শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. কে নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচারের জন্য ক্ষমা চাইলেন যমুনা টিভি


যমুনা টিভির পক্ষে সিইও ফাহিম আহমাদ,বিশেষ প্রতিনিধি মুহসিনুল হাকিম শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. কে নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচারের জন্য ক্ষমা চাইলেন। তিনি শাইখুল হাদীস রহ. পরিবার, ছাত্র, ভক্তবৃন্দের প্রতি তাদের এ ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এধরনের ভুল করবেন না বলে আশ্বাস্থ করেন। যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ দেশের সকল উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মানুষের নিটও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আজ যমুনা টিভির প্রতিনিধি দলটি শায়খুল হাদীস রহ. পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়সাল, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হাফেজ মাওলানা মোস্তাফিজ রাহমানী,সাংবাদিক মুফতি এনায়েতুল্লাহ প্রমুখ।

মাওলানা মাহফুজুল হক দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন- যেহেতু যমুনা টিভি কর্তৃপক্ষ তাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইছেন, দু:খ প্রকাশ করেছেন তাই ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি এবং দেশবাসী, হযরতের ছাত্র ও বক্তদের ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
কপি আল আমিন সংস্থা হাটহাজারী চট্টগ্রাম
Share:

মিজানুর রহমান আজহারী কথন


আজকের বিষয়ঃ  ____<<মাজার পুজারীরা কি আজহারীর বিরুদ্ধে নাকি আহলে হক ওলামায়েকেরামও।
.
আজহারী হুজুরকে নিয়ে আবার লিখতে হবে এটা ভাবিনি।  ফেসবুকটাই আর ভালো লাগেনা। কি হাসির পোস্ট কি ইসলামিক পোস্ট।  😥
.
যায় হোক স্রোতের তালে চললেতো আর হবে না।  আল্লাহ যাকে যে বুঝ দিছেন, সে সেভাবেই চলবে---
.
🌶 ১) সিক্সপ্যাকঃ- নাউজুবিল্লাহ -- আধুনিক বাংলা ইংলিশ শব্দ আমরা  বুঝি ও জানি। রাসুলুল্লাহ সঃ এর দেহ সিক্স প্যাক ছিলো এমন কোন হাদীস নয়।  সিক্স প্যাক তাকে বলে,  পেটে ৪ ভাজ ও বুকে ২ ভাজ বা ভাগ -- এই হলো সিক্স প্যাক -- এটা সাধারনত ব্যায়াম করে বানানো হয়।  
.
উনি যেটাই বুঝাতে চান রাসুলুল্লাহ সঃ এর শানে কথা বলতে হিসেবটা একটু বেশিই করতে হবে।  
সব মানহাজের ওলামা বিষয়টা ভালোভাবে নেন নাই।  আর নবীজির পেটও এমন ছিলো না, যেমনভাবে আজহারি বলেছে। 
.
🌶 ২) খাদিজা রাঃ এর বিষয় ঃ যেটা উনি শব্দচয়ন করেছেন -- তালাক খাইছে, উইডো, ইনটেক্ট শব্দ -- নাউজুবিল্লাহ।  
.
কোন কিছু বোঝানোর ক্ষেত্রে হলেও ভালো নিয়তে হলেও --- উম্মুল মুমিনীন,  রাসুলুল্লাহ সঃ এর প্রথম স্ত্রী,  ফাতিমা রাঃ এর আম্মা --- সম্পর্কে এমন বাচন -- নাজায়েজ। 
এটা ওনার ভুল। আহলে হক সকল মানহাজের ওলামা এটাকে ভালোভাবে নেন নাই।  
.
যদিও আজহারী হুজুর এই বিষয়টি থেকে রুজু করেছেন,  ক্ষমা চেয়েছেন।  
.
🌶৩) তারাবীহঃ-  ২ রাকাতে সারারাত পার করার নতুন থিওরী দিয়ে উম্মাহকে আরো স্বাধীনতা দেওয়া।  এটা ওলামায়েকেরাম ভালোভাবে নেন নাই।  
.
১ম জামানা থেকে আজ পর্যন্ত ২০ রাকাত তারাবীহ।  এরপর আপনি সারারাত পার করেন।  যদিও আহলে হাদীস ৮ রাকাতের কথা বলে।
.
🌶 ৪) মদ খাওয়াঃ-  আলী রাঃ মদ খাওয়া নিয়ে কথাটা সঠিক নয়।  এটা আলী রাঃ এর ব্যাপারে অপবাদ।  আশাকরি এটা থেকেও উনি খুব তাড়াতাড়ি রুজু করবেন।  
.
আলী রাঃ ও উমর রাঃ এর মদ খাওয়ার বিষয় নামাজের আগে এটার কোন সহীহ প্রমান নেই।  আলী রাঃ এর জীবন শুরু থেকেই উত্তম।  উনি খুব অল্প বয়সেই ইসলাম গ্রহন করেন নামাজ ফরজ হওয়ার অনেক আগে।  আর তিনি মদ পান করতেন না।  
.
এটা আজহারীর অন্যায় হয়েছে।  এটা নাজায়েজ।  
সকল মানহাজের ওলামায়েকেরাম ওনার একথা ভালোভাবে নেন নাই।
.
🌶 ৫) আব্বা হালাঃ- উমর রাঃ এর ছেলের ঘটনা --- আব্বা হালা আমি মদ খায় নাই।  এই যে আজহারীর উক্তি।  হালা শব্দটাকি পুরান ঢাকা থেকে মদীনায় ট্রান্সফার হয়েছিলো তখন????? । 
.
এটা ওনার বলা জায়েজ হয় নাই।  অতিরঞ্জিত।  মানুষকে হাসানোর জন্য জায়েজ নাই।  
সকল মানহাজের ওলামায়েকেরাম এটা ভালো ভাবে নেয় নাই।
.
🌶৬) হালা বা সালাঃ-   নাউজুবিল্লাহ।  আল্লাহ হেফাজত করেন।  আল্লাহ,ও  আল্লাহর রাসুলের শানে --- এই শব্দ --- পুরান ঢাকার লোক বলেনাই,  বলেনা,  বলবেওনা --- আমি চ্যালেন্জ করলাম।  আছে কেউ চ্যালেন্জ গ্রহন করার???????¿???
এটা মারাত্বক অন্যায় --- কুফুরি কথা।  
.
আহলে হক সকল মানহাজের বা মাজহাবের ওলামায়েকেরাম এই বুলিকে ভালোভাবে নেন নাই।
.
🌶 ৭) টেস্ট ও টি২০ ইনিংস ক্রিকেটঃ- 
রাসুলুল্লাহ সঃ ও সাহাবা আজমাইনদের প্রথম ১৫ বছর প্রায় কষ্ট আর মেহনতকে, জীবন দেওয়াকে,  মার খাওয়াকে --- নাজায়েজ খেলা ক্রিকেটের টেস্ট খেলার সাথে তুলনা,  ঠ্যাক দেয়া। 
এবং মাদানী কষ্ট আর সাহাবাদের কুরবানী,  হাজার হাজার লক্ষ সাহাবীর জীনব দেওয়ার সময় ও ইসলামের প্রসারের সময়টাকে টি২০ ইনিংস বলা ----
.
আজহারী সাহেব যাই বুঝানোর জন্য বলুন না কেন????  
এটা নাজায়েজ।  আহলে হক সকল মাজহাবের আলেম শায়েখ কেউ এই বক্তব্যের তুলনাকে ভালোভাবে গ্রহন করেন নাই।  
.
যায় হোক লিখলে আরো বড় হবে তাই আর বাড়াবোনা।  
.
🌶🌶 জেনারেলদের বলবো,  আপনি হয়তো জামাত ইসলাম বা মওদুদবাদে বিশ্বাসী হওয়ার কারনে এগুলো সাপোর্ট করছেন।  
আপনি নন মাহরাম হওয়ার পরও আজহারীর চেহারা খুব ভালোলাগে,  হতে পারে তার ইংরেজী বলা ও কথা বলা,  মডার্ন ও মডারেট ইসলাম ভালো লাগে।  
.
কিন্তু এত কিছুর পরও আজহারীর এই ভুলগুলো সাপোর্ট করার সুজোগ নাই।  ইসলাম ব্যক্তিপুজা সাপোর্ট করেনা।  আপনার পীর, আপনার শায়েখ, আপনার হুজুরের কথা যদি আপনার ভালো লাগে,  উপকারী মনে হয় -- তাকে ভালোবাসবেন তার জন্য দোয়া করবেন -- এটাই স্বাভাবিক।  কিন্তু অন্ধের মতো না।  
.
আজহারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু মাজারপুজারী বা বিদাতিদের নয় -- আলেমদেরও।  শুধু মাজার পুজারী নয় আলেমদেরও।  তাই ওনার উচিত আরো সতর্ক হয়ে ওয়াজ করা। 
.
মাজার পুজারীর কেউ যদি নামাজ পড়া, রোজা রাখা এগুলো ফরজ মনে করে -- তাহলে আপনি কি নামাজ রোজা ছেড়ে দিবেন??????
 
অনেক মাজার বিদাতি ইহুদি খ্রিষ্টান্দের চক্রান্তের বিরুদ্ধে কথা বলে,  তাবলীগ দেখতে পারেনা,  সব শায়েখদের বিরোধিতা করে --- তো কি করবেন ---???  মাজার পুজারির সাথে মিললেই সেটা কথা মানা যাবেনা +-- কুরআন হাদীসে কোথাও এমন হুকুম আছে নাকি????? 
.
🍕🍕 বার বার সবাইকে মাজার পুজারী বলছেন কেন? 
বারবার সবাইকে মাজার পুজারী বলছেন কেন???  
.
এত সাহস কোথায় পান,  চোরের মায়ের বড় গলার মতো।  
.
একজন লিখলো,  আপনি কপি করছেন ,  কারনটা কি ¿?? কাদেরকে মাজারপুজারী বলছেন??????  why?? 
.
#শেষ কথা,  
.
আমরা কি চাই,  যে আজহারী সাহেব ওয়াজ না করুক।  নাহ কখনো না --- এটা আমরা চাইনা,  আমরা চাই উনি ওনার ভুলগুলো সংশোধন করে ভবিষ্যতে আরো সতর্কতার সাথে ওয়াজ করবেন।  উনি এদেশের জনপ্রিয় বক্তা। ওনার ওয়াজ ভালো লাগে। ওনাকে কোনো ইফতা বোর্ড বা গ্রহমযোগ্য মুফতী কাফের বলছে বা ফাতওয়া দিছে -- এমন শুনি নাই।  
.
যারা ওনার ভুলের পক্ষে সাফাইগেয়ে,  ভুলকে স্বীকার না করে, অতিভক্ত সেজে,  উনি যা বলেছে তাঠিক এমন পোস্ট করে, , ওনার কথা বুঝতে হলে উচ্চ শিক্ষিত হতে হবে,  হ্যানত্যান বলছেন-- সমস্ত মুসলিম ও আলেমকে মাজারপুজারী ট্যাগ দিচ্ছেন তারা তাওবা করুন।  এগুলো বাদ দিন।  আবার ভাবুন।  
আমরা কারো বিপক্ষে না। 
.
আমাদেরকে গালি দিয়ে কোন লাভ হবে না।  
আর যারা আজহারীর সাথে ব্যক্তিগত কোন কারনে শত্রুতা বা বিরোধিতা রাখে তাদের সাথে আমাদের সখ্যতা নাই।  
.
আল্লাহ আমাদের কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী আলেমদের নির্দেশনা মত সব মুসলিমকে এক হয়ে চলার তৌফিক দান করেন।  
.
আমীন
Share:

ভন্ড পীরদের কবলে পড়ে ঈমান হারাচ্ছে বহু মুসলিম নারী পুরুষ!


আমাদের সমাজ আজ বিদায়াতে ভরপুর । সঠিক ইসলাম জানার মাধ্যমে আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হবে , যা এখন বাংলাদেশের মুসলিমদের জন্য অতীব প্রয়োজন । বাংলাদেশে এখন অনেক ভণ্ড এবং বিদা’তি পীর রয়েছে যারা আমাদের সঠিক ইসলাম থেকে শধুমাত্র দুরে সরিয়ে রাখছে না বরং আমাদের দেশের সহজ-সরল মানুসগুলোকে মাজারে-পীরের আসরে অনৈতিক কাজে প্রলুব্ধ করে বিদা’তি কর্মে লিপ্ত করছে।এখন তা সমাজে ভাইরাস আকার ধারন করেছে। কুরআন হাদিসের কোথাও রাসুল (সাঃ)ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির নির্দেশ সর্বাবস্থায় বিনাপ্রশ্নে মেনে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি ।

আলেমগন-মুহাদ্দিস-ইমামগনকে মূল্যায়ন করতে হবে শুধুমাত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে । নিজের মন, আবেগ বা অন্য কারো মতামত দিয়ে নয়। আল্লাহ কুরআনে বলেন : “ না, তোমার মালিকের শপথ, এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের যাবতীয় মতবিরোধের ফয়সালায় তোমাকে (শর্তহীনভাবে) বিচারক মেনে নেবে, অতপর তুমি যা ফয়সালা করবে সে ব্যাপারে তাদের মনে আর কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবে না, বরং তোমার সিদ্ধান্ত তারা সর্বান্তকরণে মেনে নেবে।( সূরা নিসা:৬৫)

আল্লাহ পাক আরেক জায়গাতে বলেন,
”যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে,আল্লাহ তায়ালা তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন,যার নিম্নদেশে ঝর্ণা ধারাসমূহ প্রবাহমান থাকবে। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেবে আল্লাহ তাকে মর্মান্তিক আযাব দেবেন। (সুরা ফাতহ:১৭)

এমন যদি হয় কেউ দীনের একটা মাসাআলা বুঝছে না তখন কোন আলেম থেকে তা জেনে নেওয়ার পর কুরান এবং হাদীস থেকে তার রেফেরেন্স মিলিয়ে নিতে হবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ”তোমরা যদি না জেনে থাক তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর।”(সুরা নাহল:৪৩)

আলেমদের কাছ থেকে জানার পর রেফেরেন্স মিলিয়ে যখন দেখা যাবে তা সহীহ তখন তা আমল করবেন । আর যখন দেখা যাবে তা সহীহ নয় তখন তা আমল করা যাবে না। এভাবেই একজন ব্যক্তি বুঝতে পারবে কে সত্তিকার অর্থে “আলেম” এবং কে “ভণ্ড” ।অথচ আমরা তা না করে ভণ্ড পীর-মাজার পুজারীদের কথা শুনে নিজেকে বিদা’তি কর্মে লিপ্ত করি।

আমরা আমাদের বিবেগকে একটু খাটিয়ে ভাবলেই দেখি যে, রাসুল(সঃ) কে আল্লাহ দুনিয়ায় সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়েছিলেন । অথচ সেই রাসুল(সঃ) এর জীবন ও কর্ম এর সাথে এই সমস্ত ভণ্ড পীরগুলোর চরিত্রের কোন মিল নেই। কখনও ভেবে দেখেছেন কি রাসুল(সঃ) পরিচালিত জীবন এবং এই সকল ভণ্ডপীরদের পরিচালিত জীবনের মধ্যে এত তফাৎ কেন?এদের বিলাসিতা জীবন পরিচালন কি আপানার মনে কোন প্রশ্নের জন্ম দেয় না ?

এরা কতোটুকু সহিহভাবে কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণ করছে ? আপনি কখনও কুরআন-হাদীস দিয়ে তা মিলিয়ে দেখেছেন কি ? এইসকল পীর কি আপনাকে জান্নাত দিতে পারে,নাকি আল্লাহর দয়া ও রাসুল(সঃ)এর সহিহ সুন্নাত এবং পরিপূর্ণ জীবন বিধান ‘আল-কুরাআন” আপনাকে জান্নাত দিবে ? অবশ্যই পরিপূর্ণ জীবন বিধান ‘আল-কুরাআন” ই আপনাকে জান্নাত দিবে।

মাজারে সিজদা দেওয়া , গানের আসর জমিয়ে গাঁজাখানার আড্ডা এগুলো রাসুল(সঃ) এর সুন্নাহ’র মধ্যে পড়ে না।এগুলো করা শিরিক গুনাহ। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,”সাবধান ! তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের কবর সমূহ মসজিদ (সিজদার স্থান) হিসেবে গন্য করতো। তবে তোমরা কিন্তু কবর সমূহকে সিজদার স্থান বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদের নিষেধ করে যাচ্ছি” । [মুসলিম, ১০৭৭]

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন,”তোমরা স্বীয় ঘরকে কবর বানিয়োনা। (অর্থাৎ কবরের ন্যায় ইবাদত-নামায, তেলাওয়াত ও যিকির ইত্যাদি বিহীন করনা।) এবং আমার কবরে উৎসব করোনা।(অর্থাৎ বার্ষিক, মাসিক বা সাপ্তাহিক কোন আসরের আয়োজন করনা। তবে হ্যাঁ আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। নিশ্চয় তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দুরূদ আমার নিকট পৌঁছে থাকে।(আল্লাহ তায়ালার ফেরেশতারা পৌঁছিয়ে দেন।)”
(সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং-২০৪৪/৪০)

কবরের সামনে বাতি প্রজ্জ্বলন করাকে হারাম সাব্যস্ত করে রাসূলে কারীম সাঃ ইরশাদ করেন-“হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী সাঃ অভিশপ্ত করেছেন (বেপর্দা) কবর যিয়ারতকারীনী মহিলাদের উপর, এবং সেসব লোকদের উপর যারা কবরকে মসজিদ বানায় (কবরকে সেজদা করে) এবং সেখানে বাতি প্রজ্জ্বলিত করে।(জামি তিরমীযী-২/১৩৬)

আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মান্নত বা কুরবানী করা যায়না। কারণ মান্নত ও কুরবানী হচ্ছে এক মাত্র অাল্লাহর জন্য ৷
Share:

ঈদে মিলাদুন্নবী শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম বিদআত


এ কথা সর্বজন বিদিত যে, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ স. এর প্রতি গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ ও কর্মকান্ডের আলোচনার সাথে সাথে অনুসরনীয় বিষয়ে তাঁর অনুসরণ আল্লাহ তায়ালার রহমত প্রাপ্তির অন্যতম উপায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। তবে তা আমাদেরকে অবশ্যই সেই পদ্ধতিতে করতে হবে, যে পদ্ধতি স্বয়ং নবী করীম সাঃ তার সাহাবাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। যা বিভিন্ন হাদিস ও সীরাতের কিতাব সমূহে বর্ণিত রয়েছে।

 হাদিস শাস্ত্র এমন একটি প্রমাণ সম্ভার যাতে ধর্মীয় সকল বিষয় সহ মানব জীবনের ছোট বড় সকল কাজ করার শিক্ষা রয়েছে। এমনকি পেশাব, পায়খানা করার পদ্ধতি ও দিক নির্দেশনাও রয়েছে।

 রাসূল স. এর জীবন চরিত নিয়ে আলোচনা করা এবং তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের পদ্ধতিও হাদিস, আসার তথা সাহাবাগণের উক্তি ও কর্ম পদ্ধতি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আর হাদিস শরিফে এর প্রমাণ এভাবে পাওয়া যায় যে, দিন তারিখ ও সময় নির্ধারণ না করে এবং আনুষ্ঠিকতার বাধ্যবাধকতা ব্যতিরেকে কখনো কখনো রাসূল স. এর জীবনী আলোচনা করা এবং সর্বদা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা। সুতরাং এ সম্পর্কে মনগড়া ভিত্তিহীন কোনো পদ্ধতি আবিস্কার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অবশ্য বর্জনীয় বিষয়। 

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,আমাদের দ্বীনের মাঝে যে ব্যক্তি নতুন বিষয় আবিস্কার করে যা তাতে নেই তাহলে তা পরিত্যাজ্য। 

সহীহ বুখারী, হাদিস নং-২৫৫০,
 সহীহ মুসলিম-৪৫৮৯৷

এই হাদিসে কয়েকটি শর্তে বিদআত ও নব আবিস্কৃত বস্তুকে নবীজি সাঃ পরিত্যাজ্য বলেছেন। যেমন, 

▶১৷ সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। যার কোন প্রমাণ নবীযুগে বা সাহাবা যুগে নেই, এমন বিষয় হওয়া।

▶২৷ দ্বীনী বিষয় হওয়া। সুতরাং দ্বীনী বিষয় ছাড়া যত নতুন বিষয়ই আবিস্কারই হোকনা কেন তা বিদআত নয়৷ যেমন মোবাইল, প্লেইন, নতুন নতুন আসবাব ইত্যাদি। এসব বিদআত নয়। কারণ এসব দ্বীনী বিষয় নয়। 

▶৩৷ দ্বীনের 'মাঝে' নতুন আবিস্কার হওয়া । দ্বীনের 'জন্য' হলে সমস্যা নেই। কারণ দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার মানে হল ইহা সওয়াবের কাজ, যেমন সুন্নাত, ওয়াজিব ইত্যাদী। আর দ্বীনের জন্য হলে সেটা মূলত সওয়াবের কাজ নয়, বরং সওয়াবের কাজের সহায়ক। যেমন মাদরাসা শিক্ষার একাডেমিক পদ্ধতি নববী যুগে ছিলনা। পরবর্তীতে আবিস্কার করা হয়েছে। এই একাডেমিক পদ্ধতিটি দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার নয়, বরং দ্বীনী কাজের জন্য সহায়ক হিসেবে আবিস্কার করা  হয়েছে। অর্থাৎ দ্বীন শিখার সহায়ক। আর দ্বীন শিখাটা সওয়াবের কাজ। কিন্তু সিষ্টেমটা মূলত সওয়াবের কাজ নয় বরং সহায়ক। মিলাদ কিয়াম বিদআত। কারণ এটি নতুন আবিস্কৃত। নববী যুগ বা সাহাবা যুগে ছিল না। সেই সাথে এটিকে দ্বীন মনে করা হয়, সওয়াবের কাজ মনে করা হয় তাই এটি বিদআত।

তাই রাসূল স. এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করা সাওয়াব ও বরকতের কাজ হলেও শরিয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ লোকেরা ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ নামে ‍নির্দিষ্ট দিনে, বিশেষ পদ্ধতিতে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, তা কোরআন-হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণ থেকে প্রমাণিত না হওয়ায় তা অবশ্য পরিত্যাজ্য এবং জঘন্য বিদয়াত। কেননা, সাহাবা, তাবেঈনগণই ছিলেন প্রকৃত নবী প্রেমীক ও তাঁর আদর্শের যথাযথ অনুসারী৷ 

ইসলামে বাৎসরিক দুই ঈদ বহু হাদীস দ্বারা প্রমানি৷ যা সাহাবাদের যুগ থেকে পালিত হয়ে আসছে৷ এছাড়া তৃতীয় কোন ঈদ ইসলামে প্রমানিত নয়৷ 

রবিউল আউয়াল মাসে পালিত প্রচলিত ঈদে মীলাদুন্নবী স. ৬০৪ হিজরীতে ইরাকের মুসিল শহরের বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফার উদ্দীন কুকুরী ও তার এক দরবারী আলেম আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া এ দুজন মিলে আবিস্কার করে। এরা উভয়ে দ্বীনের ব্যাপারে খুবই উদাসীন এবং ফাসিক ছিলো। পরবর্তীতে অজ্ঞ ও মূর্খ লোকদের দ্বারা আরো অনেক শরিয়ত বিরোধী কর্মকান্ড এতে অনুপ্রবেশ করে। যার সব কিছুই কোরআন- হাদিস, ইজমা-কিয়াস তথা শরিয়তের মৌলিক সকল দলীলেরই পরিপন্থী। এসকল কারণেই সব যুগের হক্কানী আলেমগণ এক বাক্যে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী, মিসিল জোশনে জুলুস ও মিলাদ মাহফিলকে নাজায়েয হারাম ও বিদআত বলেই ফত্ওয়া দিয়ে থাকেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী দাবীধারগন তার স্বপক্ষে নিম্নেবর্নিত আয়াত ও হাদীসকে দলিল হিসেবে  উল্যেখ করে থাকে৷ 

⚫১৷ সুরা আলে ইমরানের ১০৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,

  ”اذكروا ﻧﻌﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻜﻢ“ 

" অর্থাৎ তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর;

⚫২৷ আল্লাহ পাক সুরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতে এরশাদ করেন,
”ﻗﻝ ﺑﻔﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺑﺮﺣﻤﺘﻪ ﻓﺒﺬﺍﻟﻚ
ﻓﻠﻴﻔﺮﺣﻮﺍ ﻫﻮ ﺧﻴﺮﻣﻤﺎ ﻳﺠﻤﻌﻮﻥ“

অর্থাৎ(হে নবী)  আপনি বলে দিন‘এ হল তাঁরই অনুগ্রহ ও করুণায়; সুতরাং এ নিয়েই তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত এটা তারা যা (পার্থিব সম্পদ) সঞ্চয় করছে তা হতে অধিক উত্তম।

”ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰ ﻗَﺘَﺪَﺓَ ﺍﻻَﻧْﺼﺎَﺭِﻯ ﺭَﺿِﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨﻪُ ﺍَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ سئل ﻋَﻦْ ﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡ ﺍﻻِﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻗَاﻞَ
ﺫَﺍﻙَ ﻳَﻮْﻡٌ ﻭُﻟِﺪْﺕُ ﻓِﻴْﻪِ ﺑُﻌِﺜْﺖُ ﺍَﻭْﺍُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻓِﻴْﻪ“ِ -

অর্থাৎ হজরত আবু কাতাদা ( রা ) থেকে বর্নিত, নবীজি সাঃ কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন , এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে , এই দিনে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এই দিনেই আমার উপর নাজিল হয়েছে ৷ 
হাদিস শরীফে আরো এরশাদ
হয়েছে "

”ﻋَﻦْ ﺍِﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﺍَﻧَّﻪٗﻛَﺎﻥَ ﻳُﺤَﺪِّﺙُ ﺫَﺍﺕَ
ﻳَﻮْﻡٍ ﻓِﻰْ ﺑَﻴْﺘِﻪٖ ﻭَﻗَﺎﺋِﻊَﻭِﻻﺩَﺗٖﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻟِﻘَﻮْﻡٍ ،
ﻓَﻴَﺴْﺘَﺒْﺸِﺮُﻭْﻥَ ﻭَﻳُﺤَﻤِّﺪُﻭْﻥَ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﻳُﺼَﻠُّﻮْﻥَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﺎِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀَﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺣَﻠَّﺖْﻟَﻜُﻢْ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻰْ“

অর্থাৎ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( রা ) নিজেই বর্ণনা করেন , একদা তিনি উনার গৃহে সাহাবাদের নিয়ে  হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের ইতিহাস আলোচনা করতেছিলেন৷ সাহাবাগন শুনে আনন্দিত হয়ে আল্লাহর প্রশংসা করছেন, নবীজির উপর দরুদ পাঠ করছেন৷ অতপর যখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন,  বললেন , তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত হালাল হয়ে গেছে ৷ 

এধরনের আয়াত ও হাদীস থেকে তারা ঈদে মিলাদুন্নবী প্রমান করতে চায়৷ অথচ ইহা স্পষ্ট ভ্রষ্টতা বৈকিছু নয়৷ কারন সাহাবা তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী থেকে নিয় প্রায় সাত শত বৎসর পর্যন্ত এসব আয়াত, হাদীস থেকে কেউ মিলাদুন্নবী বুঝেন নি৷ আজকাল তথাকথি নামধারী সুন্নিরা মিলাদুন্নবী প্রমান করতে চায়৷ ইহা কত বড় মুর্খতা হতে পারে আন্দাজ করুন৷ 

ছয়শতকের পুর্বের কোন মুফাচ্ছীর, পরে কোন হক্কানী মুফাচ্ছীর এসব আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কিতাবে  ঈদে মিলাদুন্নবীর কথা বলেছেন,  এমন প্রমান সারা জীবন চেষ্টা করলেও কোন ব্যক্তি দেখাতে পারবে না৷ 

এক নং আয়াতে মানব জাতির প্রতি আল্লাহ প্রদত্ব সার্বিক নিয়ামতকে স্বরন করার কথা বলা হয়েছে৷ এখানে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা, মিসিল করা  কিভাবে প্রমান হয়! 

দ্বিতীয় আয়াতে সকল মুফচ্ছীরগন ফযল ও নিয়ামতের ব্যাখ্যা করেছেন কোরআন দিয়ে, কেউ কেউ নবীজির কথাও উল্যেখ করেছেন৷ নবীজি সাঃ এর আগমন এবং স্বয়ং নবীজি সাঃ উম্মতের জন্য নিয়ামত ৷ তাই তার শুকরিয়া ও তার জীবন চরিত আলোচনা করে অনুসর করা জরুরী৷ এবং তা অবশ্যই নবীজি যেভাবে বলেছেন সাহাবাগন যেভাবে করেছেন সেভাবে হতে হবে৷ মনগড়া বানানো পদ্ধতি অবলম্ভন করলে নবীজির ভালবাসা তো দূরের কথা নবীজির চরম শত্রুতে পরিনত হবে৷ 

প্রথম হাদীসে সোমবারে রোজা পালনের কথা উল্যেখ আছে, কারন নবীজি সাঃ সোমবারে জন্মগ্রহন করেছেন৷ এতে ঈদ উজ্জাপন করার কথা কোথায় রয়েছে? বরং রোজা তো সরাসরি ঈদের বিপরিত৷ তাই দুই ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ৷ তোমরা কেমন নবীর আশেক হলে নবীজি যেদিন রোজা রেখেছে সেদিন তোমরা ঈদ উজ্জাপন করো! যা সম্পুর্ন রোজার বিপরিত৷ 

দ্বিতীয় হাদীসে নবীজির জন্মের ঘটনাবলি আলেচনার কথা উল্যেখ করা হয়েছে৷ আমরা তো এ আলেচনা করা অত্যান্ত ফযিলতের বিষয় মনে করি৷ এবং আলোচনা করি৷ কিন্তু এ হীদীস থেকে তো ঈদ প্রমানিত হয় না৷ মিসিল, জোশনে জুলিস প্রমানিত হয় না৷ সাহাবা তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীগন যেভাবে নবীজি সাঃ এর জন্ম বিত্যান্ত আলোচনা করেছেন, যেভাবে আমল করেছেন, তা করা অত্যান্ত ফযীলতপুর্ন ৷ তা বাদ দিয়ে মনগড়া পদ্ধতি অবলম্বন করা সরাসরি ইসলামে বর্ধিত করা৷ যা বিদআত,  নাজায়েয ও হারাম৷ 

অতএব বর্তমান দেশজোরে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী যা সম্পুর্ন শরীয়ত পরিপন্থী, ইসলামে নতুন আবিস্কৃত আমল৷ যা সম্পুর্ন হারাম৷ প্রত্যেকের জন্য পরিহার করা অপরিহার্য৷ 

তাই প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে উক্ত ইমাম সাহেবের বক্তব্য ভ্রান্তিপূর্ণ। বিশেষ করে ঈদে মীলাদুন্নবীর অস্বীকারকারীদের কাফের বলা চরম ধৃষ্টতা ও কুরুচিপূর্ণ। এজন্য তার তাওবা করা আবশ্যক।

 রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি কাউকে কাফের বললে দুইজনের একজন কাফের হবে। হয়তো যাকে কাফের বলেছে সে প্রকৃতপক্ষ্যে কাফের হবে। নতুবা কাফের সম্বোধনকারিই কাফের হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম) 

আরো দলিলঃ 

ﻛﻤﺎ ﺃﺧﺮﺝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻰ ﺻﺤﻴﺤﻪ : ‏( 2/ 959 ‏)
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ‏( ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﻓﻲ ﺃﻣﺮﻧﺎ ﻫﺬﺍ ﻣﺎ ﻟﻴﺲ ﻓﻴﻪ ﻓﻬﻮ
ﺭﺩ ‏) .
ﻭﻓﻰ ﻋﻤﺪﺓ ﺍﻟﻘﺎﺭﻱ ﺷﺮﺡ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ : ‏( 8/ 396 ‏)
ﻭﺍﻟﺒﺪﻋﺔ ﻟﻐﺔ ﻛﻞ ﺷﻲﺀ ﻋﻤﻞ ﻋﻠﻲ ﻏﻴﺮ ﻣﺜﺎﻝ ﺳﺎﺑﻖ ﻭﺷﺮﻋﺎ
ﺇﺣﺪﺍﺙ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺃﺻﻞ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ .
ﻭﻓﻰ ﻣﺮﻋﺎﺓ ﺍﻟﻤﻔﺎﺗﻴﺢ ﺷﺮﺡ ﻣﺸﻜﺎﺓ ﺍﻟﻤﺼﺎﺑﻴﺢ : ‏( 1/ 395 ‏)
ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ، ﻭﻫﻲ ﻟﻐﺔ : ﻣﺄﺧﻮﺫﺓ ﻣﻦ ﺍﻻﺑﺘﺪﺍﻉ، ﻭﻫﻮ ﺍﻻﺧﺘﺮﺍﻉ ﻋﻠﻰ
ﻏﻴﺮ ﻣﺜﺎﻝ ﺳﺎﺑﻖ، ﻭﺷﺮﻋﺎً : ﺍﻟﻤﺤﺪﺙ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻳﻦ، ﺃﻱ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ
ﻋﻠﻴﻪ ﺃﻣﺮﻩ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻭﻻ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ، ﺃﻱ ﻟﻴﺲ
ﻋﻠﻴﻪ ﺃﺛﺎﺭﺓ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻻ ﻣﻦ ﺳﻨﺔ ﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﻻ ﻓﻌﻠﻪ ﺃﻭ
ﺃﻣﺮ ﺑﻪ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﻳﻌﺘﻘﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻳﻦ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻌﺮﻑ ﺍﻟﺸﺬﻱ ﻟﻠﻜﺸﻤﻴﺮﻱ : ‏( 2/ 82 ‏)
ﺍﻟﻤﻮﻟﻮﺩ ﺍﻟﺬﻱ ﺷﺎﻉ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﻭﺃﺣﺪﺛﻪ ﺻﻮﻓﻲ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ
ﺳﻠﻄﺎﻥ ﺇﺭﺑﻞ ﺳﻨﺔ ‏( 600 ‏) ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺃﺻﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ
ﺍﻟﻐﺮﺍﺀ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ : ‏( ﺹ : 21 ‏)
ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻋﻠﻲ ﻣﺤﻔﻮﻅ : ” ﻭﺃﻭﻝ ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻮﻱ
ﺑﻤﺪﻳﻨﺔ ﺇﺭﺑﻞ ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺍﻟﻤﻈﻔﺮ ﺃﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﻓﻲ ﺍﻟﻘﺮﻥ ﺍﻟﺴﺎﺑﻊ ، ﻭﻗﺪ
ﺍﺳﺘﻤﺮ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺑﺎﻟﻤﻮﺍﻟﺪ ﺇﻟﻰ ﻳﻮﻣﻨﺎ ﻫﺬﺍ ، ﻭﺗﻮﺳﻊ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻓﻴﻬﺎ
ﻭﺍﺑﺘﺪﻋﻮﺍ ﺑﻜﻞ ﻣﺎ ﺗﻬﻮﺍﻩ ﺃﻧﻔﺴﻬﻢ ﻭﺗﻮﺣﻴﻪ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﺷﻴﺎﻃﻴﻦ
ﺍﻹﻧﺲ ﻭﺍﻟﺠﻦ ، ﻭﻻ ﻧﺰﺍﻉ ﻓﻲ ﺃﻧﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ .
ﻭﻓﻰ ﺷﺬﺭﺍﺕ ﺍﻟﺬﻫﺐ – ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻌﻤﺎﺩ : ‏( 5/ 138 ‏)
ﻭﺃﻣﺎ ﺍﺣﺘﻔﺎﻟﻪ ﺑﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻮﺻﻒ ﻳﻘﺼﺮ ﻋﻦ ﺍﻹﺣﺎﻃﺔ ﻛﺎﻥ
ﻳﻌﻤﻠﻪ ﺳﻨﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻣﻦ ﻣﻦ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ ﻭﺳﻨﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ
ﻋﺸﺮ ﻷﺟﻞ ﺍﻻﺧﺘﻼﻑ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻴﻪ ﻓﺈﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺑﻴﻮﻣﻴﻦ
ﺃﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﺍﻹﺑﻞ ﻭﺍﻟﺒﻘﺮ ﻭﺍﻟﻐﻨﻢ ﺷﻴﺌﺎ ﻛﺜﻴﺮﺍ ﻳﺰﻳﺪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻮﺻﻒ
ﻭﺯﻓﻬﺎ ﺑﺠﻤﻴﻊ ﻣﺎ ﻋﻨﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﺒﻮﻝ ﻭﺍﻟﻤﻐﺎﻧﻲ ﻭﺍﻟﻤﻼﻫﻲ ﺣﺘﻰ
ﻳﺄﺗﻲ ﺑﻬﺎ ﺍﻟﻤﻴﺪﺍﻥ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻤﺪﺧﻞ ﻹﺑﻦ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﺤﺎﺝ : ‏( 2/3 ‏)
ﻭﻣﻦ ﺟﻤﻠﺔ ﻣﺎ ﺍﺣﺪﺛﻮﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ ﻣﻊ ﺍﻋﺘﻘﺎﺩﻫﻢ ﺃﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ
ﺍﻛﺒﺮ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺍﺕ ﻭﺍﻇﻬﺎﺭ ﺍﻟﺸﻌﺎﺋﺮ ﻣﺎ ﻳﻔﻌﻠﻮﻧﻪ ﻓﻰ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ
ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻭﻗﺪ ﺍﺣﺘﻮﻯ ﻋﻠﻰ ﺑﺪﻉ ﻭﻣﺤﺮﻣﺎﺕ ﺟﻤﻠﺔ .
ﻭﻓﻰ ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﻷﺯﻫﺮ : ‏( 6/ 237 ‏)
ﻷﻥ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﻤﻮﺍﻟﺪ ﺑﺎﻟﺼﻔﺔ ﺍﻟﺘﻰ ﻳﻌﻤﻠﻬﺎ ﺍﻵﻥ ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻪ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ
ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻭﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺏ ﻟﻔﻌﻠﻮﻩ .
ﻭﻳﺮﺍﺟﻊ ﺃﻳﻀﺎ :
ﻓﺘﺎﻭﻯ ﻣﺤﻤﻮﺩﻳﻪ : 5/377 , ﺍﺷﺮﻑ ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ : 1/426

আল্লাহ'তাআলা আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন। #আমিন।
Share:

নবম রাত

 : সুহাইল কামরায় প্রবেশ করা মাত্রই প্রশ্ন! আজ কি হলো? এত দেরীতে বাসায় ফিরলেন যে! সুহাইল: বাস থাকুক ৷ দুনিয়াতে শুধু একা আপনিই পাগল নন, আরো পাগল আছে ৷ সুহাইল : ওই সেকান্দরের অবস্থা দেখেছেন কি? দুলহান : কোন সেকান্দর? সুহাইল : আরে আপনার ভাই আর কিং ঐ মূর্থত ইমামে আযম আবু হানীফা রহ, এর উপর অভিযোগ করে ৷ যদি আপনার সাথে সম্পর্ক না হতো তবে আজকে আমি তার দাত ভেঙ্গে দিতাম ৷ দুলহান : এত রাগ সুহাইল : রাগ তো আসারই কথা ৷ যখন সেই অভিযোগ এমন লোক হতে হয় যে আরবী ভাষার আলিফ, বাও জানে না৷ ইস্তিঞ্জা জানে না; আকৃতি ইয়াহুদীদের মত ৷ পোষাক খৃষ্টানদের মত ৷ মুসাফাহা করে এমনি, যেমনি আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন পাকিস্তানের সদর রফীক তারাড় এর সাথে করেছিল ৷ নামও লিখতে জানে না! দুলহান : আশ্চর্য হয়ে---- আমার ভাই কি নামও লিখতে জানে না! সুহাইল : হা! আমি বলেছিলাম yee 6 pals লিখতে ৷ আপনার ভাই ye 6 ques লিখেছে ; মাহরাম ও মুহরিমের পার্থক্য জানে না সারা দিন নাপাক বাহিনীর লম্পট ছেলেদের সাথে ঘুরে বেড়ায় ৷ ফরহাত হাশেষীর প্রশংসা করে এমনি ভাবে মনে হয় যেন তার মা লাগে ৷ অথচ সেও আপনাদের ন্যায় মূর্থ বরং গণ্ড মূর্থ | কুরআন শরীফের আদব কি কি? তাও জানে না ৷ দুলহান : হয়েছে কি ৷ (এবং একটু আদর করে তার হাত ধরল |) সুহাইল : ছাড়ুন আমাকে ৷ আমার মেহনতের বদৌলতে আপনার হেদায়াত মিলেছে এটাই যথেষ্ট | আপনার পুরো গোষ্ঠী জাহান্নামে যাক তাদেরকে বলে দিবেন, আমার সাথে যেন বহছ না করে ৷ আর যদি বহছ করতেই হয় তবে যেন আগে ইলম শিখে নেয় ৷ দেড় হাজার কিতাবের মধ্যে হাদীসের ইলম ছড়ানো ছিটানো আছে ৷ আগে যেন এগুলো দেখে ৷ 
শুধু বুখারীর নাম নিলে কাম হবে না! কারণ বুখারী মোতাবেক আপনারা নিজেরাই আমল করেন না ! দুলহান : সেকান্দর কী বলেছে, আপনি যে একেবারে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে যাচ্ছেন! সুহাইল : শুনুন তার প্রলাপ! সে বলে ইমাম আব হানীফা রহ, নাকি আরবী জানতেন না৷ তার হাদীসের ইলম কম ছিল ৷ হালালকে হারাম আবার হারামকে হালাল সাব্যস্ত করতেন! তার ফিকহে নাপাক ও গান্দা মাসআলা লিখিত ৷: তার সাথে তো তার শাগরেদগণও মতবিরোধ করেছেন ৷ ফিকহের কিভাব হেদায়া ও কুদূরীর কোন সনদ নেই ৷ আবু হানীফা রহ, বিবির হক আদায় করেনি ৷ আবু হানীফা রহ, হীলা করত | শয়তান দ্বারাও এমন বাজে কথা ও প্রলাপ হয়নি | সুহাইল : রাগে, ডাকুন তাকে ! দুলহান: জ্রী, সারতাজ! ডাকছি ৷ এখনই এসে যাবে৷ এই তো এসে গেছে ৷ সুহাইল : আপনি কি কখনো নিজেদের ফিক্হ নিয়েও ভেবেছেন? চিন্তা করেছেন কি তার মাসআলাগুলো কেমন ও কোথেকে এসেছে? দুররে মুখতার এর মোকাবেলায় pen আবরার মিন ফিকহে নাবীইয়িল মুখতার" লেখা হয়েছে৷ উদ্দেশ্য লোকদেরকে ধোকা দেয়া যে ওটা হলো উন্মতীর ফিকহ আর এটা হলো নবীর ফিকহ ৷ উম্মতীর ফিকহে ভুলের সম্ভাবনা আছে আর নবীর ফিকহে কোন ভুল হতে পারে না ৷ বলুন তো! আল্পামা ওয়াহীদুধ্যামান কি নবী? (এই ধোকাবায! সুহাইল গোস্বায়---- !) সেকান্দর : না, জনাব! সুহাইল : তাহলে এটাকে নবীর ফিকহ বলার হেতু কি? সেকান্দর : আমি কি জানি? আমি তো তখন ছিলাম না ! সুহাইল : বাহ! তুমি তো তখনও ছিলে না যখন তোমার পিতা-মাতার জন্ম হয়; কিন্তু তুমি তারপরও তাদেরকে পিতা-মাতা বলে স্বীকার কর! সেকান্দর : লোকেরা বলে যে, এরা হল তোমাদের মা-বাপ! সুহাইল : লোকেরাই বলে যে, ওয়াহীদুষযামান এই কিতাব লিখে নৰীর দিকে সম্বন্ধ করে দিয়েছে ৷ 
সেকান্দর ; জনাব! এর মানে হলো, কিভাৰ জো y হীদুষযামান লিখেছেন: কিন্তু তার ভিতরের মাসআলাগুল হলো : টম সান্পয়াহ আলাইহি ওয়াসাল্সামের : সুহাইল : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন ইলাইহি রাজেউন খবর আছে হীদুষযামান কি লিখেছে? ১. শরাব (মদ) নাপাক নয় ; 
o. Frese an free sige প্রবেশ করালে উ ভেঙ্গে যায় ৪. সামনের রাস্তা দিয়ে কাঠের টুকরা থরবেশ করালে যদি শুকনাই বের হয়ে আসে তাহলে উষু ভাঙ্গবে না ৫. যদি লোহা বা কাঠের টুকরা ভিতরে চলে যায় তাহলে উষু ভেঙ্গে যাবে৷ ৬. মহিলাদের লজ্জাস্থানের বহিরাংশ (2 ৯৫. ১) মানুষের মুখের মত৷ ৭. গোসল ফরয | তবে পর্দার স্থান না থাকলে পুরুষরা পুরুষদের সামনে আর মেয়েরা মেয়েদের সামনে উলঙ্গ হয়েই গোসল করবে: ৮. গায়রে যুকাল্পাফ (নাবালেগ-পাগল) বালেগ বা আকেল এর সাথে সহবাস করলে বা করালে তার উপর গোসল ওয়াজিব নয় ৷ ৯. জানোয়ারের বজ্জাস্থানে সঙ্গম করলে গোসল করা ওয়াজিব নয় ৷ ১০, মানুষের পিছনের রাস্তার সঙ্গম করলে গোসল ফরয হয় না ! ১১. মৃত মহিলার সাথে সঙ্গম করলে কারো উপর গোসল ফর হয় না! ১২, কেউ তার লিঙ্গ নিজ পাছায় প্রবেশ করালো তো তার উপর গোসল ফরয হয় না৷ (কি করে সম্ভব! আপনার ভাই-ই বলতে পারেন! ) ১৩, জটিল হিজড়া কারো সাথে সহবাস করলে কারো উপর গোসল ফরয হয় না৷ so. কুরআন শরীফের গিলাফ মাথার নিচে বা পিঠের পেছনে রাখা মাকরুহ নয় ১৫, ফাল্সাফা, মান্তেক ও ইলমে কালামের কিতাব দ্বারা ইডি করা জায়েয ১৬, মানুষ, শূকরসহ প্রত্যেক ন্ভুর চামড়া রং করলে পাক-পবিত্র হয়ে যায় 
নোয়ান এবং শকবের পশম হাহ, বগ, ' 
১৮. কুকুর ও তার গাগা পাক sp. রুনা ও শুকরের উচ্ছিষ্ট পানি ও দুধ ইত্যাদি পাক ৷ ২০ কুকুরের পেশান পায়খানা পাক ৷ ২১, বীর্ষ পাক, শুকনা হোক কিংবা ভিজ৷ ৷ ao. Sloot wate oom কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ দেয়া মাকরুহ নয় ৷ ২৩, মহিলাদের লজ্জাস্থানের আদ্রতা পাক ৷ ২৪, ইমাম নামায পড়িয়ে বলল, আমি উযূহীন ছিলাম ৷ অথবা আমার ফরয গৌসল করা হয়নি | বা আমি কাফের ৷ এমতাবস্থায় মুসল্লীদের নামায হয়ে যাবে৷ ২৫, যদি এক সালামে এক হাজার রাকাআতও পড়ে তথাপি ইহা জায়েয ৷ ২৬, বিবাহর সময় বাজনা বাজানো ওয়াজিব ৷ সুহাইল এক শ্বাসে বলতে থাকে ৷ আর সেকান্দর ও তার বোন তার দিকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে থাকে ৷ এগুলো নবীর ফিক্হ ৷ বলুন! এগুলো কি নবীর ফিক্হ? প্রত্যেক মাসআলার উপর একটি একটি করে সহীহ হাদীস পেশ কর ৷ অন্যথায় মন হতে ফত্ওয়া নিয়ে সত্য সত্য বল, এটা কি মাযহাব না ও আবর্জনার স্তূপ! সেকান্দর : ভাইজান! আমি আগামীকাল এই সব মাসআলার হাদীস পেশ করব ৷ তখন মানবেন তো যে আহলে হাদীসদের মাসলাক হক ও সত্য? সুহাইল : মেনে নিব, মেনে নিব ৷ তবে আজ দলীল দিচ্ছ না কেনঃ নিজের আলেমদের কাছে জিজ্ঞেস করে তাদের অন্ধ তাকলীদ করবেঃ? এটাও তো তোমাদের কাছে শিরক ৷ আচ্ছা যাও তোমাকে একদিন নয়, এক কোটি দিন সময় দিলাম ৷ তুমি এই মাসআলাগুলোর স্পষ্ট ও সহীহ হাদীস পেশ কর ৷ আর না পারলে মৃত্যুর আগে আগে তওবা করে নিও ৷ বুযুর্গদের প্রতি অনাস্থা ও নন্দ বলার দ্বারা ঈমান বিনষ্ট হয়ে যায় ৷ (এটা বলতে বলতে সুহাইল উঠে নিজ কামরায় চলে যায় |) দুলহান ভাইকে : তুমি কি হাদীস নিয়ে আসবে? 


সেকান্দর : কেন আনব নাই ভাইকে : দেখ! বে-ইজ্জতী যেন না হতে দুলহান ভাইকে : ফে তে হয় ৷ কেননা ; ছে আমাদের সব প্রশ্নের উত্তর আছে ৷ আর আমাদের কাছে তাঁর হে র হ xa com Bua নেই ৷ 
দশম রাত ; সেকান্দর বেল বাজালে দুলহান খুলে দিল ৷ সেকান্দর : ভাই তাশরীফ এনেছেন কি? দুলহান ভাইকে : সুহাইল এখনো বাসায় ফিরেনি ৷ সেকান্দর : কেন? দুলহান ভাইকে : জানা নেই ৷ তবে তুমি বল! হাদীস এনেছ কি? Chom : আমাদের উলামারা বলে, এইসব মাসআলার হাদীস নেই৷ দুলহান ভাইকে: তারপর ৷ সেকান্দর : তারপর আর কি! Tih ভাইকে : এতটুকু তুমি জানতে পেরেছ যে, আমরা হলাম দলীলহীন ৷ আমাদের এই দাবী যে আমরা সব কাজ হাদীস মোতাবেক করি ৷ মিথ্যা প্রমাণিত হলো ৷ হক কথা মেনে নেয়া উচিত | এখন কি তুমি নিজ মাসলাক বর্জন করবে? সেকান্দর : (পূর্ণ আস্থার সাথে) কেন বর্জন করব না? তবে এর পূর্বে এমন এক আক্রমণ করে বসো যে পুরাতন সব কথা ভুলে যাবে৷ দুলহান ভাইকে : তবে তুমি যেমন আক্রমণই করােনা কেন, তার দাঁত জঙ্গা জবাব পেয়ে যাবে৷ ইত্যবসৰে গাড়ীর হর্ণ বেজে উঠে | সুহাইল এসে গেছে | এটা বলেই দুলহান গেট খুলতে চলে গেল৷ সুহাইল গাড়ী থেকে নেমেই জিজ্ঞেস করল, ওই Fr me gm এসেছে কি? সেকান্দর : কেন আনৰ না? দুলহান ভাইকে : দেখ! বে-ইজ্জতী যেন না হতে হয় ৷ কেননা d ছে আমাদের সব প্রশ্নের উত্তর আছে ৷ আর আমাদের কাছে তার বে শ্লের কোন উত্তর নেই ৷ 

Share:

অষ্টম রাত

: সুহাইল : আপনার আব্বু, ভাই সবাই গাড়ীতে করে যাচ্ছিল, আপনিও কি আজ তাদের সাথে ছিলেন? দুলহান : হা! একজন শহীদের গায়েবানা জানাযায় শরীক হওয়ার জন্য যাওয়া হয়েছিল ৷ সুহাইল : শহীদের মরদেহ কি ঈদগাহে ছিল? দুলহান : না ৷ সুহাইল : তাহলে এদিকে ঘরেই পড়ে নিতেন ৷ দুলহান : আপনাকে যে কি উত্তর দিব ৷ আপনি তো মিনিটেই নিরুত্তর করে দেন! সুহাইল : এখানে নিরুত্তর করার কোন বিষয় নেই ৷ যখন গায়েবানা-ই পড়তে হবে তাহলে সফর করার এমন কি প্রয়োজন দেখা দিল? বীরে মাউনা এর যুদ্ধে সত্তর জন সাহাবা রা. শহীদ হয়েছিলেন ৷ নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কারও গায়েবানা জানাযা পড়ে ছিলেনঃ দুলহান : না! 
বিয়ের প্রথম দশ রাত সুহাইল : হয়র সান্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় মক্তা, ইয়ামান, বাহরাইনসহ কত জায়গায় কত মুসলমান মৃত্যুবরণ করেন; তিনি কি কারও গায়েবানা জানায়া শড়েছেন? দুলহান : না ৷ সুহাইল : হযরত খুবাইব রা, হযরত যায়েদ ইবনে দাছিনা রা, এবং tom রা, ও তাঁদের অন্যান্য সাথীদেরকে মক্কা ও মক্কার রাস্তায় শহীদ করে দেয়া হয় : নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসান্লাম কি কারও গায়েবানা জানাযা পড়েছেন? দুলহান : না৷ সুহাইল : হুদাইবিয়ার সন্ধি চলাকালীন দুই সাহাবী আবু জান্দাল রা, ও আৰু বাসীর রা, কে ফেরত দেয়া হয়েছিল ৷ তন্মধ্য হতে হযরত আবু বাসীর রা. সমুদ্র উপকূলে ইস্তেকাল করেন ৷ হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তার গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন? দুলহান : না yon c gore যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর প্রথম সেনাপতি হযরত যায়েদ বিন হারেছা রা, শাহাদত বরণ করেন ৷ দ্বিতীয় সেনাপতি হযরত জা'ফর ইবনে আৰু তালেব রা. শাহাদত বরণ করেন ৷ অনেক মুসলমানও শহীদ হন ৷ হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাদের গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন? দুলহান : (লজ্জায় আন্তে আন্তে বলে) না, না ৷ সুহাইল : হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. এর যামানায় রাম সম্রাটের সাথে যুদ্ধ হয় ৷ তাতে হযরত ইকরামা রা, ও অন্যান্য সাহাৰীগণ শাহাদত বরণ করেন | তখন কি প্রথম খলীফা ও অন্যরা গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন? কি ব্যাপার বেগম, কথা বলছেন না কেন? হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা, এর খেলাফতের আমলে বিভিন্ন শহরে অনেক মুসলমান ইন্তেকাল করেন ৷ কোন কোন যুদ্ধে অনেক অনেক মুসলিম শহীদ হন ৷ বিশেষ করে "মুসায়লামা কায্যাব" এর যুদ্ধে অনেক বীর পুরুষ শাহাদতের শুরা পান করেন ৷ তখনকার খলীফা কি তাদের গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন?  খলীফা হযরত আবু বকর রা. স্বয়ং ইন্তেকাল করেন ৷ মন্কাবাসী, ইয়ামানবাসী, বাহরাইনবাসী বা কোন শহরের মুসলিম আধিবাসীরা কি খলীফার গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন? দুলহান : মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন, না৷ সুহাইল : হুযূর সাল্পাল্লাহ আলাইহি ওয়াসান্লাম জীবদ্দশায় মাত্র "fer থেকে সাতাশটি যুদ্ধে শরীক হন৷ যেগুলোতে তিনি শরীক হননি সেগুলোতে শরীক হওয়া শহীদদের কি তিনি গায়েবানা জানাযা পড়েছেন? দুলহান : নরম স্বরে বললেন, না জনাব না ৷ ক্ষান্ত করুন ৷ মাসআলা বুঝে এসে গেছে৷ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ সুহাইল : এখানেই শেষ নয়, দিতীয় খলীফা হযরত উমর রা.. তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান রা.. চতুর্থ খলীফা হযরত আলী রা, এবং ওহী লিখক হযরত মুআবিয়া রা, এর খেলাফতকালে অনেক যুদ্ধ বিরহ হয়েছে ৷ এমন কি ইসলামী হকুমতের সীমান্ত স্থলভাগের এক কিনারা পর্যন্ত পৌছে গেছে৷ এই সব যুদ্ধে অগণিত মুসলমান শাহাদতের শূর পান করে ৷ তখনকার খলীফাগণ কি তাদের গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন? দুলহান : না৷ সুহাইল : তাহলে আপনার বাপ-ভাই কেন গেলেন? দুলহান : বাস সারতাজ! এটা তাদের মাসলাক ৷ তাদের কাজ তারাই জানে ৷ মাসলাকের তো কোন ভিত্তি থাকে ৷ এখানে তো কোন ভিত্তিই দেখছি না ৷ প্রত্যেক বিষয়ের ভিত্তি দেখছি মিথ্যার উপর ৷ (একটু চুপ থেকে বললেন,) সারতাজ! তারা বলে হুযূর সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাৰ্শার বাদশাহ নাজ্জালী এবং 'মু'আবিয়া ইবনে মু'আবিয়া মুযানী এর গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন ৷ আর ইমাম শাফেয়ী রহ, ও গায়েবানা জানাযার পক্ষে ৷ সুহাইল : (রাগে) বদবখ্ত আর মুনাফেকরা সাহাবাগণের দূর্নাম করার চেষ্টা চালাচ্ছে | আরে 'আকল-বুদ্ধি থাকলে একটু চিন্তা কর ৷ যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসান্লাম গায়েবানা জানাযার নির্দেশ দিতেন বা তিনি নিজে তা পড়তেন তাহলে কি সাহাবায়ে কেরাম রা. তা ছাড়তেন? দুলহান: কক্ষনো না কক্ষনো না; 
বিয়ের প্রথম দশ রাত সুহাইল : এটা হল ওই সকল আহমকদের ফয়সালা যাদের 'আমল ভাল বলতে কিছু নেই ৷ দ্বীনী ইলম হতে তাদের হাত একেবারেই খালি; আপনি ফায়সালা করুন৷ এরা সত্যবাদী না সাহাবায়ে কেরাম রা? যদি তাদেরকে সভ্য মানি তাহলে সাহাবাগণের প্রতি অপবাদ চলে আসে ৷ যা কিছুতেই হতে পারে না ৷ কিছুতেই হতে পারে না৷ কোন মুসলমান সাহাবায়ে কেরামগণের প্রতি অপবাদ দিলে এটা তার আকল-বুদ্ধি নষ্ট হওয়ার পরিচায়ক ৷ তারা তো সুন্নাতের অর্থই বোঝে না ৷ সাহাবাগণ রা, তো মেস্ওয়াকের am mum uses প্রস্তুত ছিলেন না৷ এত বড় আমল ছেড়ে দেয়া তো দূরের কথা! আদেরকে পাগল খানায় ঢুকানো দরকার ৷ ঘোড়ার গোশত খেয়ে, উটের পেশাব পান করে আর যনির কুলফি আইসক্রিম চুষে চষে আজ তাদের যুখ হতে সাহাবায়ে কেরাম নিরাপদ নন | এরা তো রাফেযী ও শিয়াদের-ই অন্য প্রকার মনে হয় (সুহাইল রাগে গজরাতে থাকে !) দুলহান : সারতজ! রাগের কথা নয় ৷ দলীলের বিষয় ইতি পূর্বে তো আপনি এমনটি করেননি ৷ বরং তৎক্ষণাত দলীল দিয়ে আমাকে চুপ করিয়ে দিতেন ৷ এখন মনে হচ্ছে আপনার কাছে এর কোন জবাব নেই ! সুহাইল : মুহতারাম! তাদের কাছে কোন মাসআলার-ই দলীল নেই৷ এই মাসআলার আবার দলীল আসবে কোথেকে? এই কাজ তো সাহাবাগণ সারা জীবন করেননি ৷ আর হুযূর সানপাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো জীবনে না কারও গায়েবানা জানাযা পড়িয়েছেন আর না কাউকে তার নির্দেশ দিয়েছেন৷ নাজ্জাশীর রেওয়ায়াত নকলকারী সাহাৰী তিন জন: ১. হযরত আবু হুরায়রা রা. | তাঁর ইন্তেকাল ৫৯ হিজরীতে ৷ কেমন যেন তিনি এই ঘটনার পঞ্চাশ বছর পর পর্যন্ত জীবিত থাকেন ৷ ২, হযরত জাবের রা. | তাঁর ইন্তেকাল ৭৯ হিজরীতে ; কেমন যেন তিনি এই ঘটনার পর ৭০ বছর জীবিত থাকেন! ৩. হযরত ইমরান বিন হুছাইন রা. | তার ইন্তেকাল ৫২ হিজরীতে ৷ সুতরাং তিনি এই ঘটনার পর ৩৭ বছর হায়াত পান৷ এখন তারা কোন সহীহ সনদে প্রমাণ করুক যে এই সব হযরাত তাদের জীবনে একবার হলেও কারো গায়েবানা জানাযা পড়েছেন!! ৫২ 
 আর নাজ্জাশীর এই জানাযা এটা গায়েবাশা জানাযা ছিল না ; বরং এখানে তার এক বিশেষ বৈশিষ্ট প্রকাশ হয়েছে ৷ আক্লামা ওয়াহিদী রহ, "আসবাবুনদুযূল" এ লিখেন: F fsa} ~ ~ aie desis $5 133 ১0৩১ অর্থাৎ ছুযূর সান্পাল্লাহ্ আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য যমীনের পর্দা সরিয়ে দেয়া হয় ৷ তিনি নাজ্জাশীর খাটিয়া দেখছিলেন তাই তিনি তার জানাযা পড়িয়েছেন ৷ সহীহ ইবনে হিব্বান এবং সহীহ আবু আওয়ানা-তে আছে সাহাৰাগণ রা, বলতেন : আমাদের সবাই এটাই বুঝে ছিল যে, জানাযা সামনে রাখা আছে ৷ এটা কি গায়েবানা ছিলঃ এটা কি গায়েবানা ছিলঃ (সুহাইল রাগে বার বার বলে যাচ্ছিল !) দুলহান : সারতাজ! তারা তো বলতো, আমাদের এই দলীল হিমালয়ের চেয়েও মজবুত ৷ পৃথিবীর কোন হানাফীর নিকট তার কোন জবাব নেই৷ কিন্তু আপনি তো একবারেই সুরমা বানিয়ে দিলেন কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো হযরত মুআবিয়া ইবনে মু'আবিয়া মুযানীর জানাযা পড়িয়েছিলেন ৷ তার ইন্তেকাল হয় মদীনাতে ৷ আর নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তবুক সফরে ছিলেন ৷ এটা কি স্পষ্ট দলীল নয়? সুহাইল : বেগম! আপনার 'আকল কাজ করছেনা কেনঃ যে সকল সাহাৰী রা, তবুকে নবী করীম সান্পাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই আমল দেখলেন তারা কি পরবর্তীতে এর উপর আমল করেছেন? দুলহান : না! সুহাইল : এটা কেন? এই ঘটনার রাবী হযরত আনাস রা, ৷ তার ইন্তে am so হিজরীতে ৷ আর এই ঘটনা হয় নবম হিজরীতে ৷ কেমন যেন তিনি এই ঘটনার পর ৮৪ বছর জীবিত থাকেন৷ তিনি এই ৮৪ বছরে কোন সাহাৰী বা গায়রে সাহাৰীর গায়েবানা জানাযা পড়াননি ৷ আর এটাও গায়েবানা ছিল না ৷ রেওয়ায়াতে স্পষ্ট আছে যে, হযরত জিব্রাইল আ, মাটির উপর স্বীয় ডানা মারলেন৷ তখন সমস্ত পাহাড়, পর্বত, টিলা ও গাছ-পালা মাটি বরাবর হয়ে যায় এবং মদীনা শরীফ দৃষ্টিগোচর 
হতে আরম্ভ করে ৷ ৯ - 3.৯ অর্থাৎ খাটিয়া সামনে দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল ৷ ওটা দেখেই জানাযা পড়ানো হয় ৷ এক বর্ণনায় আছে৷ যমীন ভাজ করে দেয়া হয় | এটাকে কি গায়েবানা বলে? এটাকে কি গায়েবানা বলে? ইহা কি গায়েবানা? এদিকে ইমাম শাফেয়ী রহ, শহীদের জানাযারই প্রবক্তা নন ৷ আনাযা সামনে থাকলেও পড়ার হকুম নেই৷ গায়ের হলে তো দূরের কথা৷ এটা তার উপর অপবাদ ৷ মিথ্যুকদের উপর আল্লাহর অভিশম্পাত ৷ দুলহান: বাসু জনাব! মাসআলার সমাধান হয়ে গিয়েছে ৷ সুহাইল : না৷ এটাও শোনে নিন, (অন্যথায় পরে আবার জিজ্ঞেস করবেন) তারা পড়ে কেনঃ তাদের কাজ হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত যা করে না তাদের তা করা চাই৷ উদাহরণ স্বরূপ: ১. আহলে সুন্নাহর নিকট মুরগীর কুরবানী জায়েয নেই ৷ গায়রে মুকাল্পিদদের নিকট জায়েয ৷ ২. আহলে সুর্লাহ্ ডিমের কুরবানী করে না, জায়েষও বলে না ৷ তারা বলে জায়েয ৷ ৩. আহলে সুন্নাহ ঘোড়ার গোশত খায় al, কুরবানীও করে না তারা করে৷ ৪. আহলে সুদনাহ মনিকে নাপাক ও হারাম বলে, তারা বলে পাক ও হালাল ৷ c. Sige উটের পেশাব পান করে না৷ তাদের নিকট জায়েয! কেননা বুখারী শরীফে আছে 1 ৬. আহলে সুন্নাহ নাভী থেকে নিয়ে ইঁটু পর্যন্ত সতর বলে ৷ তাদের নিকট শুধু ছিদ্র ঢাকলেই যথেষ্ট৷ ৭. আহলে সুন্নাহ এর নিকট পুরুষ ও মহিলার নামাযে পার্থক্য আছে৷ তাদের নিকট কোন পার্থক্য নেই ৷ (কাজেই পুরুষের ন্যায় মহিলারাও দাঁড়ানোর সময় দুই পা দুই দিকে ছড়িয়ে দাড়াবে |) ৮. আহলে সুন্নাহ তাকলীদকে জায়েয বলে৷ তারা বলে হারাম ৷ ৯. আহলে সুন্নাহ পিছনের রাস্তা দিয়ে সঙ্গমকে হারাম বলে ৷ তাদের নিকট এটা পসন্দীয় 'আমল ৷ কেননা বুখারী শরীফে আছে ৷ ১০. আহলে সুন্নাহ তিন তালাককে তিন তালাকই বলে ৷ তারা ইয়াহুদী ও শিয়াদের ন্যায় তিন তালাককে এক তালাক বলে ৷ এমনটি করে কেনঃ তার কোন জবাব নেই ৷ সামনে থেকে আম্যর ঘুম নষ্ট করবে না ৷ তারা হল মুর্ধ ; কুরআন তাদের জবাব দেয়ার নির্দেশ করে না৷ বরং কুরআনের প্রেসক্রিপশন {all Sel 16]; = অর্থাৎ মূর্থরা রাহমানের বান্দাদের সমােধন করলে তথা কটু কথা বললে তারা বলে "সালাম" তথা কোন উত্তর প্রদান করে না ৷ কোন জটিল বিষয়ের উত্তর তো আহলে ইলমদেরকে দেয়া যায় ৷ বিজ্ঞজন যদি অন্য বিজজনের সাথে বহছ ও পর্যালোচনা করে তাহলে তা ভাল লাগে ৷ কোন তেল বিক্রে wel, মুচি ও কর্মকার যদি এম. বি. বি. এস ডাক্তারের সাথে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে তর্ক করে তাকে লোকেরা আহমক বলে ৷ (এবং মনে করে যে তার মাথার তার ছিড়ে গিয়েছে |) তেমনিভাবে যদি মুজতাহিদের সাথে গায়রে cote বা মুকাল্পিদের সাথে গায়রে মুকাল্পিদ লড়াই ঝগড়া করে তো দুনিয়া তাকে 'আহমক' বলে ! দুলহান : আপনার ইলমের আর কি প্রশংসা করব! আপনার জ্ঞান- গরিমা আমাকে অভিভুত করেছে | আমি ভাবি আপনাদের হযরত উকাড়ভীর ইলম কি পরিমাণ হবে | যদি চৌদ্দশত শতাব্দীতে হযরত উকাড়ভীর ইলম এত মজবুত হয় তবে খাইরুল কুরূনে আমাদের ইমাম আবু হানীফা রহ, এর ইলমের কি কোন বর্ণনা দেয়া যেতে পারে? সুহাইল : আসলে তাদের তাকলীদ করাটা তাদের হক ও অধিকার ৷ তাছাড়া আমরা এমনিতেই হানাফী হইনি ৷ ইমাম সাহেব রহ, এর ইলম, দলীলের শক্তি, তাক্ওয়া-পরহেযগারী, বুঝ-বুদ্ধিতে পূর্ণতা, ইলমে কুরআন ও হাদীসের উপর দক্ষতা, নাসেখ-মানসূখের ইলম, সাহাবাদের রা. সাক্ষাত এবং তাদের কাছ থেকে রেওয়ায়াত এই সব দেখে আমরা হানাফী হয়েছি ৷ আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে কেউ ইনশাআল্লাহ কেয়ামত পর্যন্ত আমাদের দলীল খণ্ডন করতে পারবে না ! দুলহান : বাসূ! শেষ করুন ৷ অনেক হয়েছে ৷ আজ কোন পদ্ধতি পরীক্ষ করবেন, তার প্রস্তুতি নিন ৷ এই বলে আজকের মজলিস সমাপ্ত হল৷ 

Share:

সপ্তম রাত

 : সুহাইল কামরায় প্রবেশ করতে করতে বলল, বাহ! ইবনে কাইয়্যিম যদি আরও দু' চারটা তরীকা বলত তাহলে লোকেরা অনেক you দিত ৷ দুলহান : আচ্ছা! ওই দুআগুলোই এখন আপনার বন্ধু পাবেন৷ কেননা তিনিতো ষাট তরীকা বলেছেন৷ নামাযের আভিধানিক অর্থ তো বড় ভয়াবহ হল ৷ যাকাতের আভিধানিক অর্থও কি এমনিই? সুহাইল : ২, যাকাতের আভিধানিক অর্থ হল, পবিত্র করা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা৷ যাকাতকে মালের ময়লা বলা হয় ৷ তাইতো সাইয়্যেদদেরকে তা দেয়া যায় না৷ যাকাতের আঙিধানিক অর্থ নেয়া হলে কেউ ঘরে ঝাড়ু দিয়ে বলবে, আঁমি যাকাত দিয়ে দিয়েছি কেউ আবার দোকান বা ফ্যাক্টরী পরিস্কার করে বলবে আমি যাকাত দিয়ে দিয়েছি ৷ কোন কর গায়রে যুকাল্লিদ ধুয়ে বলবে 'আমি যাকাত দিয়ে দিয়েছি ' এতে ইসলামের সমস্ত নেযাম বাতিল হয়ে যাবে ৷ ৩. রোষা ৷ আরবীতে বলে সওম ৷ আভিধানিক অর্থে কিছু সময় (যথা ২০ মিনিট) পানাহার ও সহবাস হতে বিরত থাকা ৷ এ ভাবে প্রত্যেক ব্যক্তি রোযা না রেখেও নিজেকে রোযাদার প্রমাণিত করতে পারবে: ক্ষুধার্তও থাকতে হবে না ৷ ৪. হন্তু-এর আভিধানিক অর্থ 'ইচ্ছা করা' ৷ কোন গায়রে তার অফিসে যাওয়ার ইচ্ছা করে বলবে, "আমি হস্ত করে ফেলেছি ৷" কেউ রহীম ইয়ার খান থেকে খানপুর যাওয়ার ইচ্ছা করে বলবে আমি হজু করে নিয়েছি ৷ কোন মুহাম্মদ ন্যায় কণ্টর গায়রে মুকাল্লিদ মনী খাওয়ার ইচ্ছা করে বলবে আমি হজ করে নিয়েছি ৷ দুলহান : উচ্চ আল্লাহ ৷ আপনি মাসআলা বুঝিয়ে বলুন ৷ এরকম তিরস্কার ভৎসনা আমার কাছে ভালো লাগে না 
সুহাইল : আমি কোন খারাপ কথা বলিনি ৷ দুলহান : এক্ষণি আপনি মুহাম্মদ জোনাগটীর ব্যাপারে কি রকম এক নাপাক বাক্য উচ্চারণ করলেন ৷ যে জিনিসটিতে মানুষ হাত লাগাতে চায় না, দেখতে চায় না, সেটাকেই আবার খেতে বলা! ছি: ছি কি রকম ভুল কথা ৷ (দুলহান রাগে বলে যাচেছ |) সুহাইল : শোন বেগম! কারো মাসলাক বয়ান করা কি অন্যায়? আমরা কি বলি না ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা শূকর খায়? কোন কোন লোক অণুকোষ (ভেড়া, বকরির) খায় দুলহান : (শক্ত ভাষায়) এই সব ঠিক ৷ এতে হালাল ও হারামের বিষয়টি প্রত্যেকের স্ব স্ব মাযহাব ৷ কিন্তু এই জিনিসটি তো ইয়াহুদী খৃষ্টানদের নিকটও হালাল নয় ৷ তথাপি আপনি এমন কথা বললেন কেন? সুহাইল : আমি এটা বুঝাতে চাচ্ছি যে, গায়রে মুকাল্পিদদের ন্যায় নাপাক মাসলাক ইয়াহুদী-খৃষ্টানদেরও নেই ৷ মুহাম্মদ জোনাগটী লিখেন: "মনী পাক' ৷ তার এক বক্তব্য অনুযায়ী তা খাওয়াও জায়েয আছে৷ এরকম তিনি লিখেছেন ৷ এখন আমি তাকে পরামর্শ দিচ্ছি না যে তিনি তা কুলফি, আইসক্রিম, জেলি বা লবণ মরিচ মিশিয়ে খেয়ে নিক ৷ এই পরামর্শের অধিকার আমার নেই ৷ এটা হল তার মাসলাক ৷ তিনি তার মাসলাক অনুযায়ী যে ভাবে ইচ্ছা সে ভাবেই খেতে পারেন৷ দুলহান : আন্তাগফিরুল্লাহ! লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ৷ যদি তিনি এমনি পচা-গান্ধা কথা লিখে থাকেন তাহলে আমি তার কণ ' ও মাসলাকের উপর হাজার মর্তবা লা'নত করি ৷ এই লম্পটদেরে বাদ দিন ৷ এতটুকু বলুন যে, কুরআন-হাদীসের কোথাও কি তাকলীদ শব্দ এসেছে? সুহাইল : বাস বাসু বেগম! রাগের কথা নয় ৷ কুরং/ন-হাদীসের কোথাও যেমন তাওহীদের শব্দ আসেনি ৷ তারপরও আমরা তাওহীদ মানি দুলহান : লজ্জা পেয়ে বলল না, না৷ একেবারেই না ৷ তারপরও আমরা তাওহীদ কোথেকে প্রমাণ করি সুহাইল : শোন বেগম! কুরআনে ৬> ও শব্দ আছে৷ আর ye! ও ১০1, এর মূল ধাতু যা ১=>৮ এর মূল ধাতু তা-ই ৷ এতে বুঝা গেল ৪৬ 
 শব্দের মূল কুরআন দ্বারাই প্রমাণিত ৷ তেমনিভাবে কুরআনে ৬২১3 শব্দ এসেছে ৷ আর ২১ ব্দ হাদীসে কয়েক জায়গায় এসেছে৷ এর থেকেই ৬১৪ শব্দটি নির্গত হয়েছে! তাকলীদের দুই অর্থ: ১. পষ্টা যা কুকুর বা কোন জানােয়ারের গলায় পরানো হয় ৷ ২. হার যা মানুষের গলার সজ্জা হয়৷ প্রত্যেকে যেহেতু নিজ নিজ স্বভাব-তবীয়ত অনুযায়ীই অর্থ ও মতলব বুঝে থাকে ৷ তাই আমরা যেহেতু মানুষ সেহেতু মানুষের সাথে মিলে এমন অর্থই আমরা নিয়ে থাকি অপরদিকে তারা যেহেতু হাইওয়ান৷ এই জন্য তারা কুকুরের সাথে মিলে এমন অর্থ নেয় ৷ মেশকাত শরীফের হাদীস: অযোগ্য, বে-আমল ও আহমক লোকদেরকে ইলম ও জ্ঞানের কথা বলা এমনিই যেমন শূকরের গলায় স্বরণ. রূপা ও মণি-মুক্তার হার দেয়া ৷ এতে বুঝা গেল "তাকলীদ' কোন সাধারণ হার নয় ৷ বরং তা হলো স্বর্ণ, রূপা ও মণি-মুক্তার দাযী হার ৷ তাই এই দামী হার গায়রে মুকাল্লেদ অধমদের গলায় দেয়া যায় না ৷ হাদীসে হযরত আয়েশা রা.. আসমা রা, ও অন্যান্য সাহাৰীয়াদের হারকে ১১১৪ শব্দ দ্বরা উল্লেখ করা হয়েছে ৷ আপনি এগুলোর কি অর্থ করবেন? youn c কি সুন্দর কথা রে আপনার কথা তো সবর্ণাক্ষরে লেখার উপযুক্ত ! কথা ধতই জটিল হোক না কেন, আপনি তা একেবারেই সাধারণের বোধগম্য করে পরিষ্কার ভাবে বুঝিয়ে দেন৷ অন্যথায় আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে এই বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হয়নি ৷ sorts : বেগম! এতে আমার কোন কৃতিত্ব নেই ৷ এটা শুধুমাত্র মাও রহ ও তার শাগরেদের যুহাব্বতের ফল ৷ আপনি কেন, গায়রে মুকাল্পিদদের সকল উলামা মাশায়েথও এখানে নিরুত্তর হয়ে যায় ৷ ব্যসূ cont thl ain কোন নতুন মাসআলা আনবেন না ৷ রাত অনেক হয়ে গেছে ৷ ইবনে কাইয়্যিম রহ, এর চতুর্থ তরীকা আমার দেমাগে ঘুর-পাক খাচ্ছে ৷ ক্ষান্ত হোন পদ্ধতি পরীক্ষা করার দীর্ঘ সময় পড়ে আছে৷ আরও এক আধ মাস্আলার আলোচনা হয়ে যাক ৷ আরে ইয়ার! দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে আমার বন্ধুর ষাট তরীকাণড পড়ে আছে৷ 
দুলহান চোখ বড় বড় করে.... কি? এরকম কথা বলবেন না৷ আমি আগেও বলেছি৷ যদি কারও এমন ইচ্ছা থাকে তাহলে চার বিবাহ করে নিক ৷ দুলহান : বলুন তো! এ কথাটি কি সত্য যে, ইমাম আৰু হানীফা রহ, এর শুধু মাত্র সতেরটি হাদীস জানা ছিল? সুহাইল : বেগম! মুখ বন্ধ করুন | এটা এমন এক ডাহা মিথ্যা যে, যদি সমূদ্রের মধ্যেও নিক্ষেপ করা হয় তাহলে তার পানি তিক্ত হয়ে যাবে৷ মিথ্যা শোনলে রহমতের ফেরেশতাগণ চলে যান ৷ বেওকুফ! কখনো কি চিন্তা করেছ যে সারা দুনিয়ার ৫৫% লোক খাঁর তাকলীদ করে তিনি অল্প ইলমের অধিকারী বা সাধারণ আলেম হবেন? গায়রে মুকাল্লিদদের মাসলাকের ভিত্তি হলো মিথ্যার উপর৷ তারা মিথ্যা ছেড়ে দিলে তাদের মাসলাকের নাম নিশানাও থাকবে না৷ তাই তারা বাধ্য হয়েই মিথ্যার উপর মিথ্যা বলতে থাকে ৷ আপনার নিকট শুধুমাত্র একটি প্রশ্ন : রাষ্ট্রর চীফ জাষ্টিস কোন সাধারণ শিক্ষিতকে বানানো হয়, না অসাধারণ শিক্ষিত ও জ্ঞানী লোককে? দুলহান : যিনি সবচেয়ে বড় শিক্ষিত ও জ্ঞানী তাকে ৷ সুহাইল : হাইওয়ানে নাত্বেক এর মেয়ে শুনুন! সাহাবা যুগের পরে বনু উমাইয়ার সর্ব শেষ শাসক এবং খেলাফতে আব্বাসিয়ার সর্ব প্রথম শাসক তারা উভয়ে চেষ্টা করেছেন যেন ইমাম আবু হানীফা রহ, চীফ জাস্টিস এর পদ গ্রহণ করে নেন ৷ কিন্তু ইমাম সাহেব রহ, তা গ্রহণ করেন নি ৷ ফলে তিনি শান্তি বরদাশ্ত করেছেন৷ জেলে গিয়েছেন ৷ যদি ওই সময় অন্য কারও সতেরটি হাদীস মুখস্থ থাকত তাহলে তারা ইমাম সাহেবকে বাধ্য করত না ৷ দুলহান : আপনার কথা তো ঠিক ৷ তবে তারা এমন দাবী করে কেন? সুহাইল : দাবী নয় মিথ্যা বলে ৷ আসলে মুহাদ্দিসগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে যে, ইমাম হানীফা রহ, সাহাবায়ে কেরাম রা. থেকে সরাসরি কয়টি রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন ৷ এ ব্যাপারে তিন, পাঁচ, সাত ও বেশীর চেয়ে বেশী সতেরটির পর্যন্ত উক্তি রয়েছে ৷ তো মতবিরোধ হল সাহাবাগণ হতে কতটি রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন ৷ কিন্তু আপনার cert বংশধররা সব কথা  হজম করে মিথ্যা কথা ছড়িয়ে দিয়েছে যে, তাঁর শুধু মাত্র সতেরটি হার্দান ইয়াদ ছিল ৷ "আচ্ছা! কারও ব্যাপারে অন্য কারও ফয়সালা করার # অধিকার আছে! ইমাম আবু হানীফা রাহ, স্বীয় পুত্রকে পাঁচটি উপদেশ দান করেন ৷ অত:পর বলেন: "বেটা! আমার এই পাঁচটি কথা সর্বদা মনে রেখ ৷ কেননা তা হলো ওই পাচ,লক্ষ হাদীসের সারাংশ যা আমার ইয়াদ আছে ৷ দুলহান : বাহ, কি সুন্দর! আমি তো মনে করতাম এটা এমন একটা মাসআলা যা সমাধাযোগ্য নয় এবং কোন হানাফী তার জবাব দিতে পারবে না৷ কিন্তু আপনি তা এমন সহজ করে বুঝিয়ে দিলেন যেমন একে একে দুই 1 বা দুইয়ে দুইয়ে চার বুঝাটা সহজ ৷ সুতরাং সারতাজ! আপনার ইলমের কদর করছি ৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনি আমার সাথে যত তরীকা পরীক্ষা করবেন সব আমি সয়ে যাব ৷ 

Share:

Definition List

Unordered List

Support