: সুহাইল কামরায় প্রবেশ করতে করতে বলল, বাহ! ইবনে কাইয়্যিম যদি আরও দু' চারটা তরীকা বলত তাহলে লোকেরা অনেক you দিত ৷ দুলহান : আচ্ছা! ওই দুআগুলোই এখন আপনার বন্ধু পাবেন৷ কেননা তিনিতো ষাট তরীকা বলেছেন৷ নামাযের আভিধানিক অর্থ তো বড় ভয়াবহ হল ৷ যাকাতের আভিধানিক অর্থও কি এমনিই? সুহাইল : ২, যাকাতের আভিধানিক অর্থ হল, পবিত্র করা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা৷ যাকাতকে মালের ময়লা বলা হয় ৷ তাইতো সাইয়্যেদদেরকে তা দেয়া যায় না৷ যাকাতের আঙিধানিক অর্থ নেয়া হলে কেউ ঘরে ঝাড়ু দিয়ে বলবে, আঁমি যাকাত দিয়ে দিয়েছি কেউ আবার দোকান বা ফ্যাক্টরী পরিস্কার করে বলবে আমি যাকাত দিয়ে দিয়েছি ৷ কোন কর গায়রে যুকাল্লিদ ধুয়ে বলবে 'আমি যাকাত দিয়ে দিয়েছি ' এতে ইসলামের সমস্ত নেযাম বাতিল হয়ে যাবে ৷ ৩. রোষা ৷ আরবীতে বলে সওম ৷ আভিধানিক অর্থে কিছু সময় (যথা ২০ মিনিট) পানাহার ও সহবাস হতে বিরত থাকা ৷ এ ভাবে প্রত্যেক ব্যক্তি রোযা না রেখেও নিজেকে রোযাদার প্রমাণিত করতে পারবে: ক্ষুধার্তও থাকতে হবে না ৷ ৪. হন্তু-এর আভিধানিক অর্থ 'ইচ্ছা করা' ৷ কোন গায়রে তার অফিসে যাওয়ার ইচ্ছা করে বলবে, "আমি হস্ত করে ফেলেছি ৷" কেউ রহীম ইয়ার খান থেকে খানপুর যাওয়ার ইচ্ছা করে বলবে আমি হজু করে নিয়েছি ৷ কোন মুহাম্মদ ন্যায় কণ্টর গায়রে মুকাল্লিদ মনী খাওয়ার ইচ্ছা করে বলবে আমি হজ করে নিয়েছি ৷ দুলহান : উচ্চ আল্লাহ ৷ আপনি মাসআলা বুঝিয়ে বলুন ৷ এরকম তিরস্কার ভৎসনা আমার কাছে ভালো লাগে না
সুহাইল : আমি কোন খারাপ কথা বলিনি ৷ দুলহান : এক্ষণি আপনি মুহাম্মদ জোনাগটীর ব্যাপারে কি রকম এক নাপাক বাক্য উচ্চারণ করলেন ৷ যে জিনিসটিতে মানুষ হাত লাগাতে চায় না, দেখতে চায় না, সেটাকেই আবার খেতে বলা! ছি: ছি কি রকম ভুল কথা ৷ (দুলহান রাগে বলে যাচেছ |) সুহাইল : শোন বেগম! কারো মাসলাক বয়ান করা কি অন্যায়? আমরা কি বলি না ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা শূকর খায়? কোন কোন লোক অণুকোষ (ভেড়া, বকরির) খায় দুলহান : (শক্ত ভাষায়) এই সব ঠিক ৷ এতে হালাল ও হারামের বিষয়টি প্রত্যেকের স্ব স্ব মাযহাব ৷ কিন্তু এই জিনিসটি তো ইয়াহুদী খৃষ্টানদের নিকটও হালাল নয় ৷ তথাপি আপনি এমন কথা বললেন কেন? সুহাইল : আমি এটা বুঝাতে চাচ্ছি যে, গায়রে মুকাল্পিদদের ন্যায় নাপাক মাসলাক ইয়াহুদী-খৃষ্টানদেরও নেই ৷ মুহাম্মদ জোনাগটী লিখেন: "মনী পাক' ৷ তার এক বক্তব্য অনুযায়ী তা খাওয়াও জায়েয আছে৷ এরকম তিনি লিখেছেন ৷ এখন আমি তাকে পরামর্শ দিচ্ছি না যে তিনি তা কুলফি, আইসক্রিম, জেলি বা লবণ মরিচ মিশিয়ে খেয়ে নিক ৷ এই পরামর্শের অধিকার আমার নেই ৷ এটা হল তার মাসলাক ৷ তিনি তার মাসলাক অনুযায়ী যে ভাবে ইচ্ছা সে ভাবেই খেতে পারেন৷ দুলহান : আন্তাগফিরুল্লাহ! লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ৷ যদি তিনি এমনি পচা-গান্ধা কথা লিখে থাকেন তাহলে আমি তার কণ ' ও মাসলাকের উপর হাজার মর্তবা লা'নত করি ৷ এই লম্পটদেরে বাদ দিন ৷ এতটুকু বলুন যে, কুরআন-হাদীসের কোথাও কি তাকলীদ শব্দ এসেছে? সুহাইল : বাস বাসু বেগম! রাগের কথা নয় ৷ কুরং/ন-হাদীসের কোথাও যেমন তাওহীদের শব্দ আসেনি ৷ তারপরও আমরা তাওহীদ মানি দুলহান : লজ্জা পেয়ে বলল না, না৷ একেবারেই না ৷ তারপরও আমরা তাওহীদ কোথেকে প্রমাণ করি সুহাইল : শোন বেগম! কুরআনে ৬> ও শব্দ আছে৷ আর ye! ও ১০1, এর মূল ধাতু যা ১=>৮ এর মূল ধাতু তা-ই ৷ এতে বুঝা গেল ৪৬
শব্দের মূল কুরআন দ্বারাই প্রমাণিত ৷ তেমনিভাবে কুরআনে ৬২১3 শব্দ এসেছে ৷ আর ২১ ব্দ হাদীসে কয়েক জায়গায় এসেছে৷ এর থেকেই ৬১৪ শব্দটি নির্গত হয়েছে! তাকলীদের দুই অর্থ: ১. পষ্টা যা কুকুর বা কোন জানােয়ারের গলায় পরানো হয় ৷ ২. হার যা মানুষের গলার সজ্জা হয়৷ প্রত্যেকে যেহেতু নিজ নিজ স্বভাব-তবীয়ত অনুযায়ীই অর্থ ও মতলব বুঝে থাকে ৷ তাই আমরা যেহেতু মানুষ সেহেতু মানুষের সাথে মিলে এমন অর্থই আমরা নিয়ে থাকি অপরদিকে তারা যেহেতু হাইওয়ান৷ এই জন্য তারা কুকুরের সাথে মিলে এমন অর্থ নেয় ৷ মেশকাত শরীফের হাদীস: অযোগ্য, বে-আমল ও আহমক লোকদেরকে ইলম ও জ্ঞানের কথা বলা এমনিই যেমন শূকরের গলায় স্বরণ. রূপা ও মণি-মুক্তার হার দেয়া ৷ এতে বুঝা গেল "তাকলীদ' কোন সাধারণ হার নয় ৷ বরং তা হলো স্বর্ণ, রূপা ও মণি-মুক্তার দাযী হার ৷ তাই এই দামী হার গায়রে মুকাল্লেদ অধমদের গলায় দেয়া যায় না ৷ হাদীসে হযরত আয়েশা রা.. আসমা রা, ও অন্যান্য সাহাৰীয়াদের হারকে ১১১৪ শব্দ দ্বরা উল্লেখ করা হয়েছে ৷ আপনি এগুলোর কি অর্থ করবেন? youn c কি সুন্দর কথা রে আপনার কথা তো সবর্ণাক্ষরে লেখার উপযুক্ত ! কথা ধতই জটিল হোক না কেন, আপনি তা একেবারেই সাধারণের বোধগম্য করে পরিষ্কার ভাবে বুঝিয়ে দেন৷ অন্যথায় আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে এই বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হয়নি ৷ sorts : বেগম! এতে আমার কোন কৃতিত্ব নেই ৷ এটা শুধুমাত্র মাও রহ ও তার শাগরেদের যুহাব্বতের ফল ৷ আপনি কেন, গায়রে মুকাল্পিদদের সকল উলামা মাশায়েথও এখানে নিরুত্তর হয়ে যায় ৷ ব্যসূ cont thl ain কোন নতুন মাসআলা আনবেন না ৷ রাত অনেক হয়ে গেছে ৷ ইবনে কাইয়্যিম রহ, এর চতুর্থ তরীকা আমার দেমাগে ঘুর-পাক খাচ্ছে ৷ ক্ষান্ত হোন পদ্ধতি পরীক্ষা করার দীর্ঘ সময় পড়ে আছে৷ আরও এক আধ মাস্আলার আলোচনা হয়ে যাক ৷ আরে ইয়ার! দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে আমার বন্ধুর ষাট তরীকাণড পড়ে আছে৷
দুলহান চোখ বড় বড় করে.... কি? এরকম কথা বলবেন না৷ আমি আগেও বলেছি৷ যদি কারও এমন ইচ্ছা থাকে তাহলে চার বিবাহ করে নিক ৷ দুলহান : বলুন তো! এ কথাটি কি সত্য যে, ইমাম আৰু হানীফা রহ, এর শুধু মাত্র সতেরটি হাদীস জানা ছিল? সুহাইল : বেগম! মুখ বন্ধ করুন | এটা এমন এক ডাহা মিথ্যা যে, যদি সমূদ্রের মধ্যেও নিক্ষেপ করা হয় তাহলে তার পানি তিক্ত হয়ে যাবে৷ মিথ্যা শোনলে রহমতের ফেরেশতাগণ চলে যান ৷ বেওকুফ! কখনো কি চিন্তা করেছ যে সারা দুনিয়ার ৫৫% লোক খাঁর তাকলীদ করে তিনি অল্প ইলমের অধিকারী বা সাধারণ আলেম হবেন? গায়রে মুকাল্লিদদের মাসলাকের ভিত্তি হলো মিথ্যার উপর৷ তারা মিথ্যা ছেড়ে দিলে তাদের মাসলাকের নাম নিশানাও থাকবে না৷ তাই তারা বাধ্য হয়েই মিথ্যার উপর মিথ্যা বলতে থাকে ৷ আপনার নিকট শুধুমাত্র একটি প্রশ্ন : রাষ্ট্রর চীফ জাষ্টিস কোন সাধারণ শিক্ষিতকে বানানো হয়, না অসাধারণ শিক্ষিত ও জ্ঞানী লোককে? দুলহান : যিনি সবচেয়ে বড় শিক্ষিত ও জ্ঞানী তাকে ৷ সুহাইল : হাইওয়ানে নাত্বেক এর মেয়ে শুনুন! সাহাবা যুগের পরে বনু উমাইয়ার সর্ব শেষ শাসক এবং খেলাফতে আব্বাসিয়ার সর্ব প্রথম শাসক তারা উভয়ে চেষ্টা করেছেন যেন ইমাম আবু হানীফা রহ, চীফ জাস্টিস এর পদ গ্রহণ করে নেন ৷ কিন্তু ইমাম সাহেব রহ, তা গ্রহণ করেন নি ৷ ফলে তিনি শান্তি বরদাশ্ত করেছেন৷ জেলে গিয়েছেন ৷ যদি ওই সময় অন্য কারও সতেরটি হাদীস মুখস্থ থাকত তাহলে তারা ইমাম সাহেবকে বাধ্য করত না ৷ দুলহান : আপনার কথা তো ঠিক ৷ তবে তারা এমন দাবী করে কেন? সুহাইল : দাবী নয় মিথ্যা বলে ৷ আসলে মুহাদ্দিসগণের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে যে, ইমাম হানীফা রহ, সাহাবায়ে কেরাম রা. থেকে সরাসরি কয়টি রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন ৷ এ ব্যাপারে তিন, পাঁচ, সাত ও বেশীর চেয়ে বেশী সতেরটির পর্যন্ত উক্তি রয়েছে ৷ তো মতবিরোধ হল সাহাবাগণ হতে কতটি রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন ৷ কিন্তু আপনার cert বংশধররা সব কথা হজম করে মিথ্যা কথা ছড়িয়ে দিয়েছে যে, তাঁর শুধু মাত্র সতেরটি হার্দান ইয়াদ ছিল ৷ "আচ্ছা! কারও ব্যাপারে অন্য কারও ফয়সালা করার # অধিকার আছে! ইমাম আবু হানীফা রাহ, স্বীয় পুত্রকে পাঁচটি উপদেশ দান করেন ৷ অত:পর বলেন: "বেটা! আমার এই পাঁচটি কথা সর্বদা মনে রেখ ৷ কেননা তা হলো ওই পাচ,লক্ষ হাদীসের সারাংশ যা আমার ইয়াদ আছে ৷ দুলহান : বাহ, কি সুন্দর! আমি তো মনে করতাম এটা এমন একটা মাসআলা যা সমাধাযোগ্য নয় এবং কোন হানাফী তার জবাব দিতে পারবে না৷ কিন্তু আপনি তা এমন সহজ করে বুঝিয়ে দিলেন যেমন একে একে দুই 1 বা দুইয়ে দুইয়ে চার বুঝাটা সহজ ৷ সুতরাং সারতাজ! আপনার ইলমের কদর করছি ৷ এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনি আমার সাথে যত তরীকা পরীক্ষা করবেন সব আমি সয়ে যাব ৷






0 comments:
Post a Comment