.২৪১১ আসসুনানুল কুবরা ও সুনানে সগীর:বাইহাকী হা. ৪৭৭৯-৮০ ও মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক হা.৪৬৩৩]

তাহলে কি এক রাকাতও না পড়ে কেবল ইশারা করে নিলে বিতর আদায় হয়ে যাবে? এ কারণে আমাদের ধারণামতে এ বর্ণনাটি মুতাশাবিহ (রহস্যাবৃত) এবং আমলযোগ্য নয়। এর প্রকৃত রহস্য আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন।

★সাহাবীগণের এক রাকাতে বিতর পড়া বিষয়ক কয়েকটি বর্ণনা:★

১ . হযরত সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছের এক রাকাত বিতর পড়ার কথা শুনে ইবনে মাসউদ রা. বলেন: “এক রাকাত বিতর কখনো যথেষ্ট হবে না”। [কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মদীনা, ১/১৯৩, ১৯৭ তাবারানী: মাজমাউজ যাওয়াইদ, হা. ৩৪৫৭ হাইছামী বলেন: এর সনদ হাসান মুয়াত্তা মুহাম্মদ হা.২৬৪]

ইমাম মালেক সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাছ ও উসমান রা. এর এক রাকাত বিতর প্রসঙ্গে বলেন: (وقال مالك بن انس ومن اخذ بقوله ليس العمل عندنا على ان يوتر بواحدة ليس قبلها شفع) : যে তাঁর কথা গ্রহণ করে তার জানা দরকার যে, আমাদের এতদঅঞ্চলে তথা মদীনায় দুই রকাত যুক্ত করা ছাড়া শুধু এক রাকাতে বিতর আদায় করার উপর কোন আমল নেই। [কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলুল মদীনা. ১/১৯৩]

২. হযরত মু‘আবিয়া রা. এক রাকাত বিতর পড়লে এক বর্ণনা অনুযায়ী ইবনে আব্বাস রা. এর কড়া সমালোচনা করেন। [তহাবী হা.১৭৫০] তাছাড়া উপরোক্ত উভয় বর্ণনাতেই হঠাৎকরে এক রাকাত বিতর পড়তে দেখে উপস্থিত তাবেয়ীগণ বিস্মিত হয়ে সাথে সাথে প্রশ্ন তুলেছেন। এতেও প্রমাণ হয়: এভাবে কেবল এক রাকাত বিতর সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না ।

৩. হযরত উসমান রা. এক রাকাত বিতর পড়ার বিষয়টি ছিল অনিচ্ছাকৃত। এখানেও ঘটনা বর্ণনাকারী হযরত আব্দুর রহমান আত্তাইমী রা. একরাকাত বিতর পড়তে দেখে অবাক হন। পরক্ষণেই বলেন: (أوهم الشيخ) তিনি হয়ত ভুলে গেছেন। [তহাবী পৃ.২০৬]

৪. আর ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাসের যে ‘মরফু’ রেওয়ায়াতে: একরাকাত পড়তে হুকুম করা হয়েছে মূলত সেগুলোতে শুধুই এক রাকাতকে পৃথক পড়তে বলা হয়নি। একই হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনাই এ বিষয়টি সুস্পষ্ট রয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন: “নবীজীর "صل ركعة واحدة" “একরাকাত পড়ে নাও” -ধরণের আদেশ দ্বারা তিন রাকাত বিতরকে সালামের মাধ্যমে পৃথক করে পড়া এক সাথে পড়ার চেয়ে উত্তম হওয়ার প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়। কিন্তু এধরণের শব্দ থেকে মাঝের বৈঠকে সালাম ফেরানোর বিষয়টি সুস্পষ্ট নয়। এও সম্ভাবনা আছে: “এক রাকাত পড়ে নাও” কথার মর্ম হলো: পূর্ববর্তী দুই রাকাতের সাথে মিলিয়ে তিন রাকাত বিতর পড়ে নাও। [ফাতহুলবারী ২/৫৯৩ বাবু মা জাআ ফিল বিতরি]

তাই হাদীস শাস্ত্রের দিকপাল ইমাম মালেক রহ. তাঁর সুপ্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থে সা‘দ ইবনে আবি ওয়াক্কাছের এক রাকাত বিতর পড়ার কথা উল্লেখপূর্বক বলেন:

وليس على هذا العمل عندنا ولكن أدنى الوتر ثلاث

“আমাদের মদীনায় এর উপর আমল নাই। বরং সর্বনিম্ন বিতর তিন রাকাত”। [মুয়াত্তা মালেক:বাবুল আমরি বিল বিতরি হা.৪০৭]

দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক ছাড়া তিন রাকাত বিতর

কোন কোন ভায়েরা বলে থাকেন: বিতর তিন রাকাত পড়লেও দুই রাকাতের পর বসবেই না। অথচ একেত এর পক্ষে সহীহ ও স্পষ্ট কোন বর্ণনাই পাওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত তিন রাকাত বিতরের উল্লিখিত সকল দলিল থেকেই একথা প্রমাণিত হয় যে, দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক হবে কিন্তু সালাম ফেরাবে তিন রাকাত পূর্ণ করে। কিছু কিছু দলিল এ বিষয়ে একেবারেই সুস্পষ্ট।

তবে শুধু হযরত আয়শা থেকে সা‘দ ইবনে হিশামের বর্ণনার একটিতে রয়েছে: "يوتر بثلاث لا يقعد إلا فى آخرهن" “নবীজী তিন রাকাত বিতর পড়তেন, শেষ রাকাতের আগে বসতেন না”। মুসতাদরাকে হাকেমের এ বর্ণনা থেকে মনে হয় তিন রাকাত বিতর-এ মাঝে বৈঠক করবে না। বাহ্যত এটি এক বৈঠকে তিন রাকাত বিতর পড়ার একটি স্পষ্ট দলিল মনে হলেও মূলত এটি কেবলই বিভ্রান্তি মাত্র। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরিশিষ্টে করা হয়েছে।

[সুত্রঃদলিল সহ নামাযের মাসায়েল।
লিখকঃমাওলানা আব্দুল মতিন (দাঃবাঃ)]

Share:

Definition List

Unordered List

Support